বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Dating App

স্পাই ড্রোন ভূপাতিত করার প্রত্যুত্তরে ইরানে হামলা চালানোর আদেশ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার ঘোষিত এ আদেশ অনুযায়ী হামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছিল মার্কিন সেনারা। তবে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে হামলা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে আপাতত সংঘর্ষ না বাধলেও উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশে আবারো ঘনিয়ে ওঠা যুদ্ধের আশঙ্কার মেঘ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। খবর রয়টার্স, বিবিসি ও এএফপি।

হোয়াইট হাউজের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী, গতকাল ভোরে হাতেগোনা কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন এ আদেশ প্রত্যাহার করে নেন, তখন হামলার প্রস্তুতি প্রাথমিক পর্যায়ে।

এ বিষয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ইরানের জনগণের প্রাণহানি ঠেকাতেই হামলার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি। গতকাল সকালে এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, মনুষ্যবিহীন গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে হামলা চালানো হলে তাতে ‘অসামঞ্জস্যহীন রকমের’ লোকক্ষয় ঘটতে পারত। এজন্যই হামলার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরানের ওপর এরই মধ্যে মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বড় ধরনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার এ নিষেধাজ্ঞার সীমা আরো সম্প্রসারিত করা হয়েছে।

তিনি জানান, ড্রোন ভূপাতিত করার জবাবে ইরানের তিন জায়গায় হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। সেক্ষেত্রে কমপক্ষে ১৫০ জনের প্রাণহানি ঘটত।

ট্রাম্প বলেন, হামলার ১০ মিনিট আগে আমি এটি থামিয়েছি। মনুষ্যবিহীন ড্রোন ভূপাতিত করার জবাব হিসেবে এটি খুব একটা সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। আমার কোনো তাড়া নেই। আমাদের সামরিক শক্তি এখন নতুনভাবে গড়ে উঠেছে এবং এখন পর্যন্ত এটিই বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ।

তেহরান জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল নাগাদ মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, যে সময় এটিকে গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছিল, সে সময় ড্রোনটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় অবস্থান করছিল।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আমির আলি হাজিজাদেহ জানান, স্পাই ড্রোনটি ভূপাতিত করার সময় এর কাছেই ৩৫ আরোহীসহ মার্কিন একটি সামরিক উড়োজাহাজ উড়তে দেখা গেছে। তিনি বলেন, আমরা এটিকেও ভূপাতিত করতে পারতাম। কিন্তু আমরা করিনি।

আপাতদৃষ্টিতে রক্তক্ষয়ী সংঘাত না হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সংঘাতের আশঙ্কা বিদ্যমান থাকায় এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর দিয়ে কোনো ধরনের ফ্লাইট পরিচালনা না করার ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, কান্তাস, সিঙ্গাপুর এয়ারওয়েজসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি এয়ারলাইনস প্রতিষ্ঠান।

জার্মানির লুফথানসার পক্ষ থেকেও এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালির বাইরে দিয়ে উড়োজাহাজ ঘুরিয়ে নেয়ার ঘোষণা এসেছে। একই ধরনের ঘোষণা দিয়ে ডাচ ক্যারিয়ার কেএলএম বলেছে, যাত্রীদের জানমালের নিরাপত্তা বিধান করাটাই এখানে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বিষয়।

এছাড়া কোনো মার্কিন নিবন্ধিত বাণিজ্যিক উড়োজাহাজকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের ওপর দিয়ে উড়িয়ে না নেয়ার জন্য বৈমানিকদের উদ্দেশে এরই মধ্যে নির্দেশনা জারি করেছে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। সংস্থাটির বিবৃতিতে এ নিয়ে বলা হয়, সামরিক কার্যকলাপ ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় সেখান দিয়ে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনা এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ট্যাংকারের ওপর হামলার জন্য ওয়াশিংটন ইরানকে দায়ী করার পর থেকেই দুই দেশ মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সম্প্রতি তেহরান ঘোষণা দিয়েছে, শিগগিরই নিজস্ব পারমাণবিক কার্যক্রমের আওতা আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত সীমার বাইরে নিয়ে যাবে ইরান। দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রমকে সীমিত করে আনার উদ্দেশ্যে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি থেকে গত বছর বেরিয়ে আসে যুক্তরাষ্ট্র। এর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে নিউইয়র্ক টাইমসে প্রথম এ হামলার প্রস্তুতির খবর প্রকাশ হয়। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার সময়েও (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী গতকাল ভোর ৫টা) মার্কিন সামরিক ও কূটনৈতিক কর্মকর্তারা নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অপেক্ষায় ছিলেন। মূলত ইরানি রাডার ও মিসাইল ব্যাটারি লক্ষ্য করে এ হামলা চালানোর কথা ছিল।

সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য অনুযায়ী, আকাশে উড্ডীন অবস্থায় ছিল যুদ্ধবিমান। যুদ্ধজাহাজও প্রস্তুত ছিল। যদিও একটি মিসাইল ছোড়ার আগেই হামলা না চালানোর আদেশ এল।

এদিকে ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এরই মধ্যে ইরানের কাছে হুঁশিয়ারি বার্তা পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প এ বার্তাও দিয়েছিলেন, তিনি যুদ্ধের বিরুদ্ধে। এবং বিভিন্ন বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ইচ্ছুক তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমসে হামলার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের খবর প্রকাশের কিছুক্ষণ পরই ওমানের মাধ্যমে এ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এক ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তার বার্তায় জানিয়েছেন তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিপক্ষে। এছাড়া তেহরানের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসতে ইচ্ছুক তিনি।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, এ বিষয়ে আমাদের প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য খুবই স্বল্প সময় বেঁধে দিয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু এ বিষয়ে ইরানের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হলো, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কেবল আমাদের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির।

ইরানি আরেক কর্মকর্তা বলেন, আমরা একটি বিষয় পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি, আমাদের নেতা কোনো ধরনের আলোচনার বিরুদ্ধে। কিন্তু এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য তার কাছে বার্তাটি পৌঁছে দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে আমরা বার্তাবাহক ওমানি কর্মকর্তাদেরও জানিয়ে দিয়েছি, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত যেকোনো হামলার ফল ভুগতে হবে।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »