মামুনুল ইসলাম, দুবাই থেকে »

বিশ্ব শ্রম বাজারে বাংলদেশী শ্রমিকদের আলাদা একটি কদর রয়েছে । কর্মনিষ্টতা ও হাড়ভাংগা পরিশ্রমর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তিন যুগেরও বেশি সময়ধরে গড়ে তোলা বিন্দু বিন্দু র্মজাদার এ বিশাল সিন্দুতে  আজ মারত্বক বির্পযয়ের ধস নেমেছে । ইতি মধ্যে হারিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাবনাময় কয়েকটি শ্রম বাজার.কর্মদক্ষ শ্রমিক হিসেবে সর্বত্রই পরিচিত বাংলাদেশী শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্বেও অবিভাবকহীন এ শ্রমিকের দায়িত্ব নিতে কেওই রাজি হচ্ছেনা । শুধু মাত্র কূটনৈতিক সমর্পকের দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ায়,বিপর্যয়ের প্রধানতম কারন বলে উল্লেখ করেছেন শ্রম বাজার বিশেষঅগ্গরা ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে শ্রম মন্ত্রনালয়ের কর্মকর্তা সাইদ সালেম হুমাইদ আল্ মারশুদি (মেজর জেঃ অবঃ) জানান,সমপ্রতি সময়ে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর বিষয় গুলোর সমাধান জন্য আমাদের পক্ষ থেকে বাংলদেশ সরকারকে তিন বার চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাংলদেশ সরকার চিঠির কোন উত্তর দেয়নি,তাই আমরা বাধ্য হয়ে সাময়িক ভাবে ভিসা কার্যক্রম স্তগিত করেছি । গত ২০১২ সালে প্রণিত তালিকা অনুযায়ী বৈধভাবে ৭ লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক রয়েছে । আরো সাড়ে তিন লাখ আছে অবৈধভাবে ।  বৈধ ৭ লাখ শ্রমিক  বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সেভা মূলক প্রতিষ্ঠানে নিষ্ঠার সাথে শ্রম দিয়ে যাচ্ছে । খোদ আমার ব্যাক্তি মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে । এতে  ১৭ জন বাংলাদেশীসহ ,ভারত ও পাকিস্তানের মোট  ৩২ জন শ্রমিক আছে । আল্লার কসম!  বাংলাদেশী ১৭ জনের কাজ আমাকে মুগ্ধ করেছে । কোম্পানী গঠনের প্রথম পর্যায়ে ৩ জন  বাংলাদেশী দিয়ে শুরু করলেও এখন তা ১৭ জনে উন্নীত করেছি । এমুহুর্তে আমার আরো ৩ জন শ্রমিক দরকার, বাংলাদেশীদের  উপর  ভিসাগত জটিলতার কারনে,  বাংলাদেশী শ্রমিক আমদানী করা সম্ভব হচ্ছেনা । এদিকে অবৈধ সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশী শ্রমিক বিগত দুই বছরের মধ্যে খুন,র্ধষন,মদ,জুয়া,পতিতা ব্যাবসা ও চিন্তই সহ এমন কোন অপকর্ম নেই যা তারা ঘটায়নি । তাদের এ তৎপরতা আশংকা জনক ভাবে বৃদ্ধি  পাওয়ায় ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্তগিত করা হয়েছে । শ্রম আদালত আবু দাবি মুছাফ্ফা জোনের প্রধান এডভোকেট ফাতেমাতুজ্ জাহারা আল্ নাসরিন আল্ মানছুরী বলেন, বিগত সময়ে আদালত চত্বর সরব থাকতো  মিশর,সিরিয়া,ভারত  ওপাকিস্তনীদের মামলা মোকাদ্দমা নিয়ে । এখন তার ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে । গত ২/৩ বছরে বেশিরভাগই বাংলাদেশীদের পদচারনা উল্লেখ যোগ্যভাবে  পরিলক্ষিত হচ্ছে ।মলিকের বিরুদ্ধে  শ্রমিকের মামলা  ও চোরির মামলার প্রবণতা বাংলাদেশদের মাঝে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ।  প্রশাসনকে সামান্যতমও তোয়াক্কা করছেনা তারা ।
তিনি আরো বলেন,আমার মনে হয় ! বিশ্ব শ্রম বাজারে শ্রমিক রপ্তানি করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের  আরো কঠোর নীতিমালা  গ্রহন করা উচিত । প্রাতিষ্ঠানিক ও নৈতিক প্রশিক্ষন প্রদান করে বিশ্ব শ্রম বাজারে শ্রমিক রপ্তানি করতে পারলে,অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য সম্ভব । মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তেল সম্পদে সমৃদ্ধ , আর বাংলাদেশের আছে জন সম্পদ । যার যথাযোগ্য ব্যাবহারের মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মূদ্রা অর্জন করও সম্ভব বলে তিনি মনে করেন ।
এদিকে সল্প বিনিয়োগ উদ্যোক্তাদের মধ্যে বাংলাদেশী ব্যাবসায়িদের সংখ্যা বেশী. হঠাৎ ভিসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা এখন বিপাকে পড়েছে । শ্রমিকের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্বেও শ্রমিক আমদানিতে  এ দেশের সরকার নিষেধাগ্গা আরোপ করায় বাংলাদেশী ব্যাবসায়িদের ভয়াবহ লোকসান গুনতে হচ্ছে ।ফলে বাধ্য হয়ে তারা ভারত,পাকিস্তান ও নেপাল থেকে শ্রমিক আমদানি করছেন ।
এবার গ্রীন গ্রুপ অব কোম্পানীর চেয়ারম্যান ও দেরা ব্যাবসায়ী পরিষদের সভাপতি ফখরুল ইসলাম বলেন, চলতি ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে দুবাইতে  ই.এক্স.পি.ও. টুয়ানটি- টুয়ানটি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে, এ জন্য প্রায় ১০ লাখ শ্রমিক আমদানী করছে এ দেশের সরকার । এ শ্রম বাজার দখলের জন্য উঠে পড়েলেগেছে ভারত,পাকিস্তান ও নেপাল , আর সেখানে বাংলাদেশের কোন খবরও নেই । বাংলাদেশ সরকার অনতি বিলম্বে পদক্ষেপ গ্রহন না করলে , বাংলাদেশীরা  আগামী ২-৩ বছরের মধ্যে মারাত্বক অস্তিত সংকটে পড়বে । ইতি মধ্যে শ্রমিকের অভাবে আমার কোম্পানীর আওতাধীন ৭ টি প্রকল্পের কাজ ঝুলন্ত অবস্তায় পড়ে আছে দীর্ঘদিনধরে । ওখানে আমার প্রয় ৪৩ লখ দেরহাম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে । আমার মতো হাজারো বাংলাদেশী  কোম্পানী অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনানিপাত করছে ,খকন ভিসা খোলবে এ প্রত্যাশায় ।
উত্তর আমিরাতে নিযুক্ত  বাংলাদেশ কন্ সাল জেনারেল আবু জাফর জানান , গত জানুযারী মাসে  বাংলাদেশ সরকারের জ্বালানী উপদেষ্টা ড. মাহবুবে ইলাহী  আরব আমিরাত সফরে আসেন ওই সময় এ দেশের শ্রম মন্ত্রনালয়ের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত কালে ভিসা খোলার ব্যাপারে আশস্ত করেছেন ।এ ছাড়াও সমপ্রতি সময়ে বাংলাদেশ সফর করেন আমিরাতের বাণিজ্য মন্ত্রী শেখ লুবনা খালিদ আল্ কাছেম , তিনিও ভিসা খোলার ব্যাপারে আশস্ত করেছেন । তবে কবে নাগাত খোলবে  এ ভিসা সেসম্পর্কে  কেওই জানেন না ।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

আমি ফারজানা চৌধুরী তন্বী। লেখালিখি করি ফারজানা তন্বী নামে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর আজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে লেখালিখির সঙ্গেই আছি। বার্তাবাংলা’য় কাজ করছি সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে। আমার বিশেষ আগ্রহের ক্ষেত্র ফিচার, প্রযুক্তি আর লাইফস্টাইল। ভালো লাগে ভ্রমণ, বইপড়া, বাগান করা আর ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকা :)

মন্তব্যসমূহ »

  1. শুনলাম এই মার্চ এ নাকি খুলছে আরব আমিরাতের ভিসা? কতটুকু নির্ভরযোগ্য এই তথ্য? জানালে কৃতজ্ঞ থাকবো।

মন্তব্য করুন »