বর্ণিল সাজে বর্ষবরণ প্রস্তুতি » Leading News Portal : BartaBangla.com

বার্তাবাংলা ডেস্ক »

borsoboron 1420বার্তাবাংলা ডেস্ক :: পুরাতন জীর্ণ যা কিছু চলে যাবে। নতুন দিনের সূচনা হবে। কড়া নাড়ছে দরজায়। নুতনকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশবাসী। চারদিকে নতুন দিনের আগমনী গান। ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বর্ণিল সাজে বর্ষবরণে প্রস্তুত হচ্ছে গোটা দেশ। বাঙালির সর্বজনীন এ উৎসব ঘিরে আয়োজনের কমতি নেই। মঙ্গল শোভাযাত্রা, হালখাতা, বৈশাখী মেলা কি নেই আয়োজনে। নতুন বছর বরণে নতুন পরন থাকবে না তা কি হয়? নতুন পোশাকে। বর্ষবরণে সকল বয়সীরা সাজবে বাঙালি বসনে, সাদা-লাল রঙিন করে তুলবে উৎসব প্রাঙ্গণ। রাজধানীর বিপণিবিতানগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে বৈশাখী আয়োজনে। বাঙালির সর্বজনীন এ উৎসবে ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের ভেদাভেদ ভুলে সবাই শামিল হন বর্ষবরণে। দেশীদশ-এর ফ্যাশন হাউজসহ রাস্তার মোড়ের বুটিক হাউজগুলোতেও বৈশাখী ছোঁয়া। বসুন্ধরার দেশীদশ, শাহবাগ আজিজের ফ্যাশন বাজার, বনানী ১১নং রোডের ফ্যাশন রোড, মিরপুর দশের ফ্যাশন বাজারসহ রেডিমেট মার্কেট, নিউ মার্কেট- সব মার্কেটেই লেগেছে বৈশাখের ছোঁয়া। বাজার ঘুরে দেখা যায়, নতুন বর্ষে লাল-সাদার পাশাপাশি অন্যান্য উজ্জ্বল রঙে রঙিন করে পোশাককে উপস্থাপন করা হয়েছে। কোন কোন ফ্যাশন হাউস বৈশাখে বিশেষ থিম নিয়ে কাজ করেছে। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন অনুষঙ্গ, মোটিভ, ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর ডিজাইন স্থান পেয়েছে পোশাকে। শুধু তাই নয়, সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্ম বিষয়গুলোও উঠে এসেছে পোশাকে। প্রাচীনকালের বিভিন্ন স্থাপনার নকশা, রঙিন হাত পাখার নকশা, নকশি কাঁথার নকশা, গ্রামবাংলার গ্রামীণ জীবনের প্রতিকৃতি সবকিছুই উঠে এসেছে বৈশাখের পোশাকে। শুধু ডিজাইনেই দেশীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া নয়। বৈশাখের পোশাকগুলোতেও রয়েছে বাঙালি সংস্কৃতির সুস্পষ্ট ছোঁয়া। আর থাকবেই না বা কেন, বৈশাখ তো বাঙালির প্রাণের উৎসব। বৈশাখের ফ্যাশনপাড়া ঘুরে দেখা গেল নারীদের পোশাকের ক্ষেত্রে শাড়ির চাহিদা বেশি। শাড়িগুলো সুতি ও তাঁতের উপর বিভিন্ন কারুকাজ করা। দামের দিক থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে চলছে লং কামিজের ফ্যাশন আর তাই এ বিষয়টি মাথায় রেখে কামিজ লং রাখার প্রবণতা বেড়েছে। পাশাপাশি বৈশাখের কামিজগুলোতে লেস, ঝালর যোগ করে আনা হয়েছে বাড়তি সৌন্দর্য। লং কামিজের পাশাপাশি এবারের বৈশাখে ঘের দেয়া কামিজের উপস্থিতিও লক্ষণীয়। যেহেতু বাজারে লং কামিজের চল, তাই চুড়িদার সালোয়ারটা বেশ ভাল চলছে। কামিজের সর্বোচ্চ দাম ৫ হাজার এবং সর্বনিম্ন ১৫শ’। এছাড়া রয়েছে- জিন্স, ধুতি, পায়জামা এবং শর্ট টাইসগুলো। ফ্যাশন হাউস “রঙ” প্রতি বছর বাঙালি সংস্কৃতির বিভিন্ন ব্যবহারিক জিনিস, ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করে থাকে। সে ধারাবাহিকতায় এ বছর ফ্যাশন হাউস ‘রঙ’ নকশিকাঁথা নিয়ে কাজ করেছে। গ্রামবাংলার গাঁয়ের বধূরা, মায়েরা বেশ সময় নিয়ে সুতার সাহায্যে নানা রকম নকশা ফুটিয়ে তোলেন পাখায়। সেই সঙ্গে নকশাগুলোকে নানারকম রঙিন সুতার ব্যবহার ফুটিয়ে তোলা হয়। রঙ এ শাড়ির দাম সর্বোচ্চ ৯ হাজার সর্বনিম্ন ১৫০০ টাকা। বিবিয়ানার ডিজাইনেও প্রতি বছরের মতো এবারে বৈশাখ আয়োজনে থাকছে বৈচিত্র্য। বিবিয়ানায় এবার থাকছে ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ গীতিকার নারী চরিত্রগুলোর অলঙ্করণে থাকা পোশাকগুলোর ডিজাইন। এ ছাড়াও ময়মনসিংহ গীতিকায় উল্লিখিত নানারকম ডিজাইন, নকশাগুলো পোশাকে তুলে ধরা হয়েছে। সেই পোশাকগুলোর নাম দেয়া হয়েছে মলুয়া। ছেলেদের পাঞ্জাবিতেও ময়মনসিংহ গীতিকার নকশাগুলো ব্যবহার হয়েছে। বৈশাখের বর্ণিল আয়োজনের চলতি ট্রেন্ড এবং পোশাকের কালেকশন নিয়ে দেশীয় ফ্যাশন হাউস ‘অঞ্জন্স’-এর প্রস্তুতিও চলছে। বৈশাখী রঙ সাদা-লাল নিয়েই তারা কাজ করছেন। তবে বেশি প্রাধান্য দিয়েছেন লালের ওপর। বৈশাখকে সামনে রেখে তৈরি করছে মেয়েদের সালোয়ার-কামিজ, শাড়ি এবং ফতুয়া। চলতি ট্রেন্ডের কথা মাথায় রেখে সুতি কাপড় বেশি ব্যবহার করে লং কাজিম বাজারে আনছে তারা। বৈশাখের পোশাকগুলোতে বৈচিত্র্য থাকছে হাতায় এবং গলার কাজে। ছেলেদের জন্য করা হয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া এবং শার্ট। বৈশাখে শিশুরাও তার মা বা বড় বোনের মতো শাড়ি পরতে চায়। তাদের এ আবেদনকে সামনে রেখে নগরদোলায় রয়েছে রেডি শাড়ি। নগরদোলায় নারীদের জন্য রেগুলার সাইজের সালোয়ার-কামিজের পাশাপাশি রেগুলার সাইজের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। শাড়ির সর্বোচ্চ দাম ৭ হাজার সর্বনিম্ন ৯শ’ টাকা। ছেলেদের জন্য পাওয়া যাচ্ছে জাঁকজমক কিছু পাঞ্জাবি। এখন চওড়া পাড়ের শাড়ির চাহিদা বেশি। আর বৈশাখের শাড়িগুলোতে উজ্জ্বল রঙ ব্যবহার করা হয়েছে। ফ্যাশন হাউসগুলোর পাশাপাশি রেডিমেট বাজারেও রয়েছে বৈশাখের ব্যাপক আয়োজন। বসুন্ধরা শপিংমল, মেট্রো শপিং মল, মাসকট প্লাজা। নিউ মার্কেটসহ সব ধরনের মার্কেটেই লেগেছে বৈশাখের ছোঁয়া। পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকম শাড়ি, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, সালোয়ার-কামিজসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু। বৈশাখের আবেদন বাঙালির কাছে সব সময়ই চিরন্তন। আধুনিক জীবনধারায় আমরা যখন বাস করছি তখন আমরা একটি দিনের জন্য হলেও ফিরে যাই সেই পান্তা-ইলিশের কাছে, মিলিত হই সাংস্কৃতিক আবহের এক মিলনমেলায়। শুধু নারীরাই নয় তাদের পাশাপাশি পুরুষেরাও বৈশাখী সাজে সেজে উঠবে। আর তাদের পছন্দের তালিকায় প্রথমই রয়েছে পাঞ্জাবি। আর এ নিয়ে আয়োজনেরও শেষ নেই। বৈশাখের কথা মাথায় রেখে পাঞ্জাবিও সাজানো হয়েছে লাল-সাদা রঙে। আবার কখনও লাল-সাদার প্রাধান্য রেখে বিভিন্ন রঙে রঙিন করে তোলা হয়েছে পোশাকটিকে। বৈশাখ যেহেতু বাঙালির সর্বজনীন উৎসব তাই ফ্যাশন হাউসগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে অনেক। বৈশাখকে সামনে রেখে ফ্যাশন হাউসগুলোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। পাঞ্জাবি তৈরি করা হচ্ছে বিভিন্ন ডিজাইন আর কারুকাজে। ফ্যাশন হাউসগুলোর পাঞ্জাবির সংগ্রহে লাল-সাদার পাশাপাশি থাকছে নতুন নকশা, নতুন রং।  ফ্যাশন হাউজ অঞ্জন’স-এ থাকছে বিভিন্ন ধরনের পাঞ্জাবির কালেকশন। পাঞ্জাবির দাম সর্বনিম্ন ১৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা। ফ্যাশন হাউস রঙ বরাবরই তাদের পোশাকে রঙ নিয়ে খেলে। বৈশাখকে ঘিরে রঙের রয়েছে নানা আয়োজন। এবার রঙে থাকছে বাহারি রঙের পাঞ্জাবি। এর মধ্যে সেমি লং পাঞ্জাবি বেশি। বৈশাখে লাল-সাদার পাশাপাশি গাঢ় ধূসর, অফ হোয়াইট এবং বিভিন্ন উজ্জ্বল রঙের মধ্যে কাজ করা হয়েছে। গরমে স্বস্তির জন্য বেশির ভাগ পাঞ্জাবিই হচ্ছে সুতি এবং খাদি।
এছাড়া, নিত্য উপহার, নগরদোলা, আড়ংসহ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ তৈরি করেছে বাহারি রঙের পাঞ্জাবি। এছাড়া, নগরীর বিভিন্ন রেডিমেট পাঞ্জাবির মার্কেটগুলোতেও ভিড় জমেছে ক্রেতাদের। সায়েন্স ল্যাবরেটরি, মালিবাগ, নিউমার্কেট, আয়েশা শপিং কমপ্লেক্স সংলগ্ন গুলিস্তান পীর ইয়ামেনী শপিং কমপ্লেক্সসহ নগরীর ছোট-বড় সব ধরনের শপিংমলেই পাওয়া যাচ্ছে রেডিমেট পাঞ্জাবি। সুতি, সিল্ক, অ্যান্ডি কটন, টাইডাই, বাটিক ও এমব্রয়ডারির পাঞ্জাবি। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৈশাখ আসার আগেই মার্কেটে ক্রেতা সাধারণের উপস্থিতি লক্ষণীয়। শর্ট পাঞ্জাবি অতটা চলছে না তবে লং ও সেমি লং পাঞ্জাবিগুলো বেশি চলছে। চমৎকার বাহারি ডিজাইনের জমকালো ডিজাইনের এসব রঙিন পাঞ্জাবির দাম পড়বে ৫০০ থেকে ৮৫০ টাকা।

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »