বার্তাবাংলা ডেস্ক »

রাজনীতির মাঠে সরব থাকা তো দূরের কথা, দুই বছরের অধিক সময় পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেনি বিএনপির (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) অঙ্গ-সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। এতে সংগঠনটির সম্ভাব্য নেতাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। তবে দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ চলছে। শিগগিরই তা ঘোষণা হবে।

২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি সাইফুল আলম নীরবকে সভাপতি ও সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার নির্দেশনা দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবদলের বিগত কমিটির এক নেতা (যিনি নতুন কমিটির সম্পাদকীয় পদপ্রত্যাশী) , ‘সিন্ডিকেট রাজনীতিতে আটকে গেছে যুবদল। যোগ্যতা নয়; পারিবারিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করতেই তারেক রহমানের বন্ধু হিসেবে পরিচিত গিয়াস উদ্দিন মামুনের খালাতো ভাই নীরব ও আব্দুস সালাম পিন্টুর ভাই হিসেবে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।’

‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় নীরবকে সভাপতি করার ঘোর বিরোধী ছিলেন। ম্যাডামকেও বিষয়টি নিয়ে তার মতামত জানিয়েছিলেন। কিন্তু সিন্ডিকেটের কাছে গয়েশ্বর রায়কে হার মানতে হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সানাউল হক নীরু, খায়রুল কবির খোকন, নাজিম উদ্দিন আলম, ফজলুল হক মিলন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি- এসব নেতাদের থেকে একজনকে সভাপতি এবং কামরুজ্জামান রতন, খোন্দকার আবু আসফাক, আব্দুস সালাম আজাদ- এদের মধ্য থেকে কাউকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে যুবদল আরও গতিশীল হতো।’

‘এছাড়া মহানগর যুবদলের সন্তোষজনক কর্মকাণ্ডে মামুন হাসানকে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। ছাত্রদলে পদবঞ্চিত থাকায় নুরুল ইসলাম নয়নকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ক্লিন ইমেজ থাকায় মোরতাজুল করিম বাদরুকে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়। কিন্তু যুবদলের মতো সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব হওয়ার জন্য দেশব্যাপী যে পরিচিতি থাকা দরকার সেটি বাদরু ও নয়নের মধ্যে নেই।’

যুবদলের প্রচার সম্পাদক পদপ্রত্যাশী আরেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে , ‘সাইফুল আলম নীরব ঢাকা মহানগর কেন্দ্রিক রাজনীতি করছেন। বেশ কর্মীবান্ধবও ছিলেন। কিন্তু যুবদলের সভাপতি হওয়ার পর তিনি তার নিজস্বতা হারিয়ে ফেলেছেন। থাকেন অন্ধকারে, কোনো কর্মসূচিতে দেখা যায় না। বিশেষ করে নির্বাচনে মনোনীত হলেও তাকে মাঠে দেখা যায়নি। শোনা যায়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও যুবলীগের ঢাকা মহানগর একাংশের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন সম্রাটের সঙ্গে আঁতাত করে তিনি রাজনীতি করছেন।’

যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পরিবর্তে নতুন কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘কমিটির মেয়াদ তো শেষ হতে চললো। তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারে নাই। ঢাকা মহাগর উত্তর যুবদলের কার্যালয় থাকে তালাবদ্ধ। নেতাকর্মীদের পদচারণা নেই সেখানে, ভরে গেছে মাকড়শার জালে।’

যুবদলের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন  ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ চলছে। শিগগিরই ওই কমিটি ঘোষণা হবে।’

পূর্ণাঙ্গ কমিটি এতদিনেও গঠন করা সম্ভব হয়নি কেন- এমন প্রশ্নে নয়ন বলেন, ‘অন্য সব কমিটি হয়েছে। ৮২টি ইউনিটের মধ্যে ৮০টি কমিটি হয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি ইউনিটে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি কমিটিগুলো কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠন করার জন্য হাইকমান্ডের নির্দেশ রয়েছে। এ বিষয়ে আমাদেরও নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) লন্ডন গেলেন, পরে কারাগারে। সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু কারাগারে। এসব কারণে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়নি। তবে এখন কমিটি গঠনের কাজ চলছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বলেন, ‘শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা হবে।’ কবে নাগাদ হবে, কোনো টাইম ফ্রেম আছে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘টাইম ফ্রেম দিয়ে রাজনীতি হয় না। শিগগিরই গঠন করা হবে।’

এতদিনে কমিটি গঠন হয়নি কেন- জানতে চাইলে নীরব বলেন, ‘দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সবাই জানে যে, কী কারণে কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি।’

যুবদলের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের কাছে জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

 

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »