মোহাম্মদ কামরুজ্জামান »

Dating App

করোনায় রাজধানীতে কমেছে বিবাহবিচ্ছেদ। এপ্রিলে কোনও বিবাহবিচ্ছেদই হয়নি। মে মাসেও এই সংখ্যা প্রথম তিন মাসের তুলনায় অনেক কম। সমাজ ও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনার কারণে স্বামী-স্ত্রী দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকায় মনোমালিন্য আলোচনার মাধ্যমে মিটে যাওয়ায়, বিচ্ছেদের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাননি অনেকেই।

কয়েক বছর ধরে রাজধানীতে বিবাহবিচ্ছেদের হার উর্ধ্বমূখী। প্রতি ঘণ্টায় একটি বিবাহবিচ্ছেদের খবরও শিরোনাম হয়েছিলো সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু করোনাকালে উল্টে গেছে চিত্র। বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় সাধারণ ছুটির দুই মাসে বিচ্ছেদ অনেক কমে গেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হিসাব বলছে, বছরের প্রথম তিন মাসে ১ হাজার ৫১৪টি বিবাহবিচ্ছেদ হলেও এপ্রিলে একটিও হয়নি। আর মে মাসে বিবাহবিচ্ছেদের সংখ্যা ছিলো মাত্র ৫৪টি। আর দক্ষিণ সিটিতে প্রথম তিন মাসে বিচ্ছেদ হয়েছে ১ হাজার ৪৬২টি। এপ্রিলে সাধারণ ছুটি থাকায় কোনো বিচ্ছেদেই কার্যকর হয়নি। মে মাসে বিচ্ছেদ ছিল ১১৩টি।

বাংলাদেশ মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্টার কল্যাণ সমিতির মহাসচিব সাগর আহমেদ শাহীন বলেন, ‘যেখানে কাবিন হওয়ার কথা একশো সেখানে হয়েছে মাত্র ২৬টি। ডিভোর্সের সংখ্যাও কম, এসময়ে আমার কাছে হয়েছে মাত্র দুইটা।’

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘ সাধারণ ছুটিতে স্বামী-স্ত্রী দুজন দুজনকে সময় দিতে পেরেছেন। এতে দাম্পত্য জীবনের নানা সমস্যা পারস্পারিক আলোচনায় সমাধান হওয়ায় কমেছে বিবাহবিচ্ছেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারি অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, ‘একটি পরিবারকে টিকিয়ে রাখার অন্যতম শক্তি হলো পরস্পর পরস্পরকে বোঝার চেষ্টা করা, যে কোন বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা এবং শান্তিপূর্ণ সহবস্থান নিশ্চিত করা।

এই বিষয়টি আমরা এখন নিশ্চিত করতে পারছি এবং হাজবেন্ড-ওয়াইফরাও নিশ্চিত করতে পারছে ঘরে থাকার কারণে। শক্তিশালী পরিবার ব্যবস্থাই করোনাউত্তর বাংলাদেশের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. সাদেকা হালিম জানান, ‘প্যান্ডেমিকের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, এটি আমি মনে করি আমাদের পরিবারের যে বন্ধনগুলি সেগুলো দৃঢ় করতে হবে এবং সহিংস মনোভাব আমাদের রোধ করতে হবে।’

দম্পতিদের মধ্যে এ ধরনের মনোজাগতিক পরির্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মনোবিজ্ঞানীরাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাহফুজা খানম বলেন, ‘হয়তো দেখা যাচ্ছে যে করোনাভাইরাসের কারণে স্বামী-স্ত্রী দুজনই বাসায় আছে, বাসায় থাকার কারণে সাংসারিক কাছে ওয়াফের সঙ্গে হাজবেন্ডও অংশগ্রহণ করছে। এর মাধ্যমে বনডিং যেটা, সেটা শেয়ারের মাধ্যমে আরও স্ট্রং হচ্ছে।’ সিটি করপোরেশনের হিসাব বলছে, নারীরাই বিচ্ছেদের আবেদন করেছেন বেশি।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »