শনাক্তের বাইরে ২৬ শতাংশ যক্ষ্মা রোগী

যক্ষ্মা

দেশে বর্তমানে ২ লাখ ৬৭ হাজার ২৭৬ জন যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শিশু যক্ষ্মারোগী ১১ হাজার ৩৫২ জন। তবে দ্রুত নগরায়ণ, কর্মজীবী মানুষের স্থানান্তর, জিন-এক্সপার্ট মেশিনের (দ্রুত যক্ষ্মা শনাক্ত করার যন্ত্র)) অপ্রতুলতা, জনসাধারণের মাঝে অসচেতনতা ও কুসংস্কারসহ বিভিন্ন কারণে এখনও ২৬ শতাংশ যক্ষ্মা রোগী শনাক্তের বাইরে।

শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস ২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি, স্বাস্থ্য অধিদফতর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ব্র্যাক ও অন্যান্য সহযোগী সংস্থাসমূহ যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে যক্ষ্মা প্রতিরোধে সাফল্য ও অভিজ্ঞতার আলোকে ভবিষ্যতে করণীয় তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবারের যক্ষ্মা দিবসের স্লোগান- এখনই সময় অঙ্গীকার করার, যক্ষ্মামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. শামিউল ইসলাম। এতে মূল প্রবন্ধ তুলে ধরেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ডিআর-টিবির মুখ্য কর্মকর্তা ডা. নাজিস আরেফিন সাকি। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির (এনটিপি) সহকারি পরিচালক আফজালুর রহমান।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডেমিয়েন ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর অং কাই জাই মগ, ব্র্যাকের কমিউনিকেবল ডিজিজেস কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. আকরামুল ইসলাম ও সহযোগী পরিচালক ডা. মাহফুজা রিফাত, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ডাইরিয়াল ডিজিজ রিসার্চ, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) প্রতিনিধি ডা. সায়েরা বানু, ন্যাশনাল এন্টি টিউবারকিউলসিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নাটাব) প্রেসিডেন্ট মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৮ সালের গ্লোবাল টিবি রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে এমডিআর যক্ষ্মারোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৪০ জন। বাংলাদেশে প্রতি বছর লাখে ২২১ জন নতুন করে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়। এতে মৃত্যু হয় ৩৬ জনের। তাই এ রোগ নির্মূলে জনসাধারণের সচেতনতার পাশাপাশি অত্যাধুনিক জিন-এক্সপার্ট মেশিনের সংখ্যা ও ব্যবহার বাড়ানো উচিত।

ডা. শামিউল ইসলাম বলেন, এই রোগ নির্মূল করতে ২০১৫ সালের তুলনায় ২০৩৫ সালে যক্ষ্মায় মৃত্যুর হার ৯৫ শতাংশ ও প্রকোপের হার ৯০ শতাংশ কমিয়ে আনতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সঙ্গে ব্র্যাকসহ ২৫টি বেসরকারি সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

ড. মো. আকরামুল ইসলাম বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে সঠিকভাবে রোগ শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের নিয়মিত ওষুধ খাওয়া জরুরি। এজন্য রোগীদের আরও সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। এগুলো হল- চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত হাসপাতাল না থাকা, চিকিৎসা সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দক্ষ ব্যক্তির স্বল্পতা, দুর্গম ও চরাঞ্চলে সহজে চিকিসা সেবা দিতে না পারা, প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে রেফার করে যক্ষ্মা রোগীকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে না পাঠানো, জিন-এক্সপার্ট মেশিনের স্বল্পতা, গার্মেন্ট বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সহজে চিকিৎসা সেবার প্রবেশগম্যতা না থাকা ইত্যাদি।

এদিকে যক্ষ্মা দিবস উপলক্ষে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি ও ব্র্যাক অন্যান্য সহযোগী সংস্থাসমূহ আগামীকাল (রোববার) এক শোভাযাত্রার আয়োজন করেছে। শোভাযাত্রাটি সকাল ৭টায় রাজধানীর শাহবাগের জাতীয় যাদুঘরের সামনে থেকে শুরু হয়ে রমনা পার্ক, হাইকোর্ট, প্রেস ক্লাব হয়ে পুনরায় জাতীয় যাদুঘরের সামনে গিয়ে শেষ হবে। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে টেলিভিশন চ্যানেলে থাকছে বিশেষ টক শো ও প্রামাণ্যচিত্র সম্প্রচার।