সাভারে নিহতের সংখ্যা ১০৮৫

বার্তবাংলা রিপোর্ট :: রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে আরো লাশ মিলেছে।

সাভারের ভয়াবহ এই ভবন ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮৫ জনে।

উদ্ধার অভিযানের অষ্টাদশ দিন শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা প্রশাসনের অস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ কক্ষের নোটিস বোর্ডে নিহতের এই সংখ্যা জানিয়ে দেয়া হয়।

বোর্ডে দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত ৭৮১টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপ থেকে লাশ উদ্ধারের পর সেগুলো বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হচ্ছে। এখানে বর্তমানে রয়েছে ৬৪টি মরদেহ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রয়েছে আরো ৮৪টি লাশ।

পরিচয় সনাক্ত করতে না পারায় মোট ১৫৬ জনকে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে জুরাইন কবরস্থানে।

ধসের সপ্তদশ দিন শুক্রবার বিকালে রেশমা আক্তার নামে এক নারীকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া শুক্রবার বিকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে আরো ৩৪টি লাশ।

গত ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রানা প্লাজা ধসে পড়ে। ওই ভবনে পাঁচটি তৈরি পোশাক কারখানায় তখন কাজ চলছিলো।

উদ্ধারকর্মীরা নয়তলা ভবনের সামনের দিকের ধ্বংসস্তূপ আগেই সরাতে পেরেছেন। ৭ মে রাত থেকে তারা ভবনের পেছন দিকের ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করে।

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এখন যেসব মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছে তার বেশিরভাগই বিকৃত হয়ে গেছে। লাশের সঙ্গে পরিচয়পত্র বা মোবাইল ফোন পাওয়া গেলে তার মাধ্যমেই পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে থাকা সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের অধিনায়ক মেজর জেনারেল চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দী গত ১ মে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, তখন পর্যন্ত ১৪৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তারপর থেকে গত ১০ দিনে উদ্ধার হয়েছে আরো ৬৮৮টি লাশ।

ওইদিন সকাল পর্যন্ত মোট ৩৯৭টি মৃতদেহ পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী,  রানা প্লাজার পাঁচটি কারখানায় সাড়ে ৫ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করতেন।

ঢাকার জেলা প্রশাসক মো. ইউসুফ হারুন জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত দুই ধাপে ‘অসনাক্ত’ ৭৬টি লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “এনিয়ে মোট ১৫৬টি লাশ জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হলো।”

পরে কোনো স্বজন লাশের দাবি নিয়ে এলে পরিচয় সনাক্ত করার জন্য এই ১৫৬ জনের ডিএনএ সংগ্রহ করে রেখেছে ঢাকা মেডিকেল কর্তৃপক্ষ।