মোহাম্মদ কামরুজ্জামান »

সম্প্রতি লকডাউনের বিধিনিষেধ কিছুটা কমার পর ইংল্যান্ডের ব্রিজনর্থের কাছে একটি বাগানে চা খাচ্ছিলেন সুজানে হ্যারিস। ঠিক তখনই তাঁর মাথায় চিন্তা আসে মাস্ক বানানোর। যা আয় হবে সেখান থেকে ১০০ ইউরো করে দাতব্য সংস্থায় দিয়ে দেবেন ।

যা চিন্তা ছিলো তাই হলো। সুজানে আর তাঁর বন্ধু মউরিন ওরিলো টেলফোর্ডে তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য অনুযায়ী এরই মধ্যে ১০ বার দাতব্য সংস্থায় টাকা দিয়ে দিয়েছেন। তবে এখন তাদের ইচ্ছা, পুরো বছর এই দান চালিয়ে যাওয়া। ইতিমধ্যে তারা হ্যালোইন ও ক্রিসমাস উপলক্ষ্যে পণ্য উৎপাদন শুরু করে দিয়েছেন।

৭৫ বছর বয়সী সুজানে এর আগে গ্রাফিক ডিজানের ব্যবসা করতেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের পুরাতন জামা, টি-শার্টের কাপড় দিয়ে মাস্কগুলো তৈরি করি। আমাদের মাস্ক তৈরির কাজ অনবরত চলছে। এমনকি আমদের কাছে জমা থাকা সব কাপড় প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। আমরা এখন বাজার থেকে কাপড় কিনতে যাচ্ছি।

১৯৩৪ সালে সুজানের ২১তম জন্মদিনে তাঁর মা তাকে একটি বিশেষায়িত সিঙ্গার সেলাই মেশিন উপহার দিয়েছিলেন। দিনদিন মাস্কের চাহিদা বাড়ার কারণে সুজানের আধুনিক সেলাই মেশিনটি উৎপাদন চাপ নিতে পারছিলো না। আর সেকারণে সুজানা সেটি বদলে তাঁর মার দেওয়া বিশেষায়িত সেলাই মেশিনটি ব্যবহার শুরু করেছেন।

সুজানে বলেন, যদিও আমার কাছে আরো একটি আধুনিক সেলাই মেশিন ছিলো, কিন্তু সেটির প্যাডেল পোড়া। তাই আমি আমার মায়ের দেওয়া মেশিনটি দিয়ে কাজ করছি। সত্যিই এটি আমার স্বপ্নের মত কাজ করছে।

তিনি আরো বলেন, আমার মায়ের বাচ্চাদের কাপড় বানানোর একটা ব্যবসা ছিলো। তিনি খুবই চালাক মহিলা ছিলেন। প্রায় সব ধরণের কাপড়ই তিনি বানাতে পারতেন।

ব্রিজনর্থের বিভিন্ন শো-রোম থেকে সুজানে ও মউরিন মাস্ক সরবরাহের অর্ডার নেন। পরে সেগুলো ব্রিজনর্থের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হয়। সুজানাদের মাস্কগুলো শতভাগ কটন কাপড়ে তৈরি। এগুলো ধুয়ে একাধিকবার ব্যবহার করা যায়। ব্রিজনর্থের বাজারে মাস্কগুলো সাড়ে তিন ইউরোতে বিক্রি হচ্ছে।

সুজানে বলেন, আমরা আরো প্রায় ৫০০ ইউরো অর্জনে সমর্থ হয়েছি। আশা করছি, আগামী দুই সপ্তাহের মাঝে এটি মোট ১৫০০ ইউরো তে পৌঁছাবে। এটা খুবই আশ্চর্যজনক। যারা আমাদের মাস্কগুলো ক্রয় করছে ও যারা আমাদের পক্ষে বিনা পারিশ্রমিকে বিক্রয় করছে তাদের অনেক ধন্যবাদ।

সূত্র- শর্পশায়ার স্টার ।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »