৬ বছরের মেয়ে শিশুকে হত্যার পর ধর্ষণ

শিশু ধর্ষণ

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ উত্তরাখণ্ডের হরিদর এলাকায় ছয় বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুকে হত্যার পর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক সিকিউরিটি গার্ডের বিরুদ্ধে। জঘন্য এ কাজের দায়ে হরিদর থেকে সন্দেহভাজন ওই ধর্ষককে গ্রেফতার করা হয়।

সোমবার রাজ্য পুলিশ বলছে, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন। শিশুটিকে হত্যার পর তার মরদেহের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএস বলছে, গত শুক্রবার হরিদরের একটি বস্তিতে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার সময় মেয়েটি নিখোঁজ হয়। পাশের একটি পোল্ট্রি ফার্মে সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতেন অভিযুক্ত সোনু। পরে তাকে লোভ দেখিয়ে গ্রামের পাশের একটি জঙ্গিলে নিয়ে যান তিনি।

সেখানে নেয়ার পর শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সোনু। কিন্তু শিশুটি কান্নকাটি করায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তার মরদেহের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন তিনি। হরিদরের জ্যেষ্ঠ পুলিশ সুপার জানমিজাই খান্দুরি আইএএনএসকে বলেন, আমরা এই অভিযোগ প্রমাণের জন্য সম্ভাব্য সব গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেছি।

‘শিশুটির সঙ্গে অন্য যারা খেলাধুলা করেছিল, তারা আমাদের জানিয়েছে যে, সর্বশেষ অভিযুক্ত সোনুর সঙ্গে তাকে দেখেছিল। তিনিও এই অভিযোগ স্বীকার করেছেন। আলামতে এই অপরাধের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।’

পুলিশ বলছে, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় শিশুটিকে বস্তি থেকে সরিয়ে জঙ্গলে নিয়ে হত্যার পর মরদেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয় অভিযুক্ত সোনু।

পুলিশ সুপার জানমিজাই খান্দুরি বলেন, ‘স্বীকারোক্তিতে সোনু বলেছেন, তিনি প্রথমে শিশুটিকে হত্যা করেন এবং পরে তার মরদেহের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ইতোমধ্যে সংগৃহীত সব আলামত পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে।’

পুলিশ বলছে, শিশুটির দিনমজুর বাবা-মা যেখানে কাজ করতেন সেই মাঠ থেকে মাত্র ৬০০ মিটার দূরে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। শিশুটির বাবা-মা উত্তরপ্রদেশের বিজনোর এলাকার বাসিন্দা। শনিবার সকালের দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের পরপর অভিযুক্ত ওই সিকিউরিটি গার্ডকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে ১৪ দিনের পুলিশি জিম্মায় নেয়া হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরো এক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনেছে শিশুটির পরিবার। তারা বলেছেন, গত সপ্তাহে অভিযুক্ত সোনু ও ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে তাদের।

শিশুটির এক আত্মীয় বলেন, ‘তিনদিন আগে সিকিউরিটি গার্ড সোনু ও অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে আমাদের ঝগড়া হয়। এর পর থেকে গত তিনদিন আমরা মাঠে যাই না। কিন্তু এর মাঝেই তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটালো। আমি জানি না, কেন সোনুর সহযোগীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।

পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত দ্বিতীয় সন্দেহভাজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।