বার্তাবাংলা ডেস্ক »

amar odhikar campaignবার্তাবাংলা রিপোর্ট :: জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর আলোকে মানসস্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতকরনে প্রয়োজন দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গিকার এবং পর্যাপ্ত অর্থায়ন। যদিও সবাই মুখে বলে থাকেন যে, শিা খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু খুব কমেেত্রই তা রাজনৈতিক অগ্রাধিকার পাচ্ছে, এবং এর জন্য যে পরিমাণ অর্থায়ন হওয়া দরকার তা হচ্ছে না। ‘আমার অধিকার ক্যাম্পেইন’ আয়োজিত ‘প্রাথমিক শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ: ২০১৩-২০১৪, আমার অধিকারের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরের বাজেটকে সামনে রেখে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য আমরা কেমন বাজেট পেতে চাই সে বিষয়ে আলোচনার জন্য  শনিবার (২০ এপ্রিল, ২০১৩) সিরডাপ মিলনায়তনে  ‘অক্সফাম’ এর সহায়তায়  জাতীয় মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ‘আমার অধিকার ক্যাম্পেইন’।
আমার অধিকার এর চেয়ারপার্সন ড. নিলুফার বানুর সভাপতিত্তে অনুষ্ঠিত এ সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, অধ্যাপক কাজী ফারুক আহমেদ, সদস্য, জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটি-২০০৯ এবং ড. প্রতিমা পাল মজুমদার,  অবসরপ্রাপ্ত  সিনিয়ার রিসার্চ ফেলো, বিআইডিএস(বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান)। মতবিনিময়  সভায় মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন শিক্ষা বিষয়ক গবেষক জনাব সিরাজুদ দাহার খান।
মতবিনিময় সভায় বক্তার জানান, শিায় অধিকার ও গুনগত শিার ল্য অর্জনে রাষ্ট্র ও সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকারই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি আবশ্যক ও সহায়ক হিসেবে বিবেচিত। সবার জন্য শিার ল্য অর্জনে সকল চ্যালেঞ্জের ঐক্যসূত্র বা মূল উৎস হচ্ছে অর্থায়ন।  প্রাথমিক শিক্ষায় নিছক ভর্তিবৃদ্ধি নয়: গুণগত মান চাই, আর  মানসম্পন্ন শিার জন্য চাই, মানসম্পন্ন শিক।  শিক্ষা খাতের বাজেটে শিকদের পেশাগত দতা বা মানবৃদ্ধির তেমন কোনো সুযোগ বা উদ্যোগ থাকে না। বিগত বাজেটে শিায় বরাদ্দকৃত মোট অর্থের ৬৮ শতাংশ রাজস্ব খাতে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। অথচ, এই বিশাল অংকের অতি নগণ্য একটি অংশ (মাত্র ০.৫ শতাংশ) শিকদের প্রশিণ ও মানোন্নয়নের জন্য রাখা হয়েছে।
অনেকেই বলে থাকেন যে, পর্যাপ্ত বাজেটের অভাব-ই শিা েেত্র সমস্যার মূল কারণ নয়। তবে, পর্যাপ্ত বাজেটের অভাব-ই শিা-সংশিষ্ট সমস্যাগুলোর অন্যতম এবং এ সমস্যা দূর না করা পর্যন্ত শিাসংশিষ্ট প্রধান সমস্যা দূর করা কঠিন। তাই, শিায় যাতে আরও বেশি অর্থায়ন হয়, শিা ব্যবস্থায় আরও কার্যকরভাবে সেসব অর্থ ব্যয় হয়, সে ল্েয সরকার ও অগ্রসর নাগরিক সমাজকে(সিভিল সোসাইটি) যৌথভাবে কৌশলগত বাস্তব পদপে নিতে হবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন উপস্থিত বক্তারা।
প্রাথমিক শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ বিষয়ক ধারনাপত্রে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে শিা প্রশাসনে ও জনমনে প্রাথমিক শিার গুণগত মান নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ বিদ্যমান। আবার এখনও ল ল শিশু স্কুলবঞ্চিত। এ প্রেেিত, আমরা বিদ্যালয়ের সংখ্যা ও তাতে ভর্তির হার বাড়াবো, নাকি বিদ্যমান স্কুলগুলোতে ইতোমধ্যে শিারত শিার্থীদের শিার মান বাড়াতে গুরুত্ব দেব। দুটোই একসাথে করা কি আমাদের সামর্থ্যরে বাইরে? রাষ্ট্র যদি পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ ও অগ্রাধিকার নির্ণয় করতে এবং জনসমাজের সহযোগিতায় ও অংশগ্রহণে বরাদ্দকৃত সম্পদ যথাযথ কাজে লাগাতে পারেÑ দুটোতেই অগ্রগতি সাধন করা সম্ভব। অর্থাৎ প্রাথমিক শিায় অগ্রাধিকারভিত্তিক, স্থানীয় চাহিদামাফিক ও পরিকল্পিত অর্থায়ন ও তার গুণগত ব্যবহার এেেত্র অপরিহার্য অগ্রাধিকার ও পূর্বশর্ত।
বাংলাদেশের শিা খাতের জন্য উন্নয়নের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নের জন্য একটি টেকসই অর্থায়ন কাঠামো তৈরী করা, সবার জন্য শিার ল্য অর্জনের জন্য সরকারকে অবশ্যই জাতীয় বাজেটের কমপে ২০% ও জিডিপি’র ৬% ব্যয় বরাদ্দ করা, প্রাথমিক শিাকে ‘মৌলিক অধিকার’ হিসেবে সংবিধানে ও বাস্তব জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা; এবং সর্বপরি রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিশ্চিত করার (রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক দল ও নাগরিকসমাজের) দাবী জানানো হয় মত বিনিময় সভা থেকে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »