ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চলছে

বার্তাবাংলা ডেস্ক :: হাইড্রোলিক ক্রেন ও বুলডোজারসহ বিভিন্ন ভারি যন্ত্রপাতি দিয়ে সাভারে ধসে যাওয়া রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ সরানোর কাজ চলছে। উদ্ধার কাজও চলছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। মঙ্গলবারও ধ্বংসস্তুপ থেকে উদ্ধার হয়েছে আরো ৫ জনের মৃতদেহ। ধ্বংসস্তুপ থেকে জীবিত ব্যক্তি বা লাশ উদ্ধারে সেনাবাহিনী ডগ স্কোয়াডের প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করছে। এদিকে, ভবন মালিক রানার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া বন্ধ থাকা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে।

রানা প্লাজা ধ্বসের সপ্তম দিনে ধ্বংসস্তুপ সরানোর কাজ পুরোদমে চলছে। সেনাবাহিনী, রাজউক, ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দেয়া ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ভবনের সমানের অংশের দু’দিক থেকে বড় বড় স্ল্যাব ভেঙে আস্তে আস্তে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

বিশাল আকৃতির হাইড্রোলিক ক্রেনে সহায়তায় তোলা হচ্ছে ভবনের ভারি অংশ। পরে সেগুলো ড্রিলের সহায়তায় ছোট ছোট টুকরো করা হচ্ছে। আটকে থাকা রডগুলো কেটে দেয়া হচ্ছে গ্যাস কাটারের সাহায্যে। পরে ট্রাকে করে নিয়ে ফেলা হচ্ছে সাভারের বংশী নদীর তীরে।

ধসে যাওয়া ভবনের পিছন দিকেও চলছে সমান তালে ধ্বংসস্তুপ সরিয়ে ফেলার কাজ। এই অংশ পুরোপুরি ধসে যাওয়ায় শুধু মাত্র এক্সেভেটর দিয়ে জঞ্জাল সরানোর কাজ চলছে।

ধ্বংসস্তুপ সরানোর পাশাপাশি উদ্ধারকাজও চলছে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। ভারি যন্ত্র ব্যবহারে যাতে মৃতদেহগুলো দুমড়েমুচড়ে না যায় সে বিষয়ে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

ধ্বংসস্তুপের নীচে আরো মৃতদেহ থাকতে পারে—বিবেচনায় দীর্ঘ হতে পারে উদ্ধার অভিযান। মৃতদেহ খুঁজে বের করতে ক্যামেরা ছাড়াও প্রশিক্ষিত বিশেষ কুকুর ব্যবহার করছে সেনাবাহিনী। মঙ্গলবার বিকেল ৫টা থেকে লতা, বীণা, মিনা ও মিলা নামে চারটি প্রশিক্ষিত কুকুর দিয়ে এ উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।

এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দী জানান, যেখানেই জীবিত কিংবা মৃতদেহ পাওয়া যাবে সেখানেই কুকুরগুলো বসে পড়বে।

উদ্ধার অভিযানে প্রতিনিয়ত ভিন্নমাত্রা যোগ হচ্ছে—এ কথা উল্লেখ করে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি চৌধুরী হাসান সোহরাওয়ার্দী জানান, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের ভেতর একটি জীবিত অথবা মৃতদেহের সন্ধান পাওয়া যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। প্রতিনিয়ত আমরা ভিন্ন ভিন্ন মাত্রা যোগ করে এ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। এরই অংশ হিসেবে ডগ স্কোয়াড দিয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।’

যেখানেই জীবিত কিংবা মৃতদেহ পাওয়া যাবে সেখানেই কুকুরগুলো বসে পড়বে বলেও জানান তিনি।

ধ্বংসস্তুপে উদ্ধার কাজে ক্যামেরার ব্যবহার প্রসঙ্গে জিওসি বলেন, ‘উন্নত প্রযুক্তির সার্চ ভিশন ক্যামেরা দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে। আমরা চাই না কোনো মৃতদেহ নষ্ট হোক কিংবা কোনো জীবিত প্রাণের ক্ষতি হোক। আমরা চাই জীবিত কিংবা মৃতদের উদ্ধার করে তাদের স্বজনদের কাছে পৌঁছে দিতে।’

এদিকে, আপনজনের মৃতদেহটি পেতে আজো ভিড় জমান স্বজনহারা বহু মানুষ। এক পর্যায়ে ভবন মালিক রানার ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করে স্থানীয় কিছু তরুণ।

৬ দিন পর যাহবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। তবে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তুপ সরানোর জন্য সাভার বাজারের এক পাশের রাস্তা বন্ধ থাকায় অন্য পাশ দিয়ে যান চলাচল করছে।