বার্তাবাংলা ডেস্ক »

ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রোহতাকে সৎ বাবার দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়া ১০ বছর বয়সী শিশুটির চলতি সপ্তাহে গর্ভপাত করানো হবে। হরিয়ানার চিকিৎসকদের একটি প্যানেল এই তথ্য জানিয়েছেন।

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের (পিজিআইএমএস) চিকিৎসকেরা চলতি সপ্তাহেই শিশুটির গর্ভপাত করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে চিকিৎসকদের একটি প্যানেল গত সোমবার শিশুটির গর্ভপাত করানো যাবে কিনা, তা নিয়ে বৈঠকে বসেছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই শিশুটি তার সৎ বাবার দ্বারা একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়। সে এখন পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, মেয়েটির অবস্থা সংকটাপন্ন। পুলিশ মেয়েটির সৎ বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতীয় আইনে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ২০ সপ্তাহ পর গর্ভপাত নিষিদ্ধ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এ বিষয়ে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে বেশ কয়েকটি পিটিশন দাখিল করা হয়। এই পিটিশন দাখিল করা ব্যক্তিদের মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা কয়েকজন নারী রয়েছেন, যাঁরা ২০ সপ্তাহ পর গর্ভপাত করাতে চান। এ বিষয়টি আদালত সব সময় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দিয়ে থাকেন।

এই শিশুটিকে আট সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন, তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার সময় ১৮ থেকে ২০ সপ্তাহের মধ্যে হতে পারে। বিষয়টি আদালতকে জানানো হয়। আদালত চিকিৎসকদের দুটি বিকল্প দিয়েছেন। বলেছেন, ভ্রূণের বয়স ২০ সপ্তাহের কম হলে গর্ভপাত করানো যাবে। আর যদি এই সময় পেরিয়ে গিয়ে থাকে তাহলে গর্ভপাত করানোর দরকার নেই।

পিজিআইএমএস-এর তত্ত্বাবধায়ক অশোক চৌহান বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ড মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে শিশুটির গর্ভপাত করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

চিকিৎসকেরা বলছেন, মেয়েটি এতই ছোট যে, স্বাভাবিকভাবে সন্তান জন্ম দেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। আর এতে তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। গর্ভপাত করানো তার জন্য কম ঝুঁকির।

শিশুটির মা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তিনি শিশু কল্যাণ কমিটিকে বলেন, কয়েক বছর আগে কোনো এক কারণ শিশুটি মাথায় আঘাত পায়। এরপর সে কিছুটা অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে। তাই আর স্কুলে যেত না। ফলে তিনি মেয়েকে প্রায়ই বাড়িতে রেখে কাজে যেতেন।

মেয়েটি তার মাকে জানিয়েছিল যে তার সৎ বাবার তাকে ধর্ষণ করেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য সতর্ক করে দিয়েছে। মেয়েটি তার ঊরুতে প্রচন্ড ব্যথার কথা বললে গত শুক্রবার মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন মা। সেখানেই শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

শেয়ার করুন »

মন্তব্য করুন »