বার্তাবাংলা ডেস্ক »

BATAবার্তাবাংলা রিপোর্ট :: তামাকজাত দ্রব্যের মোড়কে দুর্বল সতর্কবাণী, স্বল্পমূল্য, তামাকের ক্ষতিকর বিষয় ও আইন সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এবং আইন বাস্তবায়ন দুর্বলতার কারণে বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার বেড়ে চলেছে। তামাকের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন পাসের পর এ পর্যন্ত চিহ্নিত দুর্বলতাগুলো দূর করতে যে খসড়া সংশোধনী প্রস্তুত করা হয়েছে, তা ইতোমধ্যে মন্ত্রীসভা অনুমোদন করেছে। জনস্বাস্থ্য উন্নয়নসহ তামাকজনিত মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের বোঝা এবং এর ফলে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনতে সংশোধনী বিল আগামী সংসদ অধিবেশনেই পাস করতে হবে।

আজ সকাল ১১টায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সচিবালয়ে (ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট কার্যালয়, বাড়ি ৪৯, সড়ক ৪/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা) অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা উপরোক্ত আহবান জানান। জাতীয় যক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (নাটাব) এর কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সাগুফতা সুলতানা’র সভাপতিত্বে সভায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) ২০১৩ এর খসড়া প্রণয়ন উপ-কমিটির সদস্য এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।

সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের সমন্বয়কারী সাইফুদ্দিন আহমেদ, সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিলন, একশান ইন ডেভেলপমেন্ট (এইড) এর নির্বাহী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বকুল, একলাব এর পরিচালক মো. শামসুল আলম, জাতীয় অধূমপায়ী ফোরাম এর সহ-সভাপতি এ এম মহিদুল ইসলাম দাদা, র‌্যাক এর নির্বাহী পরিচালক এটিএম শহিদুল ইসলাম, বাদশা’র নির্বাহী পরিচালক এডভোকেট মো. মাহবুব আলম প্রমুখ।

এডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম বলেন, যেহেতু খসড়া ইতোমধ্যে চুড়ান্ত হয়েছে সেহেতু সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আগামী সংসদে পাসে আর কোন বাধা নেই। তবে তামাক কোম্পানিগুলো নানারকম ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। বিশেষ করে, তামাক কোম্পানির প্রতারণামূলক সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি যাতে বন্ধ না হয়, সেজন্য বিভ্রান্তকর প্রচারণা অব্যাহত রেখেছে। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মীসহ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে যেন আইন সংশোধনে আর বিলম্ব না হয়।

বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের আহবানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ঢাকার সব অনুষ্ঠানকে ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করে সব ধরনের প্রচারে “ধূমপানমুক্ত” সংযুক্ত করায় ডিএমপি’র কমিশনার বেনজীর আহমেদ-সহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানানো হয়। সভায় পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান ধূমপানমুক্ত রাখতে নগরবাসীর প্রতি আহবান জানানো হয়।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান ইবনুল সাঈদ রানা, নলেজ ট্রাস্ট এর সদস্য সচিব বিধান চন্দ্র পাল, সিরাক বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত, গ্রীণ মাইন্ড সোসাইটির চেয়ারম্যান মো. আমির হোসেন, সারডা’র নির্বাহী পরিচালক মুরাদ ভূঁইয়া, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট এর ন্যাশনাল এডভোকেসি অফিসার সৈয়দা অনন্যা রহমান প্রমুখ।

বক্তারা সব ধরনের তামাককে করের আওতায় আনা এবং বিড়ি-সিগারেটসহ সব ধরনের তামাকের উপর উচ্চহারে কর বৃদ্ধির দাবি জানান। বক্তারা বলেন, তরুণ প্রজন্মকে ধূমপানসহ তামাক সেবনে নিরুৎসাহিত করতে সব ধরনের তামাকের উপর কর অবশ্যই বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কমপক্ষে ২% স্বাস্থ্যকর হিসাবে ধার্য করে তামাক কোম্পানির কাছ থেকে তা আদায় করতে হবে এবং এ অর্থ তামাক বিরোধী কার্যক্রমে ব্যয় করা যেতে পারে।
সভায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের পক্ষে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস (৩১ মে ২০১৩) উদযাপনের প্রস্তুতিগ্রহণকল্পে ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠিত হয়।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »