বার্তাবাংলা ডেস্ক »

EquityBDবার্তাবাংলা রিপোর্ট :: এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)’র আসন্ন ৪৬তম বার্ষিক সম্মেলনে বাংলাদেশ সরকারি প্রতিনিধি দলের কাছে নয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে নাগরিক সমাজের জোট ‘এনজিও ফোরাম অন এডিবি’। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ১.এডিবির সিদ্ধান্ত গ্রহণের েেত্র তথাকথিত বিনিয়োগ-ভিত্তিক (ঝযধৎব নধংবফ রহাবংঃসবহঃ রহ অউই) ভোটদান পদ্ধতি বাতিল করে একদেশ-একভোট পদ্ধতির চালুর জন্য দাবি উত্থাপন করা ২.বাংলাদেশের সংবিধান ও এডিবির নীতিমালা অনুযায়ী প্রকল্প ও কর্মসূচিতে জনঅংশগ্রহণ ও জনঅধিকার নিশ্চিত করার জন্য চাপ প্রয়োগ করা ৩. এডিবির প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য প্রচার ও উন্মুক্ত করা ৪. ঢালাও বিরাষ্ট্রীয়করণ ও উদারীকরণ কৌশলের প্রতিবাদ জানানো ৫.প্রাকৃতিক সম্পদের বাজারিকরণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ ৬. অত্যাবশ্যকীয় সেবাগুলোর মূল্যবৃদ্ধির চাপ প্রত্যাখ্যান করা ৭. জলবায়ু খাতে এডিবির ঋণ-বাণিজ্য চেষ্টা বাতিল করা ৮. সকল খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশীপ (পিপিপি) প্রয়োগের উদ্যোগ প্রতিহত করা এবং ৯. বাংলাদেশে এডিবিকে দেয়া দায়মুক্তির আদেশ বাতিল করা।
আজ ২০ এপ্রিল ২০১৩, শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ইক্যুইটি অ্যান্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্র“প (ইক্যুইটিবিডি), হিউম্যানিটিওয়াচ ও এনজিও ফোরাম অন এডিবি’র যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি উত্থাপন করা হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হিউম্যানিটিওয়াচ-এর প্রধান নির্বাহী ও ফোরামের বাংলাদেশ সদস্য সচিব হাসান মেহেদী। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইক্যুইটিবিডি’র সৈয়দ আমিনুল হক, কর্মজীবী নারীর রাহেলা রব্বানী, এ্যাওসেড-এর শামীম আরফিন, ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ (আইআরভি)’র জাভেদ খালিদ পাশা জয়, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)’র মাহফুজুর রহমান মুকুল, স্বাবলম্বীর কাজী হাফিজুর রহমান প্রমূখ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)’র ৬৭টি সদস্যরাষ্ট্র থাকলেও মাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ মাত্র ৭টি দেশ সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে কেননা মোট ভোটের ৫১ শতাংশই এ দেশগুলোর দখলে। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিকভাবে নেয়া হয় না বরং তাদের স্বার্থে বাংলাদেশের মতো ঋণগ্রহণকারী দেশের উপর বিভিন্ন অন্যায্য সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া ১৯৭৩ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশের মাধ্যমে দায়মুক্তি দেয়ায় আদালতের মাধ্যমেও এডিবিকে তার তিকর কার্যকলাপের জন্য কোন প্রকার জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না, যে কারনে সুষ্ঠূ জবাবদিহিতা নিশ্চত করার জন্য দায়মুক্তি আইণ বাতিল জরুরী।
জাভেদ খালিদ পাশা অভিযোগ করেন, এডিবি’র অর্থায়নে বাংলাদেশে ২৬৩টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে যার সিংহভাগই দরিদ্র জনসাধারণের জীবন-জীবিকা ও স্থানীয় পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি তি ডেকে এনেছে। এডিবি’র নিজস্ব মূল্যায়ন প্রতিবেদনেই সুন্দরবন প্রাণবৈচিত্র্য সংরণ প্রকল্প (এসবিসিপি) ও খুলনা-যশোর পানি নিষ্কাশন পুনর্বাসন প্রকল্প (কেজেডিআরপি)সহ অনেকগুলো প্রকল্পকে ব্যর্থ প্রকল্প বলা হয়েছে। এসব প্রকল্পে কয়েক শ’ কোটি টাকা যেমন অপচয় হয়েছে তেমনি প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে দেশের কোনো উন্নয়ন না হলেও বাংলাদেশকে ঋণ ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হচ্ছে।
সৈয়দ আমিনুল হক জানান, ১৯৮০’র দশকে কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচি (স্যাপ) ও ৯০’র দশকে দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (পিআরএসপি)র মধ্য দিয়ে এডিবি রাষ্ট্রীয় শিল্পকারখানা বিরাষ্ট্রীয় করা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত উন্মুক্ত করা, রাষ্ট্রীয় সেবাখাত সংকুচিত করা এবং পরিবেশবিধ্বংসী চিংড়িখাতে ভর্তুকি দেয়ার মধ্য দিয়ে ব্যাপক হারে বেকারত্ব বৃদ্ধি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, কৃষকসহ দরিদ্র ও নি¤œবিত্তদের বেসরকারি মুনাফাখোর কোম্পানিগুলোর জিম্মিতে পরিণত করা এবং উপকূলীয় পরিবেশের নির্বিচার ধ্বংসসাধন করা হয়েছে।
রাহেলা রব্বানী বলেন বাংলাদেশে অর্থায়নের েেত্র এডিবি’র সিদ্ধান্ত গ্রহন প্রক্রিয়া অগনতান্ত্রিক এবং জনস্বার্থ বিরোধী। যেমন এডিবি পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের নামে রেগুলেটরি কর্তৃপ গঠনের মধ্য দিয়ে প্রাকৃতিক ও সরবরাহকৃত পানির মূল্যবৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং শিা, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং রেলওয়ের মতো খাতগুলোকে তথাকথিত পিপিপি’র আওতায় বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে চাপ প্রয়োগ করে যাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও বিপন্ন করবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এছাড়া বাংলাদেশের জলবায়ু কৌশলপত্রে ঋণ না নেয়ার কথা বলা হলেও এডিবি এ খাতে বাংলাদেশকে ঋণ নিতে বাধ্য করছে যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় উন্নত বিশ্ব থেকে তিপূরণ পাবার অধিকারকে ুন্ন করবে।
বক্তারা আসন্ন এডিবি’র ৪৬তম বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহনকারী বাংলাদেশের সরকারী প্রতিনিধিগনকে সমমনা অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে এডিবি’র উপরোক্ত অন্যায্য ভূমিকার বিরূদ্ধে সুষ্পষ্ট ও জোরালো অবস্থান গ্রহনের আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »