ব্যয় মেটাতে ব্যাংক ঋণে ঝুঁকেছে সরকার

সরকার

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। ফলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যয় নির্বাহ করতে ব্যাংক খাতে ঋণের চাপ বেড়েছে সরকারের। বাজেট ঘাটতি মেটাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণ নেবে বলে ঠিক করেছে সরকার। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম ৩৯ দিনে ২৩ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ নেয়া হয়েছে। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি।

ব্যাংক থেকে সরকারি ঋণের পরিমাণ বাড়ায় বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহে ভাটা পড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ না বাড়লে কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে না। ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে এক লাখ ৪৫ লাখ ৩৮০ কোটি টাকা। আর ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেবে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়ে যাবে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। পাশাপাশি নানামুখী চাপে পড়বে অর্থনীতি। অন্যদিকে বিতরণ করা ঋণ আদায় কমে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়েছে। ফলে ব্যাংকের বিনিয়োগ সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণগ্রহণ বেড়ে গেলে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আরও কমে যাবে, যা কর্মসংস্থানের বাধা সৃষ্টিসহ জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে গত ৮ আগস্ট পর্যন্ত সরকার ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নিয়েছে ২৩ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে ৬ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা; আর বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে ১৭ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ব্যাংক খাতে সরকারের ঋণস্থিতি দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩১ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ৯১ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৪০ হাজার ৩৮৪ কোটি টাকা।

সরকারের ব্যাংক ঋণ প্রসঙ্গে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, ‘সরকার ব্যাংক ঋণ বেশি নিলে বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। কারণ ব্যাংকগুলো তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করে। এর মধ্যে সরকার ব্যাংক থেকে যদি বেশি ঋণ নেয় তাহলে বেসরকারি খাতে ঋণ কমে যাবে-এটাই স্বাভাবিক। এতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাবে।’ তাই নতুন বাজেটে ঘাটতি পূরণে ব্যাংক খাতের ওপর নির্ভলশীলতা কমিয়ে বৈদেশিক উৎস ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফান্ড, ইনফ্রাস্ট্রাকচার বন্ড ও অন্যান্য ফিন্যান্সিয়াল টুলসের ওপর জোর দেয়ার দাবি জানান ব্যবসায়ীদের এ শীর্ষ নেতা।

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ : সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’শিরোনামে ২০১৯-২০ অর্থবছরের পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করে সরকার। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে কর হিসেবে তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা আদায় করা যাবে বলে প্রত্যাশা করছে সরকার।

এদিকে বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা ধার করবে সরকার। এরমধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাতে তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার পরিকল্পনা ঠিক করা হয়েছে।

ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকার ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ (নিট) ২৮ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। আর স্বল্প মেয়াদি ঋণ (নিট) নেবে ১৯ হাজার ২৭০ কোটি টাকা।