বার্তাবাংলা ডেস্ক »

250220132634বার্তাবাংলা ডেস্ক ::বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে অমর একুশের গ্রন্থমেলার একটি অংশে আগুন লেগে ২৫টি প্রকাশনা সংস্থার স্টল পুড়ে গেছে।

রোববার রাত ১টার দিকে মেলা প্রাঙ্গণের পুকুরপাড়ের কাছে ধীরেন্দ্রনাথ চত্বর অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়। অগ্নি নির্বাপক বাহিনীর তিনটি ইউনিট পৌনে এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।তবে এর আগেই ২৬৪ থেকে ৩০৪ ইউনিট পর্যন্ত ২৫টি প্রকাশনা সংস্থার স্টল পুড়ে যায় বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও মেলা কমিটির সদস্য অধ্যাপক আমজাদ আলী।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দয়িত্বরত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জানান, রাত পৌন ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

All Media Link

বৈদ্যুতিক গোলোযোগ থেকে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। স্টলগুলো পুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মোহাম্মদ আলী জানান।

পরে রাত ২টা এবং আড়াইটার দিকে আরো দুই দফায় মেলা প্রাঙ্গণে কয়েকটি স্টলে আগুন লাগে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। তবে সঙ্গে সঙ্গে আগুন নিভিয়ে ফেলায় তোমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এদিকে বইমেলায় এভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে নাশকতা বলে মনে করচেন প্রকাশকদের অনেকেই।

শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রবিন আহসান বলেন, প্রকাশকরা বিকালে সংবাদ সম্মেলন করে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরের গণজামায়েতের সঙ্গে সংহতি জাননা এবং যতদিন গণজাগরণ মঞ্চ থাকবে, ততদিন মেলা চালানোর দাবি জানিয়েছিলেন। এ কারণে কোনো বিশেষ গোষ্ঠী আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে।

এ বিষয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় ঘটনাস্থলে থাকা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. মনির হোসেনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, বইমেলার স্টলগুলো তৈরি হয়েছে বাঁশের খুঁটি দিয়ে। আগুণ লাগার পর বাঁশের গিটগুলো বিকট শব্দ করে ফুটছিল।

এসব গিট থেকে আগুনের ফুলকি ছিটকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা আগুন লাগতে পারে বলে মনির হোসেনের ধারণা।

তবে যেহেতু নাশকতার অভিযোগ এসেছে, অগ্নি নির্বাপক বাহিনী তা খতিয়ে দেখবে বলে জানান তিনি।

এই সহকারী পরিচালক বলেন, “স্টলের বৈদ্যুতিক সংযোগ বন্ধ থাকলেও সিসি ক্যামেরার জন্য একটি বৈদ্যুতিক সংযোগ চালু ছিল। ওই লাইন থেকেই অগ্নিকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।”

মেলা প্রাঙ্গণের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার রেকর্ড দেখলেই নাশকতার অভিযোগের বিষয়টি ফয়সালা হয়ে যাবে বলে মত দেন মনির হোসেন।

এতগুলো স্টল পুড়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মেলা প্রাঙ্গণের বাইরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ছিল। কিন্তু আগুন লাগার পর কেউ ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানায়নি। আমাদের লোকজন ধোঁয়া দেখে ভেতরে ঢুকে আগুন নেভায়।”

এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার সকালে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে বৈঠক করবেন প্রকাশকরা। পরে বিভিন্ন দাবি নিয়ে বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সঙ্গেও তাদের দেখা করার কথা রয়েছে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »