বার্তাবাংলা ডেস্ক »

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জনবল সংকট ও অপর্যাপ্ত ওষুধের কারণে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের চিকিৎসাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। সংকট থাকলেও সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন জেলায় কর্মরত পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। জেলার ৮০ ভাগ মানুষ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ থেকে বিভিন্ন সেবা পাচ্ছেন। এ বিভাগ থেকে সেবা নেয়ার কারণে মা ও শিশু মৃত্যুহার কমেছে বলে দাবি জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নে কর্মরত মাঠ কর্মী শ্রীমতি রানী চৌধুরী ও মহারাজপুর ইউনিয়নের সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সপ্তাহে তিন দিন কমিউনিটি ক্লিনিকে একদিন স্যাটেলাইট ক্লিনিকে এবং অন্য সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে গর্ভবতী মায়েদের খোঁজ নিয়ে পরিবার পরিকল্পনা সেবা কেন্দ্রে গিয়ে নিরাপদভাবে সন্তান প্রসবের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হয়।

তারা জানান, এক সময় পরিবার পরিকল্পনার সেবা নিতে মানুষ অনাগ্রহ প্রকাশ করতো। কিন্তু কমিউনিটি ক্লিনিকসহ পরিবার পরিকল্পনার মাঠ কর্মীদের মাধ্যমে সেবা নেয়ার ফলে পরিকল্পিত পরিবার গঠন এবং গর্ভবতী মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমে যাওয়ায় অনেক দম্পতি এখন নিজ থেকে আগ্রহ করে পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সেবা নিচ্ছেন।

সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. গোলাম কবির জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি প্রতি দুই মাস পর পর আলোচনা করে মাঠ কর্মীদের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার লক্ষে কাজ করেন। এছাড়া প্রতিমাসের ২৫ তারিখের মধ্যে পরবর্তী মাসের করণীয় সম্পর্কে অগ্রিম কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের বাড়িতে সন্তান প্রসব না করিয়ে পরিবার পরিকল্পনার যে সব সেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে গিয়ে সন্তান প্রসবে উৎসাহিত করেন মাঠ কর্মীরা। মানুষ আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন হওয়ায় গর্ভবতী মা এবং শিশুর মৃত্যুর হার অনেকটাই কমে গেছে।

তিনি আরও জানান, যে সব দম্পতি দুইটির অধিক সন্তান না নেয়ার জন্য স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তাদের ওই ব্যবস্থার যাবতীয় খরচ সরকার দিয়ে থাকে। এছাড়াও তাদের নগদ অর্থ প্রদান করা হয়।

চাঁপাইনবাবঞ্জ জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের উপ-পরিচালক ডা. আব্দুস সালাম জানান, জনবল সংকটের কারণে পরিবার পরিকল্পনার সেবা কিছুটা ব্যাহত হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সেবা দেয়ার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ২৬৮ জন মাঠকর্মীর বিপরীতে রয়েছেন ১৬৩ জন। শূন্য পদ রয়েছে ১০৫টি। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শক ৫৭ জনের বিপরীতে রয়েছেন ৪২ জন। শূন্য পদ রয়েছে ১৫টি। এছাড়াও ওষুধসহ অন্যান্য উপকরণ বরাদ্দ রয়েছে প্রয়োজনের তুলনায় কম। অন্যদিকে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার পদটিও ফাঁকা রয়েছে। এসব কারণে সেবার মান কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, জেলার ৩ লাখ ৭১ হাজার ৬৭৫ জন সক্ষম দম্পতির মধ্যে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৬৮৩ জন পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সেবা নিয়ে থাকেন। যা শতকরা ৮০ দশমিক ০৯ ভাগ। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৭৪৮ জন অধিক সন্তান না নেয়ার জন্য স্থায়ী পদ্ধতি ও ৪১ হাজার ৬২০ জন পুরুষ অস্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করেন।

তিনি আরও জানান, প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারির গুরুত্ব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এ বিভাগে কর্মরতরা। পরিবার পরিকল্পনার সেবা নেয়ার কারণে মা ও শিশু মৃত্যুহার অনেকাংশে কমে আসছে।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »