বার্তাবাংলা ডেস্ক »

CSDFবার্তাবাংলা রিপোট :: ঘূর্ণিঝড় মহাসেন মোকাবেলায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, আর্ন্তজাতিক ও দেশীয় এনজিও, স্থানীয় জনগন এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত উদ্যোগের ফলে দুর্যোগে ক্ষয় ক্ষতি কমানো সম্ভব হয়েছে, দেশ একটি বিশাল প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পেয়েছে। তবে দুর্যোগ এর সতর্ক বার্তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার চেয়ে জনগনের প্রস্তুতি ও সতর্কতাকে বেশী গুরুত্ব দেয়া দরকার। আর্ন্তজাতিক গণমাধ্যমে এ “ঘুর্নীঝড মহাসেন” নিয়ে ব্যাপক প্রচারনা ও সতর্কতা ছিল, যা বাংলাদেশের সাধারন জনগনের জন্য শুভ সংবাদ। একই সাথে স্থানীয় প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় সকল স্টেকহোল্ডারের অংশগ্রহনে সুষ্ঠু ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহনে সক্ষম, তার একটি নজির স্থাপন করতে পেরেছেন। তবে যে কোন প্রাকৃতি দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠির সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, স্থানীয় জনগন, এনজিও, নাগরিক সমাজসহ সকল মহলের অংশগ্রহনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরী করা দরকার। দুর্যোগ মোকাবেলায় স্টান্ডিং অর্ডার অন ডিস্টার(এসওডি) তৈরী সহ প্রশাসনিক কাঠামো তৈরীতে বাংলাদেশ সফলতা অর্জন করলেও দুর্যোগ মোকাবেলা, মানবিক বিষয় ও অলাভজনক খাতে পৃথক ক্রয় নীতি মালা না থাকা, সরকারের বিভিন্ন কমিটিতে এনজিও প্রতিনিধি নির্বাচনে কমিটির সভাপতি কৃর্তক মনোনিত এনজিও প্রতিনিধি নির্বাচন, এনজিওদের সম্মিলিত ভাবে অংশগ্রহনের সুযোগ না থাকার কারনে এনজিও নামে ঠিকাদার, ব্যবসায়ী ও ধান্ধবাজদের অনুপ্রবেশ রুদ্ধ করা যাচ্ছে না, আর এ সমস্ত ব্যবসায়ীদের নানা অপকর্মের পুরো দায় সমগ্র এনজিওদের নিতে হচ্ছে। তাই একটি সুষ্ঠু এনজিও সেক্টর তৈরীতে এনজিওদের সমন্বিত ভাবে অংশগ্রহনের সুযোগ সৃষ্ঠি করা, একক এনজিও প্রধিনিধিত্বের বিধান বাদ দিয়ে সমন্বয়কারী সংস্থার মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, এনজিও ও সামাজিক খাতে পৃথক ক্রয়নীতি প্রণয়ন করা, এনজিওদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেয়ার দাবী জানানো হয়।
১৭ মে নগরীর সিএসডিএফ মিলনায়তনে ঘুর্নীঝড় মহাসেন পরবর্তী পর্যালোচনা নিয়ে চট্টগ্রামে কর্মরত এনজিওদের এক সমন্বয় সভায় উপরোক্ত দাবী জানানো হয়। সিএসডিএফ ও আইএসডিই বাংলাদেশ এর উদ্যোগে আয়োজিত এ সমন্বয় সভায় সভাপতিত্বে করেন সিএসডিএফ এর চেয়ারপাসন ও আইএসডিই বাংলাদেশ নির্বাহী পরিচালক এস এম নাজের হোসাইন। আলোচনায় অংশনেন ইপসার প্রধান নির্বাহী ও এডাব চট্টগ্রাম অনুসংগঠনের চেয়াপরর্সন মোঃ আরিফুর রহমান, আইডিএফ’র প্রধান সমন্বয়কারী আহমদ ইউসুফ হারুন, বিবিএফ’র প্রধান নির্বাহী উৎফল বড়–য়া, স্কাস-ঢাকা এর নির্বাহী পরিচালক মারুফ বিল্লাহ জাবেদ, সংশপ্তকের প্রধান নির্বাহী সৌরভ বড়–য়া, স্বপ্নীল বাংলাদেশ এর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলী সিকদার, মাইশার নির্বাহী পরিচালক ইয়াসিন মনজু, অপরাজেয় বাংলাদেশ এর পিযুস দাস গুপ্ত, সুবজের ছায়ার ছায়েরা বেগম, এনজিও ফোরামের শহীদুল ইসলাম, অগ্রযাত্রার মানিক সেন, এডাব চট্টগ্রামের সমন্বয়কারী আবু জাহের, এলার্ট এন্ড এডভান্স এর আকতার হোসেন, বরনীর আবুল কালাম প্রমুখ।
