পাকিস্তানে ইউসুফ রাজা গিলানির ছেলে অপহৃত

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির ছেলেকে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি)এক নির্বাচনী সমাবেশ থেকে বৃহস্পতিবার অপহরণ করে নিয়ে গেছে বন্দুকধারীরা।

গিলানি বিবিসি কে বলেছেন, তার ছেলে আলি হায়দার পিপিপি’র নির্বাচনী প্রার্থী।তাকে মুলতানের একটি সমাবেশ থেকে অপহরণ করা হয়েছে।

শনিবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটনার সময় বন্দুকধারীরা সমাবেশে গুলি চালালে এক ব্যক্তি নিহত হয় বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, কালো হোন্ডা কার এবং মটরবাইক নিয়ে বন্দুকধারীরা সমাবেশে আসে।তাদের কয়েকজন গুলি ছোড়া শুরু করে।

এ সময় আলি হায়দার গিলানির সামনে দাঁড়ানো একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।এরপর বন্দুকধারীরা হায়দারকে ধরে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে যায়।

নিহত ব্যক্তি আলি হায়দার গিলানির দেহরক্ষী কিংবা সেক্রেটারি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

ইউসুফ রাজা গিলানির সবচেয়ে ছোট ছেলে আলি হায়দার পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদের একটি আসন থেকে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন।

তাকে অপহরণের ঘটনার পর মুলতানে ঢোকা এবং বাইরে বেরোনোর সব পথ বন্ধ করেছে পুলিশ।চলছে তল্লাশি।
মুলতানের ঘটনার দায় কেউ স্বীকার করেনি।কিন্তু পাকিস্তানে তালেবানরা নির্বাচন বানচাল করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
তালেবান নেতা হাকিমুল্লাহ মেহসুদের কাছ থেকে বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠিয়ে ভোটের দিনে আত্মঘাতী হামলা চালানোর হুমকি দেয়া হয়েছে।এতে করে নির্বাচনে সহিংসতার আশঙ্কা আরো বেড়েছে।

তালেবান গোষ্ঠীর মুখপাত্রের কাছে হাকিমুল্লাহ মেহসুদের পাঠানো বার্তায় হামলা পরিকল্পনার রূপরেখা দেয়া হয়েছে।দেশের ৪ টি প্রদেশে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে এতে।

১ মে’র এক চিঠিতে মেহসুদ লিখেছেন, “আমরা গণতন্ত্রের নামে অবিশ্বাসীদের শাসনব্যবস্থা মেনে নিতে পারি না।”
তালেবানরা পিপিপি, আওয়ামি ন্যাশনাল পার্টি (এএনপি) এবং মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্ট (এমকিউএম)এর নির্বাচনী প্রচার বাধাগ্রস্ত করার হুমকি দিয়ে আসছে।কারণ, এ দলগুলোকে অতিরিক্ত ধর্মনিরপেক্ষ বলে মনে করছে জঙ্গিরা।

ইউসুফ রাজা গিলানি ২০১২ সালের জুন পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।কিন্তু প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চালু করতে অস্বীকৃতি জানানোয় সুপ্রিম কোর্ট গিলানিকে অপসারণ করে।

তালেবান সহিংসতায় দেশটিতে পন্ড হচ্ছে একের পর এক নির্বাচনী সমাবেশ।ইতোমধ্যে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নির্বাচনী সমাবেশ ও কার্যালয়গুলোতে হামলা চালিয়ে শতাধিক মানুষকে হত্যা করেছে তালেবানরা।

তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলের ওপর তালেবানরা এখনো হামলা করেনি।শরীফ নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ থেকে পাকিস্তানকে সরিয়ে আনবেন বলে জানানোর পাশাপাশি তালেবানদের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার পক্ষে থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন।