রজব মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ৫ ঘটনা

রজব

ইসলামি ক্যালেন্ডারের আরবি (হিজরি) বছরের চার পবিত্র মাসের একটি হলো ‘রজব’। এটা শান্তি ও নিরাপত্তার মাস। এ মাসের সব ধরনের কলহ, যুদ্ধ ও রক্তক্ষয়ী যে কোনো কাজই নিষিদ্ধ।

রজব সেই মাস, যে মাস শাবান ও রমজান মাসকে প্রকাশ করে। রমজানের প্রস্তুতি শুরু করার তাগিদ দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন-
‘নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টির দিন থেকে আল্লাহ তা’আলার বিধান ও গণনায় মাস বারটি। তন্মধ্যে চারটি সম্মানিত। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান; সুতরাং এর মধ্যে তোমরা নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।’ (সুরা তাওবাহ : আয়াত ৩৬)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রজব মাসের চাঁদ দেখতেন তখন থেকেই এ প্রার্থনা শুরু করতেন-
اَللهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِىْ رَجَبَ وَ شَعْبَانَ وَ بَلِّغْنَا رَمَضَانَ
উচ্চারণ : ‘আল্লাহুম্মা বারাকলানা ফি রাজাবা ওয়া শাবান; ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’
অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনি রজব ও শা’বান মাসকে আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদেরকে রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দেন অর্থাৎ রমজান পর্যন্ত হায়াত বৃদ্ধি করে দেন, যাতে আমরা রমজানের বরকত থেকে উপকৃত হতে পারি)।

ইসলামের ইতিহাসে রজব মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক ৫ ঘটনা
এ মাসে তিনি পবিত্র মেরাজ সংঘটিত করেছিলেন। আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পবিত্র নগরী মক্কা থেকে বায়তুল মুকাদ্দাস ভ্রমণ করিয়েছেন এবং একান্ত সাক্ষাতের জন্য তাঁর কাছে ডেকে নিয়েছেন। যা ছিল ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য তাঁর শ্রেষ্ঠ মুজিজা।

এ মাসের সংঘটিত মেরাজে আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উপহারস্বরূপ ৫ ওয়াক্ত নামাজ দান করেছেন। যার ফলে মুসলিম উম্মাহ আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে প্রতিদিনি ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে।

প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সর্বশেষ যুদ্ধ ‘তাবুক যুদ্ধ’। যা হিজরি ৯ সালের রজব মাসে সংঘটিত হয়। ইসলামে ইতিহাসে শক্তিশালী যুদ্ধগুলোর মধ্যে এটি ছিল একটি। রজব মাসে সংঘটিত তাবুক অভিযানে বিনা যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করে।

মসজিদে আকসা স্বাধীনতা লাভ করে এ রজব মাসে। ৫৮৩ হিজরির রজব মাসে মুসলিম সেনাপতি সালাহ উদ্দীন আইয়ুবী খ্রিস্টান ক্রসেডদের সঙ্গে যুদ্ধ করে মসজিদে আকসাকে মুক্ত করেন।

ইসলামি খেলাফতের অবসানও হয় এ রজব মাসে। ১৩৪২ হিজরির ২৮ রজব কার্যত খেলাফতের যুগের অবসান হয়ে যায়। খেলাফতের শেষ সুলতান দ্বিতীয় আব্দুল মজিদ খেলাফত ছেড়ে দেশ ত্যাগ করেন।

রজব মাস হোক সবার জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার মাস। রমজানের প্রস্তুতির মাস। মুসলিম উম্মাহর উচিত এ মাসের বরকত লাভ এবং ঐতিহাসিক শিক্ষা ও উপহারগুলো গ্রহণ করে নিজেদের তৈরি করা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এ মাসের সব ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে বছরজুড়ে শান্তি নিরাপত্তা লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।