সভায় ঘুর্নীঝড় মাহসেন এর প্রস্তুতি নিয়ে এনজিওদের উদ্যোগ ও করনীয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়, যেখানে বাংলাদেশে গামেন্টস সেক্টরে শ্রমিকদের সিবিএ না থাকায় শ্রমিক অসন্তোষসহ অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে, আর সেখানে একটি অশুভ মহল একটি সুশৃংখল এনজিও প্রতিষ্ঠায় নিজেদের মাঝে আত্মনিয়ন্ত্রণকে বহুধা বিভক্ত করে স্থাণীয়, জাতীয়, আর্ন্তজাতিক ইত্যাদি বিভিন্ন নামে বিভক্ত করে পুরো এনজিও সেক্টরকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। সভায় আরো বলা হয় সরকারের বিভিন্ন কমিটিতে তাদের পেশাজীবি সংগঠনের যেরকম প্রতিনিধিত্ব থাকার কথা, যেমন ব্যাবসায়ী প্রতিনিধি হলে চেম্বার মনোনয়ন দিবে, সেখানে তা বাদ দিয়ে সেখানে একক প্রতিনিধিত্ব করার কারনে সম্মিলিত স্বার্থ ব্যাহত হচ্ছে, ধান্ধাবাজরা অনায়াসে সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ঠ করছে। এর ফাঁকে একটি মহল সিটিকর্পোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে এনজিওর নামে বিভিন্ন প্রকল্প হাতিয়ে নিচ্ছে। আর সেখানে অনেকের গার্মেন্টস, বাঁশ, বেতের ব্যবসার ফাঁকে একটি এনজিওর লাইসেন্সও আছে? আর কিছু আর্ন্তজাতিক সংস্থা বিডিং এর নামে স্টোশানারীজের দোকানের মতো ভেন্ডর তালিকাভুক্তির ন্যায় এনজিওদের তালিকাভুক্ত করে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ দিচ্ছে। ফলে সাতক্ষিরার এনজিওকে চট্টগ্রামে ঠিকাদারের ন্যায় আর্ন্তজাতিক সাহায্য সংস্থা থেকে প্রকল্প নিয়ে কাজ করতে আসে। সেখানে ঠিকাদার ও এনজিওর কাজের মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না। যেনতেন ভাবেই কাজ শেষ করেই ঐ এনজিও চম্পট দেয়। অথচ বাংলাদেশের এনজিওদের পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতা সারা বিশ্বে প্রশংসিত হলেও দেশে একটি মহল এনজিওদের এই অবদানের মুখে কালিমা লেপনের জন্য এনজিও ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বানিজ্যিকীকরণ, টেন্ডার প্রথা চালু, এনজিওদের সমন্বিত উদ্যোগকে বিভ্রান্ত করাসহ নানা ষডযন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ফলে তৃনমুল পর্যায়ে মানবিক উন্নয়ন, দারিদ্রতা বিমোচন ও নারীর ক্ষমতায়ন মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। যা কোন ভাবেই কাম্য নয়।
সভায় ঘুর্নীঝড়, ভুমিকম্প, পাহাড়ধ্বসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় চট্টগ্রামে এনজিওরা সমন্বিত ভাবে উদ্যোগ গ্রহন নিয়ে নিয়মিত সমন্বয় সভা আয়োজন, সরকার, আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও দাতাগোষ্ঠির সাথে মতবিনিময় অব্যাহত রাখা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের উপর সার্বক্ষনিক নজর রাখা, সভায় তৃনমুল পর্যায়ে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক তৈরী, তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তাদের তথ্য সম্বলিত তথ্য ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা, উপজেলা ও সিটিকর্পোরেশনের ওয়ার্ড ভিত্তিক এনজিও ম্যাপিং করাসহ স্থানীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার বিষয়ে আলোচনা ও কর্মপন্থা নির্ধারন করা হয়।
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »