মোহাম্মদ কামরুজ্জামান »

Dating App

ভিন্নমতাবলম্বী ব্লগার আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাহার করার জন্য বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ)। তাকে ও তার পরিবারকে ভীতি প্রদর্শনের নিন্দা জানিয়েছে এ সংগঠনটি। এতে বলা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ঘৃণাপ্রসূত প্রচারণা চলছে, যাতে উচ্চ পর্যায় থেকে উৎসাহ রয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, আসাদুজ্জামান নূর বেশি পরিচিত আসাদ নূর নামে। কট্টর ইসলামপন্থিদের পক্ষ থেকে হুমকি থাকার প্রেক্ষিতে তিনি গত ৬ বছর ধরে আত্মগোপন করে আছেন। একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুর বিরুদ্ধে সরকারি প্রোপাগান্ডার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। এ জন্য ১৩ই জুলাই থেকে পুলিশ তাকে খুঁজছে। চট্টগ্রামের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি বৌদ্ধ মন্দিরকে কেন্দ্র করে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

আরএসএফ লিখেছে, আসাদুজ্জামান ওই বৌদ্ধ ভিক্ষু ও শিক্ষাবিষয়ক প্লাটফরম ১০ মিনিট স্কুলের পক্ষ নিয়েছেন। ১০ মিনিট স্কুল নামের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সমকামিপন্থার অভিযোগ আছে। এদের পক্ষ নিয়ে ফেসবুক ও অন্যান্য ডিজিটাল প্লাটফর্মে গুজব ছড়ানো ও ইসলামের অবমাননার অভিযোগে তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত করেছে পুলিশ।

আরএসএফ আরো বলেছে, আসাদ নূর ও ওই বৌদ্ধভিক্ষুর গ্রেপ্তার দাবিতে ১৭ই জুলাই চট্টগ্রামের রাস্তায় বিক্ষোভ করেছেন সরকারের মিত্র বলে উদ্বুদ্ধ ইসলামপন্থিরা। এই বিক্ষোভের ফলে বিপজ্জনক একটি আবহ সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রেস ক্লাবে মানববন্ধন পালন করেছেন স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সদস্যরা। পরের দিন বরগুনার আমতলিতে নূরের পরিবারে যান পুলিশের কিছু সদস্য। আরএসএফ বলেছে, ওই পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে তারা তুলে নিয়ে আটকে রাখে ৪৮ ঘন্টা।
আরএসএফের এশিয়া প্রশান্ত ডেস্কের প্রধান ডানিয়েল বাস্টার্ড বলেছেন, আসাদ নূরের বিরুদ্ধে অবিলম্বে সব অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি জানাই আমরা। একই সঙ্গে তার পাসপোর্ট পুনর্বহাল করতে কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানাই। আসাদ নূর ৬ বছরের বেশি সময় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এখন এই ব্লাগার ও তার ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে এই নিষ্পেষণ বন্ধ করার উত্তম সময় কর্তৃপক্ষের। তা নাহলে, তাদের কিছু হলে আমরা তাদেরকে (কর্তৃপক্ষকে) দায়ী করবো।

২০১৭ সালের ডিসেম্বরে নূর ছিলেন ২৫ বছর বয়সী। তখন ফেসবুকে ও ইউটিউবে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দরে ট্রানজিটের সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের আগস্টে তাকে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়। কিন্তু কট্টর ইসলামপন্থি গ্রুপগুলোর চাপের ফলে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে তিনি মুক্তি পান। কিন্তু তার পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করে কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকেই তিনি আত্মগোপন করে আছেন। কখনো বাংলাদেশে, কখনো ভারতে। তবে এখন তিনি কোনো কাগজপত্র ছাড়া এভাবে আত্মগোপন করে বেড়াচ্ছেন। উল্লেখ্য, আরএসএফের ২০২০ সালের ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্সে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »