বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dating App

২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্তও ভারত থেকে বাংলাদেশের রফতানি আয় ১০০ কোটি ডলারের নিচে ছিল। তবে সমাপ্ত অর্থবছর দেশটি থেকে রফতানি ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বিলিয়ন ডলারের রফতানি বাজারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে প্রতিবেশী দেশটি।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যের ভিত্তিতে রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিশ্বের প্রায় ২৫০ দেশে পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বিলিয়ন ডলারের বাজারগুলো থেকেই আসে মোট আয়ের ৭১ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রসহ শীর্ষ এ ১০ বাজারের মধ্যে আছে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, কানাডা, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ড। সদ্যসমাপ্ত অর্থবছর শেষে এ দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের নামও যুক্ত হয়েছে।

সূত্র অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রফতানির বিপরীতে দেশটি থেকে এসেছে ১২৪ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পণ্য রফতানি বাবদ ভারত থেকে এসেছিল ৮৭ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছর ভারত থেকে রফতানি আয় বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধি নিয়েই বাংলাদেশের নতুন বিলিয়ন ডলারের বাজারে পরিণত হয়েছে ভারত। এছাড়া গত অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের আরেকটি বিলিয়ন ডলারের রফতানি বাজার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পোল্যান্ড। সমাপ্ত অর্থবছরে পণ্য রফতানি বাবদ পোল্যান্ড থেকে এসেছে ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ৯১ হাজার ডলার।

ইপিবির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ভারত ও পোল্যান্ডসহ মোট ১১টি দেশে পণ্য রফতানি বাবদ বাংলাদেশে এসেছে ৩ হাজার ১৩ কোটি ৯৬ লাখ ৩৭ হাজার ডলার। এ হিসাবে মোট অর্থের ৭৪ শতাংশই এসেছে ১১টি দেশ থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৮৭ কোটি ৬২ লাখ ৯১ হাজার ডলার এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রফতানি বাজার জার্মানি থেকে এসেছে ৬১৭ কোটি ৩১ লাখ ৬৪ হাজার ও তৃতীয় বৃহত্তম রফতানি বাজার যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ৪১৬ কোটি ৯৩ লাখ ১৩ হাজার ডলার।

ভারতে বাংলাদেশ রফতানি করে, এমন পণ্যের মধ্যে আছে পোশাক শিল্পের ওভেন ও নিটওয়্যার, হোমটেক্সটাইল, কৃষিপণ্য, হিমায়িত খাদ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, কাঁচা পাট, পাটজাত পণ্য ও বাইসাইকেল।

গত অর্থবছরে ভারত থেকে রফতানি আয়ের সিংহভাগই এসেছে তৈরি পোশাক পণ্য থেকে। দেশটি থেকে মোট রফতানি আয়ের ৪০ শতাংশ এসেছে এ খাত থেকে। শুধু ভারত নয়, শীর্ষ ১১ দেশের সবগুলোতেই তৈরি পোশাকের রফতানিই বেশি।

রফতানিকারকদের সংগঠন এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বণিক বার্তাকে বলেন, ভারতে লো-এন্ডের পোশাক পণ্য বাংলাদেশ থেকে যাচ্ছে। এ পণ্যের হাত ধরেই মূলত ভারতে বাংলাদেশের বাজারটি সম্প্রসারণ হচ্ছে। এছাড়া সিরামিকসহ আরো বেশকিছু পণ্যের প্রবৃদ্ধিও ভালো। বাণিজ্য ভারসাম্য ভারতের সঙ্গে কখনই হবে না। কারণ বাংলাদেশ যে ধরনের পণ্য রফতানি করে, ভারত চাইলে তা না-ও নিতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ যেগুলো আমদানি করে, সেগুলো এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। তবে রফতানি বাজার আরো সম্প্রসারণে ঘাটতি কমিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, যা ইতিবাচক। ভারত ছাড়া আরেকটি বিলিয়ন ডলারের বাজার পোল্যান্ডে রফতানি সম্প্রসারণের কারণ হলো রাশিয়া। রাশিয়ায় শুল্ক ও অশুল্ক বাধায় বাংলাদেশ থেকে পোল্যান্ডে পণ্য যায়। এরপর তা রাশিয়ায় রফতানি হয়।

ভারত থেকে রফতানি আয় বৃদ্ধিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বাণিজ্যিক সম্পর্কের দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল। কারণ বাংলাদেশ ভারত থেকে যেসব পণ্য আমদানি করে, তার বেশির ভাগই শিল্পের কাঁচামাল। আর উৎপাদন সক্ষমতা না থাকায় মূল্য ওঠা-নামায় আমদানি কমানোর সুযোগ থাকে না। অন্যদিকে ভারত বাংলাদেশ থেকে যেসব পণ্য আমদানি করে, তা মৌলিক চাহিদার না হওয়ায় খরচ বেশি পড়লে তারা চাইলে এগুলোর আমদানি কমিয়েও দিতে পারে।

সূত্র অনুযায়ী, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ আরো কিছু এলাকায় বাংলাদেশের কৃষিজাত খাদ্যপণ্য, কসমেটিকস, প্লাস্টিকের পানির ট্যাংকের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের এসব পণ্যের উৎপাদক খুবই সীমিত। কৃষিজাত খাদ্যপণ্যের মূল রফতানিকারক প্রাণ। এছাড়া কসমেটিকস রফতানি করে কেয়া ও প্লাস্টিকের পানির ট্যাংক গাজী।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »