স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণাকে অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন দলের নেতারা

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণাকে অগণগান্ত্রিক আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এ ধরনের ঘোষণা এক দলীয় শাসন ব্যবস্থাকে আনুষ্ঠানিক কায়েম করার প্রক্রিয়া বলে মনে করছে দলটি। এদিকে, ১৪ দলের শরীক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সরকারের এ ধরনের সিদ্ধান্তে। আর সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেন মনে করছেন, সরকার অসংবিধানিক ভাবে জনগনের মৌলিক অধিকারকে ক্ষুন্ন করছে।

সংবিধানে জনগনের মত প্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি সভা সমাবেশ করার অধিকার সমুন্নত রাখা হয়েছে। এতে ৩৭ ও ৩৯ অনুচ্ছেদে এ বিষয়ে সুষ্পষ্ট নির্দেশনা দেয়া আছে। সভা সমাবেশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই নিষেধাজ্ঞা বিস্মিত করেছে সবাইকে। এ ঘোষণা শুধু জনগনের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্নই করে না, গনতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থাকেও করে বাধাগ্রস্ত করেছে বলে মনে করছেন সংবিধান প্রনেতা ড. কামাল হোসেন। হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির পর গত ২ সপ্তাহ ধরেই রাজধানীতে সমাবেশ করার অনুমতি পাচ্ছেনা বিএনপি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণায় তাই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দলটি। অবিলম্বে এ ধরণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেন, “সভা সমিতি নিষিদ্ধ করে তারা, এর দৃষ্টান্ত আর নাই। এটা একটা সম্পূর্ণ বেআইনী, রাজনৈতিক দলগুলো যদি কোন মতামত প্রকাশ করার অধিকার না থাকে, এর অর্থ হলো দেশে এক দলীয় শাসন প্রতিষ্ঠিত। একেবারে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা এটা করলেন। তাদের উচিৎ হবে অবিলম্বে তাদের এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া। এ ধরণের আচারণের পরিনতি ভয়ানক হবে।এদিকে, সভা সমাবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে ১৪ দলের শরীক দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ ঘোষণায় আমি বিস্মিত এবং ক্ষুদ্ধ।

যারা দাংগা হাঙ্গামা করতে চাই, তাদের বিরূদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিক, আমরা বার বার সরকারকে বলেছি। সেটা না করে, মানে ম্যাথা ব্যাথার জন্য মাথা কেটে ফেলে দেবে, এটাতো হতে পারেনা। এই অনৈতিক সিদ্ধান্ত সরকারের ক্ষতি করবে এবং গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। বিরোধীদলের হাতে অস্ত্র তুলে দেবে। অবিলম্বে আমি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।” জনগনের মত প্রকাশের অধিকার রক্ষার স্বার্থে সভা সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা কোনভাবেই কাম্য নয় বলেই মনে করছেন রাজনীতিকরা।