বার্তাবাংলা ডেস্ক »

প্রিয়জনের বেঁচে থাকা, প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো প্রত্যেক মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া বললে ভুল বলা হয় না। তবে সেই প্রিয়জনের দেহে যখন প্রাণ থাকে না, তখন? তাঁর স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করে। সবচেয়ে বেশি তাঁকেই ভালোবাসতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সেই প্রাণহীন দেহের সঙ্গে সময় কাটানো কি সম্ভব?

ধর্ম, বিজ্ঞান ও সমাজের কারণে মৃতদেহের দ্রুত সৎকার করাই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এই স্বাভাবিক ঘটনার ব্যতিক্রম ঘটালেন এক ব্যক্তি। ছয় দিন ধরে মৃত স্ত্রীর সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমিয়েছেন তিনি।

এ ঘটনা ঘটেছে ইংল্যান্ডের ডারবিশায়ারের ডারবি শহরে। রাসেল ডেভিসন নামের এক ব্যক্তি তাঁর মৃত স্ত্রীর সঙ্গে ছয় দিন একই কক্ষে ঘুমিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী ওয়েন্ডি ডেভিসন (৫০) দশ বছর জরায়ু ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ডারবিতে নিজেদের বাড়িতে গত ২১ এপ্রিল মারা যান। স্ত্রীর মরদেহের সৎকার করেননি। রাসেল ডেভিসনকে যখন মৃত স্ত্রীর সঙ্গে পাওয়া যায়, তখন তাঁকে বিপর্যস্ত দেখাচ্ছিল।

All Media Link

রাসেল বলেন, তিনি চাননি তাঁর স্ত্রীর মরদেহ মর্গে নেওয়া হোক। মৃতদের প্রতি তিনি সাধারণের দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি চাইনি তাঁর (স্ত্রী) মরদেহ মর্গে যাক বা মৃতদেহ সৎকারকারীদের কাছে তাঁকে তুলে দিই। নিজেদের বাসায় রেখে তাঁর যত্ন করতে চেয়েছি। শয়নকক্ষে রাখতে চেয়েছি। যাতে আমি তাঁর সঙ্গে একই কক্ষে ঘুমাতে পারি।’

২০০৬ সালে রাসেলের স্ত্রী ওয়েন্ডির ক্যানসার ধরা পড়ে। এই দম্পতি তখন ‘প্রাকৃতিকভাবে’ চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রাসেল বলেন, ‘আমরা তাঁর জীবন চিকিৎসকের হাতে তুলে দিতে প্রস্তুত ছিলাম না। আমরা নিজেই গবেষণা করতে চেয়েছিলাম এবং ওয়েন্ডিকে বাঁচিয়ে রাখতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’ তিনি বিশ্বাস করেন, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি ছাড়াই তাঁদের নিজেদের নেওয়া উদ্যোগ ওয়েন্ডিকে ‘দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয়েছিল’।

২০১৪ সালে বলা হয়েছিল, ওয়েন্ডি ডেভিসন আর মাত্র ছয় মাস বেঁচে থাকবেন। ওই সময় এই দম্পতি ‘নিজেদের জীবনের পরিপূর্ণ সময় কাটাতে’ ইউরোপ ভ্রমণে বের হন। তবে গত সেপ্টেম্বরে ওয়েন্ডির ব্যথা বাড়াবাড়ি পর্যায়ের হলে তাঁরা বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হন। রয়েল ডারবি হাসপাতালে তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসা নেন।

ওয়েন্ডি মারা যাওয়ার পর তাঁর মরদেহ দেখতে পরিবারের লোকজন ও বন্ধু-বান্ধবেরা বাড়িতে এসেছিলেন। রাসেল ডেভিসন বলেন, ‘ওয়েন্ডি খুব শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছে। শান্ত ছিল। কোনো বেদনা ছিল না। ছেলে ডায়লান ও আমার হাতের ওপর মারা গেছে। তার পাশে ওই সময় আমাদের সব সময়ের বিশ্বস্ত কুকুর এলভিসও ছিল।’

সৎকারের আগে মৃতদেহ এভাবে বাড়িতে রাখা কোনো অপরাধ নয় বলে জানিয়েছেন জাক ওয়ার্ড নামের ডারবির এক আইনজীবী।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

বার্তাবাংলা ডেস্কে আপনাকে স্বাগতম। বার্তাবাংলা (BartaBangla.com) প্রথম সারির একটি অনলাইন গণমাধ্যম; যেটি পরিচালিত হচ্ছে ইউরোপ এবং বাংলাদেশ থেকে। বার্তাবাংলা ডেস্কে রয়েছে নিবেদিতপ্রাণ তরুণ একঝাঁক সংবাদকর্মী। ২০১১ সালে যাত্রা ‍শুরু করা এই অনলাইন পত্রিকাটি এরই মধ্যে পেয়েছে ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা। দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা লাখো পাঠকই আমাদের পথচলার পাথেয়।

মন্তব্য করুন »