মুসলিম নারীরা হিজাব পরবে কেন

হিজাব

নারীরা কাপড়ের একটি টুকরো মাথায় পরছে, আর তাতে সম্প্রতি সময়ে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হচ্ছে। কোনো কোনো দেশে তা পরতে আইন করা হচ্ছে, কোনো কোনো দেশে তা পরতে সাধারণ অনুমতি দেয়া হচ্ছে আবার কোনো কোনো দেশে তা নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

কিন্তু এ হিজাব কী? মুসলিম নারীরা কেন হিজাব পরছে? মুসলিম নারীদের পরা ছোট্ট এক টুকরো কাপড় ‘হিজাব’ বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ওঠে আসছে কেন?

সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের ২ মসজিদে হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাথায় তুলে নিয়েছেন প্রতীকী হিজাব। শুধু তাই নয়, গত ২২ মার্চ শুক্রবার পুরো নিউজিল্যান্ডের নারীরা প্রতীকী হিজাব পরে ‘সম্প্রীতির জন্য হিজাব’ নামে কর্মসূচি পালন করে।

নিউজিল্যান্ডের ‘সম্প্রীতির জন্য হিজাব’ কর্মসূচি কি প্রমাণ করে না যে, হিজাব শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতীক? আর তা যদি না-ই হবে তবে ১৫ মার্চ সন্ত্রাসী হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিশ্বব্যাপী হিজাব পরিধানের মাধ্যমে কেন সম্প্রীতির মেলা বন্ধনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে?

আসলেই হিজাব কী? তা পরে কেন?
হিজাব পরার সহজ উত্তর হলো, নারীর জন্য পবিত্রতার প্রতীক হলো হিজাব। এটি নারীর জন্য মহান আল্লাহর বিধান। তিনি প্রত্যেক ঈমানদার নারীর জন্য হিজাব পরাকে আবশ্যক করেছেন। ঈমানদার নারীরা আল্লাহর বিধান পালনে তা পরতে বাধ্য।

এ হিজাব নারীর শালীন চলাফেরা ও নিরাপত্তার কার্যকারী উপায়। হিজাব পরলে নারী-পুরুষের মাঝে শালীন অনুভূতি কাজ করে। আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে ঈমানদার নারীকে হিজাব পরতে নির্দেশ দিয়ে বলেন-
‘তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না তাদের দেহের (বুকের) ওপর ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভাইয়ের পুত্র, বোনের পুত্র, অধিকারভূক্ত নারী দাসী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ ও বালক, যারা নারীদের গেপান অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতিত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে।’ (সুরা নুর : আয়াত ৩১)

এ আয়াতের ভিত্তিতে ইসলামিক স্কলারদের অভিমত হলো ঈমানদার নারীর জন্য হিজাব পরা বাধ্যতামূলক।

মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ ‘হিজাব’কে ড্রেস কোড হিসেবে ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে। কাতার ও সৌদি আরব তাদের অন্যতম।

তবে বিশ্বব্যাপী অধিকাংশ দেশেই মুসলিম নারী হিজাবে মাথা ও দেহ ঢাকবে কি খোলা রাখবে তা স্বাধীন ইচ্ছার ওপর চলছে। অথচ মহান আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে মুসলিম নারীকে অবশ্যই হিজাব পরিধান করতে হবে। রক্তের সম্পর্কে আত্মীয় ছাড়া কারো সামনেই হিজাব ব্যতিত যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মনে রাখতে হবে
হিজাব মানে স্কার্ফ নয়। আর শুধু স্কার্ফ পরলেই হিজাব পরার হক আদায় হবে না। কারণ হিজাব নারীদের শোভন পোশাককেও ঢেকে রাখে। যার সৌন্দর্য বাইরে প্রকাশ পায় না। আর তা অন্য পুরুষের সামনে প্রকাশ না করার বিধান জারি করেছেন মহান আল্লাহ তাআলা।

নারীদের সুন্দর ও চমৎকার পোশাকগুলো যদি হিজাবে ঢাকা না থাকে তবে তাকে হিজাব পরিধান বলা যায় না। যখনই আকর্ষনীয় ও সুন্দর পোশাকগুলো হিজাবে ঢাকা থাকে তখনই বলা হয়ে থাকে যে, হিজাব পরা হয়েছে।

কেননা হিজাবের আক্ষরিক অর্থই হলো আবরণ বা পর্দা করা। এ হিজাবই অপরিচিত নারী-পুরুষের মাঝে নৈতিক সীমানা প্রাচীর তৈরি করে।

এ অর্থে স্কার্ফকে হিজাব থেকে আলাদা করা হয়েছে। আর এ হিজাব পরলেই বাহ্যিক দৃষ্টিতে নারী হয়ে ওঠে শালীন ও বিনয়ী। আর তা আন্তরিকভাবে পরিধানে শালীন ও বিনয়ীর বাস্তব চরিত্র ফুটে ওঠে। এ কারণেই আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তার স্ত্রী, কন্যা ও মুসলিম নারীদের ব্যাপারে হিজাব পরার নির্দেশ দিয়ে বলেন-

‘হে নবি! আপনি আপনার স্ত্রী, কন্যা এবং মুমিনদের স্ত্রীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিংদাংশ নিজেদের ওপর টেনে দেয়। েএতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।’ (সুরা আহজাব : আয়াত ৫৯)

সুতরাং হিজাব নারীদের প্রতি চাপিয়ে দেয়া কোনো বৈষম্যমূলক বিষয় নয়। বরং হিজাব পরলে নারীরা থাকে নিরাপদ। কর্মক্ষেত্রসহ সব স্থানে সম্মান ও নিরপত্তা বেশি পায়। আর এ কারণেই যে সব নারী সচেতন তারা নিজ থেকেই ইসলাম বিধান মেনে হিজাব পরে।

যেসব দেশে হিজাব পরে ভ্রমণও নিষিদ্ধ
আমেরিকায় হিজাব অবমাননার দায়ে স্কুল শিক্ষিকা বহিষ্কৃত
আমেরিকান আর্মিতে দাড়ি পাগড়ি ও হিজাবের অনুমতি

জোরপূর্বক প্রভাব খাটিয়ে হিজাব পরতে নারীকে বাধ্য করা নয়, নিজের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় হিজাব পরা নারীর জন্য একান্ত প্রয়োজন। এতে নারীরা যেমন নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সম্মান লাভ করবে আবার আল্লাহর বিধান পালনেও তারা হবে একনিষ্ঠ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহর সব নারীকে হিজাব পরার তাওফিক দান করুন। শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা লাভের পাশাপাশি আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের তাওফিক দান করুন। আমিন।