বার্তাবাংলা ডেস্ক »

43327_adaবার্তাবাংলা ডেস্ক ::যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার সাজা বাড়াতে আগামী সপ্তাহেই আপিল করছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউশনের সমন্বয়ক এম কে রহমান মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, আগামী সপ্তাহেই আপিলের আবেদন জমা দেয়া হবে।

“আমরা পুরো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব। আইন সংশোধন করে দুই পক্ষের জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। আপিলের সকল কাগজপত্র আমরা পেয়ে গেছি। আমরা আপিলের যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছি।”

আইন মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকের পর আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলামও সাংবাদিকদের জানান, আগামী সপ্তাহে কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলে আশা করছেন তিনি।

হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কাদের মোল্লার যাবজ্জীবন সাজার আদেশ দেয়ার পর সাজা বাড়াতে আপিল করার সুযোগ না থাকার বিষয়টি উঠে আসে। মুক্তিযোদ্ধা ও বামদলগুলোসহ বিভিন্ন মহল থেকে এই রায়ে হতাশা প্রকাশ করে আইন সংশোধনের দাবি ওঠে।

All Media Link

কাদের মোল্লাসহ সব যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির দাবিতে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের ডাকে ওইদিন সন্ধ্যা থেকেই শাহবাগে শুরু হয় ছাত্র-জনতার আন্দোলন, যা পরে ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। গত দুটি শুক্রবার শাহবাগের সঙ্গে সারা দেশের মানুষ যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেয়।

ফাঁসির দাবিতে এই বিপুল জাগরণের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয় সরকার। মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদনের পর গত রোববার তা সংসদে পাস হয়।

প্রসিকিউশনের সমন্বয়ক এম কে রহমান বলেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে প্রমাণিত হয়েছে। একটি অভিযোগে তিনি খালাস পেয়েছেন। প্রসিকিউশন সবগুলো অভিযোগই সুপ্রিম কোর্টের কাছে তুলে ধরে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি চাইবে।

আইনে এই সংশোধনীর মাধ্যমে কাদের মোল্লার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতে ইসলামীর যুদ্ধাপরাধের বিচার করারও সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আইনে বলা হয়েছে, ট্রাইবুনালের বিচারের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি আপিল করতে পারবে। মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির পাশাপাশি দল বা সংগঠনেরও বিচার করা যাবে। রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান সোমবার পাস হওয়া আইনে সম্মতিও দিয়েছেন।

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির পাশাপাশি একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী দল জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছে শাহবাগের আন্দোলনকারীরা।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল বলেন, “জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়টি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। আমি মনে করি, এটা এখন সময়ের ব্যাপার।সরকার যথাসময়ে এ বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেবে।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত পে কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন নিয়ে আক আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠকে অংশ নেন আইন প্রতিমন্ত্রী।

আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু  ও এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

দল বা সংগঠনের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য কী ধরনের শাস্তি হবে জানতে চাইলে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, “দলকে তো আর জেল দেওয়া যায় না। দলের সঙ্গে ওই সময়ে যারা যুক্ত ছিল তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে।”

এছাড়া নির্দিষ্ট দলকেও ‘নিষিদ্ধ করা যেতে পারে’ বলেও মত দেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।

আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, “যেসব রাজনৈতিক দল জঙ্গীবাদ, মানুষের জীবন হরণ, জনজীবনে অশান্তি সৃষ্টি এবং ডিসিপ্লিন ফোর্স হত্যার জন্য রাস্তায় বেরিয়ে আসে- আমার মনে হয় সেসব রাজনৈতিক দলের কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনীতি করার অধিকার থাকতে পারে না।”

‘এদের’ বিরুদ্ধে করণীয় নির্ধারণে সরকার ‘চিন্তা-ভাবনা’ করছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।

তবে নির্বাচন কমিশনেরও এ বিষয়টি দেখা উচিৎ মন্তব্য করে তিনি বলেন, দলটির যে আদর্শ-উদ্দেশ্য, তা সংবিধানের মৌলিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলে নিবন্ধন বাতিল করা যেতে পারে।

“সংবিধানের ৩৮ ধারা বিশ্লেষণ করে দেখলে এবং এর সঙ্গে আরপিও মিলিয়ে পড়লে আমার মনে হয় নিবন্ধন বাতিল করার যথেষ্ট উপাদান আছে,” বলেন আইনমন্ত্রী।

নির্বাচন কমিশনও ইতোমধ্যে জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধান বাতিলের বিষয়ে তারা আইন দেখে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

জামায়াতকে নিষিদ্ধের দাবিতে ২০০৯ সালে একটি রিট আবেদন হওয়ার কথা উল্লেখ করে আইন মন্ত্রী বলেন, “এটি যদি শুনানিতে আসে তাহলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমেও আমরা দেখতে পাব- এ ধরনের রাজনৈতিক দল কার্ক্রম পরিচালনা করার অধিকারী কিনা। তবে এটা জানার জন্য রায় পর্যন্ত হয়তো অপেক্ষা করতে হবে।”

অন্যান্য ধর্মভিত্তিক দলের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুসারে কোনো দল, সংঘ বা সমিতি যদি রাষ্ট্রের জনগণকে ধর্মীয়ভাবে বিভক্ত করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করতে চায়, সেক্ষেত্রে সেই সংগঠনের নিবন্ধিত হওয়ার অধিকার থাকে না।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »