বার্তাবাংলা ডেস্ক »

euitybdবার্তাবাংলা রিপোর্ট :: ইক্যুইটিবিডি আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা কালো টাকার উৎস বন্ধ করতে রাজনৈতিক নেতাদের অঙ্গিকার দাবি করেন। তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের সংঘাতপূর্ণ রাজনীতিই মূলত পুঁজি পাচারের জন্য দায়ী যা দেশে একটা নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে চলেছে। বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ১.৮ বিলিয়ন ডলারের পুঁজি পাচার হয়ে যাচ্ছে যা আমাদের প্রতি বছর প্রাপ্ত ১.২ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার চেয়ে অনেক বেশি।
আজ ঢাকার জাতীয় প্রেসকাবে অনুষ্ঠিত সেমিনারের শিরোনাম ছিল “কালো টাকার রাজনৈতিক অর্থনীতি: অপ্রদর্শিত অর্থনীতি, জাতীয় বাজেট ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ” যেখানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ইক্যুইটিবিডি’র রেজাউল করিম চৌধুরী। অন্যান্য বক্তার মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক ডা. এম এ মান্নান, এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক আবু আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অধ্যাপক মাহবুবে রশিদ, ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি খাজা মাইন উদ্দিন, একশন এইডের জনাব আসগর আলী সাবরি, টিআইবি’র জনাব জাকির হোসেন খান, ডবি−উবিবি ট্রাস্টের জনাব মাহবুবে আলম, অনলাইন নলেজ সোসাইটির জনাব প্রদীপ কুমার রায়।
সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ইক্যুইটিবিডি’র জনাব আহসানুল করিম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, দণি এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই কালো টাকার শতকরা হার সর্বাধিক যা প্রায় ৩৮% যেখানে ভারতে এটি ২৩%। বাংলাদেশ কালো টাকা নিয়ন্ত্রণে নানা ধরনের পদপে গ্রহণের জন্য ভারতের পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারে, এবং এর মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর জন্য সরাসরি করের আওতা বাড়াতে পারে।
অধ্যাপক আবু আহমেদ তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক বর্তমান মতাসীন দলের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যান্য সাংসদদের তাদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব দাখিল করা উচিত। তিনি আরো দাবি করেন, বর্তমানের সংসদের উচিত অবিলম্বে বহুল প্রতীতি ফাইন্যানসিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট পাস করা যা নির্ভরযোগ্য অডিট প্রতিবেদন তৈরির জন্য অপরিহার্য। অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, দেশের বর্তমান সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ একটা অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিচ্ছে ফলে বড় পুঁজি বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিদেশী কোম্পানিগুলোর উচিত তারা কতটা মুনাফা এদেশ থেকে বাইরে নিয়ে যাচ্ছে তার ব্যাপারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
টিআইবি’র জাকির হোসেন খান দুদক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, এ প্রতিষ্ঠানগুলো স্বউদ্যোগী নয়। ডাক্তার আসিবার পর রোগী মারা যাবার মতো তারা সব কাজ করেন সময় চলে যাবার পর। তিনি আরো বলেন, আমাদের রাজনীতিকরা যদি অঙ্গিকারাবদ্ধ না হন তাহলে ২০১৫ সালের মধ্যে ১৫% ট্যাক্স জিডিপি রেশিও অর্জন করা কোনভাবেই সম্ভব হবে না।
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি খাজা মাইন উদ্দিন বলেন, পরবর্তী বাজেটে কোনওভাবেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়া উচিত হবে না। তিনি বলেন, সৎ করদাতা ও কালো টাকার মালিকের মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, সাংসদদের নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা বাড়ানো উচিত কারণ এটি বাস্তবসম্মত নয়। ফলে সাংসদরা প্রথমেই একটা মিথ্যা দিয়ে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।
আসগর আলী সাবরি বলেন, বাংলাদেশের উচিত অন্যান্য দেশের সাথে চুক্তি করে কর সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় করা।
অধ্যাপক এম এ মান্নান এমপি বলেন, সাংসদদের নির্বাচনীয় ব্যয় বাস্তবসম্মত হওয়া উচিত এবং এর সীমা বাড়ানো উচিত। তবে, পরবর্তীতে ব্যয় করা টাকার হিসাব চাওয়া যেতে পারে যাতে নির্বাচনে অনৈতিকভাবে অর্থ ব্যয় রোধ করা যায়।
সেমিনারের সঞ্চালক রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, আমাদের রাজনীতিকদের উচিত অবিলম্বে সংঘাতপূর্ণ রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যা পুঁজি পাচারের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »