বার্তাবাংলা ডেস্ক »

বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলে আবার হারিয়ে গেল একটি উড়োজাহাজ। এতে পাইলটসহ মোট চার আরোহী ছিলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত একটি উড়োজাহাজের কিছু ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলেও, সেটি হারিয়ে যাওয়া উড়োজাহাজটির কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিন যাত্রী হলেন মার্কিন ব্যবসায়ী জেনিফার ব্লুমিন (৫২) এবং তাঁর তিন ও চার বছর বয়সী দুই ছেলে।

এবিসি নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গত সোমবার এমইউ-টুবি মডেলের একটি ছোট আকারের চার্টার্ড উড়োজাহাজে করে দুই সন্তানকে নিয়ে পুয়ের্তো রিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার উদ্দেশে রওনা দেন জেনিফার ব্লুমিন। কিন্তু বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় সময় দুপুর দুইটার দিকে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায় উড়োজাহাজটি, নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যোগাযোগ। এর পর থেকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে ৮ হাজার ২০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু নিখোঁজ যাত্রী বা উড়োজাহাজের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। একটি এমইউ-টুবি মডেলের উড়োজাহাজের কিছু ধ্বংসাবশেষ অবশ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু তা হারিয়ে যাওয়া উড়োজাহাজের কি না, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

All Media Link

মিয়ামি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজের সর্বশেষ অবস্থান ছিল বাহামা থেকে ৩৭ মাইল পূর্বে, সমুদ্র থেকে ২৪ হাজার ফুট উঁচুতে এবং এটির গতিবেগ ছিল ৩০০ নটিক্যাল মাইল।

কয়েক শ বছর ধরেই বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল রহস্যাবৃত হয়ে আছে। আটলান্টিক মহাসাগরের প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার মাইল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে তিনকোনা বারমুডা। শুধু উড়োজাহাজ নয়, জাহাজ এলেও হারিয়ে যায় এখানে। ১৪৯২ সালে স্পেনের বিখ্যাত নাবিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস প্রথম এই বারমুডা নিয়ে লেখেন, সেখানে গিয়ে তাঁর কম্পাস অকেজো হয়ে গিয়েছিল। তবে সেই যাত্রায় উদ্ধার পেয়েছিলেন তিনি।

বারমুডার রহস্য উদ্‌ঘাটনে বিভিন্ন সময় নানা গবেষণা হয়েছে। তবে কোনো গবেষক বা বিজ্ঞানীই এর সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। গত বছর বিখ্যাত আবহাওয়াবিদ র‌্যান্ডি কারভ্যানিসহ বেশ কিছু বিজ্ঞানী বলেন, বারমুডায় ষড়ভুজাকৃতির মেঘ (হেক্সাগোনাল ক্লাউড) তৈরি করে উচ্চগতির বাতাস। বাতাসের গতি থাকে ঘণ্টায় প্রায় ১৭০ মাইল, যা ৪৫ ফুট উঁচু ঝড় তৈরি করতে পারে। এতে করে বারমুডা ট্রায়াঙ্গেল দিয়ে যাওয়া জাহাজ বা উড়োজাহাজ নিখোঁজ হয়ে যায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধ্বংস হয়।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

বার্তাবাংলা ডেস্কে আপনাকে স্বাগতম। বার্তাবাংলা (BartaBangla.com) প্রথম সারির একটি অনলাইন গণমাধ্যম; যেটি পরিচালিত হচ্ছে ইউরোপ এবং বাংলাদেশ থেকে। বার্তাবাংলা ডেস্কে রয়েছে নিবেদিতপ্রাণ তরুণ একঝাঁক সংবাদকর্মী। ২০১১ সালে যাত্রা ‍শুরু করা এই অনলাইন পত্রিকাটি এরই মধ্যে পেয়েছে ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা। দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা লাখো পাঠকই আমাদের পথচলার পাথেয়।

মন্তব্য করুন »