বার্তাবাংলা ডেস্ক »

padma bridgeবার্তাবাংলা রিপোর্ট :: কানাডার আদালতে শুনানিতে অংশ নিতে দুদক কর্মকর্তাদের কানাডা যাওয়ার ভিসা না দেয়ায় পদ্মা সেতু দুর্নীতি মামলার তদন্তকাজ থেমে গেছে। তবে তদন্ত সংস্থাটির চেয়ারম্যান গোলাম রহমান মনে করছেন কর্মকর্তাদের কানাডা যেতে না পারায় তদন্তকাজে কোনো প্রভাব ফেলবে না। এদিকে, দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন কানাডা সরকার ও আদালতের সহযোগিতা না পেলে দুর্নীতির তদন্তের কিনারা করা সম্ভব হবে না।

নির্মাণপ্রতিষ্ঠান এসএনসি লাভালিনের দুই সাবেক কর্মকর্তা রমেশ শাহ ও মোহাম্মদ ইসমাইলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পদ্মা সেতু নির্মাণ তদারকির কাজ পেতে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের ঘুষ দিতে চেয়েছিলেন তারা। রমেশ ও ইসমাইলকে ঘুষ প্রস্তাব ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কানাডিয়ান পুলিশ। এ সময় ঘুষ লেনদেনের প্রমাণপত্র রমেশের ডায়েরি জব্দ করা হয়। এ ডায়েরিতেই রমেশ বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রিকে কত শতাংশ ঘুষ দেবেন তার পরিমান উল্লেখ করা আছে।

এ অভিযোগে কানাডার অন্টারিওর কোর্ট অব জাস্টিসের একটি আদালতে ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া শুনানি ১৯ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। এ শুনানিতে মামলা চালানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ আছে কিনা সেটিই ঠিক হবে। যদিও আদালতের রায় আসার আগেই এসএনসি লাভালিন ঘুষ দেয়ার চক্রান্ত মেনে নেয়। এ মামলার শুনানি দেখতে দুদকের আইন উপদেষ্টা আনিসুল হকের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কানাডা যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দলটির যাওয়া হয়নি।

এছাড়া দুদক শুরু থেকে বলে আসছে রমেশের ডায়েরির কপি হাতে পাওয়া দরকার। একইসঙ্গে দরকার দুদকের মামলার আসামি কানাডার ৩ নাগরিকের জবানবন্দি। আর কপি চেয়ে দুদক ইতিপূর্বে কানাডা সরকারের কাছে চিঠি পাঠালেও কানাডা সরকার তার কোনো জবাব দেয়নি। সর্বশেষ দুদক কানাডার আদালতে এ মামলার শুনানি পর্যবেক্ষণের জন্য দুদক একটি টিম পাঠানোর জন্য ভিসার আবেদন করলে কানাডা সরকার সে আবেদনও নাকচ করে দেয়।

তবে এতো কিছুর পরও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান বলছেন তদন্তে কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি এ মামলার স্বচ্ছতার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদি। যদিও দুদকের একজন কমিশনার মামলাটির তদন্ত ঝুলে আছে কানাডার কাছে বলে জানান।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »