বার্তাবাংলা ডেস্ক »

2013-02-08-13-06-23-5114f84f1f636-muhit--2বার্তাবাংলা ডেস্ক ::নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ১৮০ কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব (এফসি অ্যাকাউন্টস) খোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তিনি বলেছেন, “নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করতে ১৮০ কোটি ডলারের এফসি অ্যাকাউন্টস খোলা হচ্ছে; যাতে অর্থ যোগানের বিষয়ে কোনো সন্দেহ তৈরি না হয়। আন্তজার্তিকমানের প্রতিষ্ঠান এর নির্মাণে থাকবে। এ জন্য ৫টি বিশ্বমানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বাছাই করা হয়েছে। তবে এর একটি কালো তালিকাভুক্ত। অর্থের যোগানের নিশ্চয়তা দিলে এরা অবশ্য আসবে।”

রোববার সন্ধ্যায় নিজ বাসায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।

All Media Link

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম কিম ইয়ংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটন যাওয়ার ঠিক দু’ঘণ্টা আগে তিনি এ সংবাদ সম্মেলন ডাকেন।

এ সময় সাংবাদিকদের বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

তবে মুহিত বলেন, “পদ্মাসেতু প্রকল্পে কেউ সম্পৃক্ত হতে চাইলে আমি স্বাগত জানাবো এবং আশ্চর্য হবো না। তবে সেটি জুলাই-আগস্টের মধ্যে হতে হবে।

মালেশিয়ার প্রস্তাব প্রসঙ্গ এনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “মালেশিয়ার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। কিন্তু মালেশিয়ার হিসাব আর আমাদের হিসাব এখন অনেক বদলে গেছে। তারা বলেছিলে, ২৯০ কোটি ডলারে হবে। এখন হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, ৩৮০ কোটি ডলার। অনেক পার্থক্য তৈরি হয়েছে।”

কতদিনে সেতুর কাজ শুরু হবে জানতে চাইলে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, “আমরা শুরু করবো এবারেই। সরকার ক্ষমতা ছাড়া আগে মূল সেতুর কাজ শুরু করবো। নিজের টাকায় করবো ধরেই এগিয়ে যাচ্ছি। ৫ হাজার কোটি টাকা বছরে আলাদা করে দেওয়া ৫ বছরের জন্য কিছুই না। ২ লাখ কোটি টাকার বাজেটে। ৫ হাজার কোটি টাকা পদ্মার জন্য থাকবে।”

তবে এজন্য নতুন করে কর আরোপের কোনো বিষয় আছে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এখন পর্যন্ত চিন্তা করিনি। নতুন করে কর আরোপ ছাড়াই হতে পারে। রাজস্ব আদায় সন্তোষজনক রয়েছে।”

মুহিত বলেন, “সেতু বাস্তবায়নে যমুনার মতো একটি কমিটি করা হবে। যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এটির দায়িত্বে থাকবে। তবে এটি একটি জটিল প্রকল্প। তাই, নিজেদের বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বাইরের বিশেষজ্ঞ থাকবে। সেটি কীভাবে করবো, তা নিয়ে ভাবছি।”

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী বলেন, “ওয়াশিংটন যাচ্ছি। কারণ হলো, বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করা। তার সঙ্গে আমি টোকিওতে দেখা করতে চেয়েছিলাম। তখন সময় হয়নি। তারপর একটি সময় খুঁজছিলাম। আবার চাইলাম, জানুয়ারির আগেই দেখা করতে। তারপর যাই হোক, জানুয়ারিতে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতু করবো সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলাম। তাদের সময় আর আমাদের সময় মিলছিলো না। তাদের সময় হচ্ছে, চলতি বছরের অক্টোবর-নভেম্বর।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, এখানে বিশ্বব্যাংকের বলার ব্যাপার, দুই পক্ষের সময় মেলেনি। তাই, আসার দরকার নেই। ১২০ কোটি ডলার অন্যভাবে ব্যবহার করা যাবে। ইতোমধ্যে, কিছু ব্যবস্থা হচ্ছে। ৩০০ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছিলাম। সেটি ৫০০ মিলিয়ন ডলার হয়ে গেছে। তবে এ পদ্মাসেতু প্রকল্প নিয়ে একটি ভুল বোঝাবুঝি আছে। এটি যাতে অন্য কোথাও প্রভাব না পড়ে। এজন্য এটিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংক বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে ভালো। আবাসিক অফিস নতুন সাজিয়েছে। এটি ভালো দিক।”

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »