বার্তাবাংলা ডেস্ক »

৩০৫ জন যাত্রী নিয়ে উড়ে চলেছে উড়োজাহাজ। এই যাত্রীদের নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ককপিটে থাকা প্রধান পাইলটের। তাঁদের জীবন রক্ষারও দায়িত্ব তাঁর। অথচ তিনিই কিনা, মাঝ আকাশে ককপিট ছেড়ে দিয়ে টানা আড়াই ঘণ্টা ঘুমালেন। তবে এতে কোনো অঘটন ঘটেনি। ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানের ইসলামাবাদ থেকে লন্ডনগামী ফ্লাইট পিকে-৭৮৫-তে।

পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো অঘটনা না ঘটলেও যাত্রীদের ঝুঁকির মুখে ফেলে ঘুমানোর অপরাধে ওই ফ্লাইটের প্রধান পাইলট আমির আখতার হাশমিকে আপাতত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আমির আখতার হাশমি পাকিস্তান এয়ারলাইনস পাইলট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি বেশ প্রভাবশালী হওয়ায় অভিযোগ জানানোর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। পরে মন্ত্রণালয়ের চাপে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

All Media Link

পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনসের মুখপাত্র দানিয়েল গিলানি বলেন, ক্যাপ্টেন আমির হাশমিকে দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলেছ। এ বিষয়ে আর কোনো তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৬ এপ্রিল ইসলামাবাদ থেকে লন্ডনগামী ফ্লাইট পিকে-৭৮৫-এ প্রধান পাইলটের দায়িত্বে ছিলেন আমির হাশমি। ককপিটে তাঁর সহকারী হিসেবে ছিলেন আলী হাসান ইয়াজদানি ও মোহাম্মাদ আসাদ আলী। তাঁরা দুজনই শিক্ষানবিশ। ওই দুজনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য হাশমি প্রতি মাসে এক লাখ রুপি করে বাড়তি অর্থ পান। ওই দিন হাশমি মাঝ আকাশে হঠাৎ করেই আলী হাসান ইয়াজদানিকে ককপিট ছেড়ে দিয়ে বিজনেস ক্লাসের কেবিন গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। কম্বল গায়ে দিয়ে টানা আড়াই ঘণ্টা ঘুমান তিনি। অথচ তাঁর দায়িত্ব ছিল উড়োজাহাজটি সঠিকভাবে চালানো ও প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন যাত্রী দেখতে পান, বিজনেস ক্লাসের কেবিনে পাইলটের পোশাক পরে একজন ঘুমাচ্ছেন। এ দেখে তিনি ভয়ে চিৎকার করলে নাজনীন হায়দার নামের জ্যেষ্ঠ কেবিন ক্রু এসে বিষয়টি তাঁকে বুঝিয়ে বলেন। পরে ওই যাত্রী পাইলটের নামে ফ্লাইট লগে অভিযোগ করেন। এক যাত্রী পাইলটের ঘুমানোর ওই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে পোস্ট করলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

কেবিন ক্রু নাজনীন হায়দার বলেন, ‘ওই যাত্রী অভিযোগ করেছেন, পাইলট যখন বিজনেস ক্লাসের কেবিনে ঘুমিয়েছিলেন, তা দেখে তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করেননি। আমি তাঁকে বলেছিলাম, আরও দুজন পাইলট ককপিটে আছেন। তারপরও তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালের জুন মাসে ইউরোপিয়ান এয়ারলাইনসের একটি উড়োজাহাজে একই ঘটনা ঘটেছিল। পাইলট একজন প্রশিক্ষণার্থীর হাতে ককপিট ছেড়ে দিয়ে যাত্রী কেবিনে চলে গিয়েছিলেন। সে সময় ওই প্রশিক্ষণার্থী পাইলট উড়োজাহাজটি সঠিকভাবে চালাতে পারেননি। এতে আটলান্টিক মহাসাগরে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়ে দুই শতাধিক যাত্রীর প্রাণ যায়।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

বার্তাবাংলা ডেস্কে আপনাকে স্বাগতম। বার্তাবাংলা (BartaBangla.com) প্রথম সারির একটি অনলাইন গণমাধ্যম; যেটি পরিচালিত হচ্ছে ইউরোপ এবং বাংলাদেশ থেকে। বার্তাবাংলা ডেস্কে রয়েছে নিবেদিতপ্রাণ তরুণ একঝাঁক সংবাদকর্মী। ২০১১ সালে যাত্রা ‍শুরু করা এই অনলাইন পত্রিকাটি এরই মধ্যে পেয়েছে ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা। দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা লাখো পাঠকই আমাদের পথচলার পাথেয়।

মন্তব্য করুন »