বার্তাবাংলা ডেস্ক »

সাগরে ফেলা প্লাস্টিক বর্জ্য খেয়ে আবারও মৃত্যু হয়েছে এক তিমির। গত সপ্তাহে ইতালির সার্ডিনিয়া সৈকতের কাছে ভেসে আসা ওই মৃত তিমির পেটে মিলেছে ২২ কেজি প্লাস্টিক।

দেশটির পরিবেশ মন্ত্রাণালয় ও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর এক মাস আগে ফিলিপাইন উপকূলে ভেসে আসা একটি মৃত তিমির পেট থেকে বের করা হয়েছিল ৪০ কেজি প্লাস্টিক।

ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রেসিডেন্ট লুকা বিটাও বলেন, কী ছিল না তিমিটির পেটে! জঞ্জালের ব্যাগ, মাছ ধরার জাল, পাইপ, এমনকি ওয়াশিং মেশিনের ব্যাগ যার বারকোড আর ব্র্যান্ড-নামটিও অটুট রয়েছে। আরও অনেক কিছু রয়েছে, যা এখনও চিহ্নিত করা যায়নি।

তিনি জানান, প্রায় ৮ মিটার লম্বা তিমিটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল। তবে ওই উপকূলে আছড়ে পড়ার বেশ কিছু আগে গর্ভস্থ ভ্রূণটি মারা যায়। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন একদল পশুচিকিৎসক।

ইতালির পরিবেশমন্ত্রী সের্গিয়ো কোস্টা এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘এখনও এমন কেউ কি আছেন, যিনি বলবেন এটা তেমন কোনো সমস্যা নয়। আমার কাছে এটা সমস্যা এবং তা খুবই গুরুতর।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গত কয়েক বছর ধরে নিজেদের সুবিধার জন্য যেভাবে প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত জিনিসপত্র ব্যবহার করে চলেছি, তারই ফল ভুগতে হচ্ছে আমাদের। সব চেয়ে বেশি ভুগছে জীবজন্তুরা।’

সম্প্রতি ইউরোপীয় পার্লামেন্টে পাশ হওয়া একটি একটি বিলে বলা হয়েছে- ২০২১ সালের মধ্যে স্ট্র থেকে শুরু করে ‘কটন বাড’ এমনকি প্লাস্টিকের চামচ- সব ধরনের প্লাস্টিক ও প্লাস্টিকজাত পণ্যের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।

এর প্রেক্ষিতে ইতালির পরিবেশমন্ত্রী কোস্টা জানিয়েছেন তার দেশ ওই আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা নেবে । তিনি বলেন, ‘প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে। আমারা সহজে থামছি না।’ সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »