প্রতিস্থাপন ছাড়াই কুবির প্রতিষ্ঠাকালীন ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙ্গে ফেললো প্রশাসন

কুমিল্লা

রাতের আধারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রতিষ্ঠাকালীন ভিত্তিপ্রস্তরটি ভেঙে ফেলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক সংলগ্ন ভিত্তিপ্রস্তরটি ভাঙ্গা শুরু করে কর্মরত শ্রমিকরা। প্রশাসনের নির্দেশেই তারা এই ভাঙার কাজ শুরু করে। এদিকে প্রতিস্থাপন না করে ফলকটি ভেঙে ফেলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীবৃন্দ। পাশাপাশি ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার উদ্বোধন করা এবং তার নামাঙ্কিত এই ভিত্তিপ্রস্তরটি ভেঙ্গে ফেলায় নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাস্তা সম্প্রসারণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ভিত্তিপ্রস্তরটি ভাঙা হচ্ছে যা পরবর্তীতে প্রতিস্থাপন করা হবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরের সাথে আমাদের অস্তিত্ব জড়িয়ে আছে। রাস্তার কাজে তা ভাঙার প্রয়োজন যদি হয় তবে তা আগে প্রতিস্থাপন করে তারপর ভাঙার প্রয়োজন ছিলো।’ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক আবুল বাশার জানান, ‘শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার করা ভিত্তিপ্রস্তরটি প্রতিস্থাপন ছাড়া ভেঙে ফেলেছে প্রশাসন। রাতের আঁধারে করা এই ধরনের কাজ নিন্দনীয়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা প্রশাসনের কাছে ভিত্তিপ্রস্তরটি প্রতিস্থাপনের দাবি জানাই।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. আবু তাহের বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ৪০ ফিটের রাস্তা ও সম্মুখে দৃষ্টিনন্দন গেইট নির্মাণ করা হবে। এই সম্প্রসারণ এবং সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ভিত্তিপ্রস্তরের বেদিটি ভাঙা হচ্ছে, তবে ফলকটি উঠিয়ে রাস্তার কাজ শেষে ঠিকঠাক প্রতিস্থাপন করা হবে।’ ভাঙার আগেই কেন প্রতিস্থাপন করা হয়নি এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রাস্তা নির্মাণের আগে থেকে অনুমানে প্রতিস্থাপন করা হলে সেটি অসুন্দর হতে পারে। তাই প্রতিস্থাপনের কাজটি পরে করা হবে। প্রয়োজনে নামফলকের লেখা যেগুলো উঠে গিয়েছে সেগুলো নতুন কালি করে দেওয়া হবে।’ উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভিত্তিপ্রস্তরটি স্থাপন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরবর্তী ২৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা পায়।