ইউসুফের জামিনের শুনানি শেষ, আদেশ কাল

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামাত নেতা একেএম ইউসুফের জামিনের বিষয়ে শুনানি শেষ—আগামীকাল আদেশের দিন ঠিক করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ তারিখ ধার্য করেছে।

এর আগে সকালে জামাত নেতা ইউসুফকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তার জামিন আবেদনের শুনানি করেন আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক ও তাজুল ইসলাম। আর জামিনের বিরোধিতা করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হূষিকেশ সাহা। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আগামীকাল এ বিষয়ে আদেশের দিন ঠিক করেছে।

গত রোববার গ্রেপ্তারের পর বিকেলে তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে জামিনের আবেদন জানালে সোমবার শুনানির দিন ঠিক করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল-১।

এর আগে পরোয়ানা জারির এক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সকালে বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেয়।

একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে গত ৮ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। সেইসঙ্গে তাকে গ্রেপ্তারেরও আবেদন করা হয়।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বেলা ১২টার দিকে শুনানি শেষে ২৬ মের মধ্যে একেএম ইউসুফকে গ্রেপ্তারের পর ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়।

ইউসুফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ:

তদন্ত প্রতিবেদনে একেএম ইউসুফের বিরুদ্ধে ১৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে : ৭০০ জনকে গণহত্যা, ৮ জনকে হত্যা, হিন্দু সম্প্রদায়ের ২০০ জনকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করা, আনুমানিক ৩০০ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন, ৪০০ দোকান লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমগ্র বাংলাদেশ বিশেষ করে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় এসব অপরাধ সংগঠিত হয়। এসব অপরাধ সংঘটিত হয় একাত্তরের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশে প্রথম রাজাকার বাহিনীর নামকরণ করেন তিনি। শান্তি কমিটি, রাজকার, আল বদর, আল শামস বাহিনীসহ সব সংগঠনের স্বাধীনতাবিরোধী কাজে নেতৃত্ব দেন তিনি।

ছাত্রজীবনে একেএম ইউসুফ জমিয়তে তালাব-ই-আরাবিয়ার একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। ১৯৫২ সালে জামাতে যোগ দেন তিনি। ১৯৫৭ সালে খুলনা বিভাগের আমির ছিলেন। ১৯৬২ সালে জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে জামাতের প্রাদেশিক জয়েন্ট সেক্রেটারির দায়িত্ব পান। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান জামাতের ডেপুটি আমির ছিলেন তিনি।