সম্প্রীতি মাহমুদ »

Dating App

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী শনিবার (২০জুন) সকাল সোয়া ১০টার দিকে মারা যান। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন) । তিনি কোভিডে আক্রান্ত ছিলেন।

রাজধানীর মহাখালীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধিন ছিলেন তিনি। এর আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১৭ জুন সকালে কামাল লোহানীকে রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে কামাল লোহানীকে আইসিইউতে নেয়া হয়। ফেসবুক স্ট্যাটাসে তার ছেলে সাগর লোহানী জানিয়েছিলেন, তার বাবার অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল।

কামাল লোহানী ২০১৫ সালে একুশে পদক পান এবং শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে ২০০৯ থেকে ২০১১ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। কিংবদন্তি সাংবাদিক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী ১৯৩৪ সালের ২৬ জুন সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়ার খান মনতলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন, ভারত ভাগ এবং ভাষা আন্দোলনের জীবন্ত সাক্ষী হয়ে বেড়ে উঠেছেন।একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের হেড অব নিউজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। এ কিংবদন্তি সাংবাদিক একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর সম্ভাব্য আত্মসমর্পণ নিয়ে দুই মিনিটের একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন।

দৈনিক মিল্লাত পত্রিকা দিয়ে সাংবাদিকতা শুরু করেন কামাল লোহানী। এরপর তিনি আজাদ, সংবাদ, পূর্বদেশ, দৈনিক বার্তায় গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তিনি ১৯৬২ সালে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়নটের সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কামাল লোহানী উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটেরও উপদেষ্টা ছিলেন।

১৯৫৫ সালে গ্রেপ্তার হলে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে একই জেলকক্ষে বন্দিজীবন কাটান। সেই বন্দি দিনগুলোতে তিনি বঙ্গবন্ধুর সন্নিকটে আসেন। ষাটের দশকের শেষভাগে ন্যাপের রাজনীতিতে জড়িয়ে কামাল লোহানী যোগ দেন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে। মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠকও তিনি।

Dating App
শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »