বার্তাবাংলা ডেস্ক »

43590_amenestyবার্তাবাংলা ডেস্ক :বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নিয়ে মন্তব্যকারীদের জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। বুধবার এ সংস্থার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেকোন অবস্থায় শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এতে বলা হয়, সম্প্রতি একজন ব্লগারকে হত্যা করা সহ সাংবাদিক ও মিডিয়া কর্মীদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রতীয়মাণ হয় যে, বাংলাদেশের অপরাধ আদালত নিয়ে যে বা যারা মন্তব্য করছেন তাদের আরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে আরও বলা হয়, সর্বশেষ এমন হামলা হয়েছে বুধবার সকালে একটি অনলাইন সংবাদ সংস্থার এক সাংবাদিকের ওপর। তিনি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। যারা এভাবে টার্গেটে পরিণত হয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক ও ব্লগাররা। তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিটি)-এর কাছে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এ বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বাংলাদেশ গবেষক আব্বাস ফয়েজ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিষয়ে যারা মন্তব্য করছেন অথবা এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তাদের প্রয়োজনীয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে সরকারকে। নিঃশঙ্ক চিত্তে জনগণের মত প্রকাশের অবাধ সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি শুক্রবার ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারের ওপর নৃশংস হামলা হয়। তাকে প্রচণ্ড প্রহার করা হয়। তার বাসার কাছে এরপর কুপিয়ে হত্যা করা হয় তাকে। তিনি সুপরিচিত একজন ব্লগার। তিনি জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা করে মন্তব্য পোস্ট করেছিলেন। এই জামায়াতে ইসলামীর একজন সিনিয়র নেতা এরই মধ্যে আদালতে অভিযুক্ত হয়েছেন। বাকি আরও ৭ জন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি। বুধবার খুব সকালে অনলাইন সংবাদ সংস্থা বিডিনিউজের সাংবাদিক সুমন মাহবুবের ওপর হামলা হয়। তিনি মারাত্মক আহত হন। ঢাকায় তাকে টার্গেট করে তার ওপর দিয়ে একটি গাড়ি উঠিয়ে দেয়া হয়। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে একটি অনলাইন জরিপের ফল এই সপ্তাহের শুরুতে প্রকাশ করে বিডিনিউজ। এরপর থেকেই ওই সংস্থার কর্মকর্তাদের দেয়া হচ্ছে নানা রকম হুমকি। ওই হামলাগুলোর কোনটিতেই কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় নি অথবা কোন ব্যক্তি বা গ্রুপ এর দায় স্বীকার করেনি। আব্বাস ফয়েজ বলেন, এ হামলাগুলোতে একটি স্বাধীন, পক্ষপাতহীন তদন্তের আহ্বান জানাই আমরা। তা না হলে দায়মুক্তি থেকে সহিংসতা অব্যাহত থাকবে। আন্তর্জাতিক আদালতের সমালোচনাকারী সাংবাদিক ও ব্লগাররাও সমান ঝুঁকিতে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বেশকিছু রিপোর্ট পেয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সমালোচনা করেছেন এমন কিছু ব্যক্তিকে হুমকি দেয়া হয়েছে। এমনকি তাদের ওপর প্রতিশোধ নেয়া হতে পারে। তারা এমন ঝুঁকিতে রয়েছে। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বাংলাদেশ ২০১০ সালে গঠন করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত। এ আদালত এ বছর জানুয়ারিতে প্রথম রায় দিয়েছেন। তাতে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। ৫ই ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। তারপর থেকেই কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে ঢাকার শাহবাগে নেমেছে গণজাগরণ। তবে যেকোন অবস্থায় শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামী দেশব্যাপী র‌্যালি করেছে। তারা দিনব্যাপী হরতাল পালন করেছে। তাদের দাবি হলোÑ আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তাদের যেসব নেতার বিচার হচ্ছে তাদের মুক্তি দিতে হবে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »