বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Fakhrulবার্তাবাংলা ডেস্ক ::সরকার দেশে ‘ভয়ভীতি ও ত্রাস’সৃষ্টি করে নির্দলীয় সরকারের চলমান আন্দোলন বানচাল করার ‘ষড়যন্ত্র’করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার বিকালে দলের এক যৌথ সভায় তিনি এই বলেন, “গত কয়েকদিনে পুলিশের হিংস্রতা দেখে মনে হয়েছে, লেবানন না প্যালেস্টাইন দেখছি। ভয় দেখানোর জন্য তারা ত্রাস সৃষ্টি করছে, যাতে জনগন প্রতিবাদ করতে না পারে।”

“সরকারকে বলতে চাই, এসব করে লাভ নেই। নির্দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন দিতে হবে। অন্য কোনো ভাবে নির্বাচন করা হলে তা জনগণ মেনে নেবে না, গ্রহনও করবে না।”

যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ভেঙে দেয়া এবং আটক শীর্ষনেতাদের মুক্তির দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই সহিংসতা চালিয়ে আসছে জামায়াতে ইসলামী ও তাদের সহযেগী সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হচ্ছে তাদের।

All Media Link

সরকারবিরোধী ১৮ দলীয় জোটের ঐক্য সম্পর্কে দলের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র বলেন, “কয়েকটি পত্রিকায় খবর এসেছে, ১৮ দলীয় জোট ভেঙ্গে যাচ্ছে। আমরা দৃঢতার সঙ্গে বলতে চাই, ১৮ দলীয় জোট ভাঙেনি, ভাঙবে না। নির্দলীয় সরকারের আন্দোলনকে বেগবান করতে রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে ১৮ দলীয় জোট গঠন করা হয়েছে। এই ঐক্য অটুট আছে। আগামীতে তা আরও শক্তিশালী হবে।’’

১৮ দলীয় জোটে আগামীতে আরও কয়েকটি দল যোগ দেবে বলে তিনি জানান।

নয়া পল্টনে দলের মহানগর কার্যালয়ের মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে এই যৌথ সভা হয়। সভায় আগামী রোববার ১৭ ফেব্রুয়ারি বিকালে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠেয় সমাবেশ সফল করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। নির্দলীয় সরকারের দাবিতে মহানগর বিএনপি এই সমাবেশ করবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের অভিযোগ করে বলেন, “মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধী নেতা-কমীদের কারাগারে বন্দি করে রাখা হচ্ছে। নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সারাদেশে অনেক নেতা-কর্মীকে গুম করে ফেলা হচ্ছে। খালে-বিলে লাশ পাওয়া যাচ্ছে। গতকালও তিনটি লাশ পাওয়া গেছে। দেশ এক চরম ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।”

কারাবন্দি নেতা-কর্মীদের ওয়ার্ড ভিত্তিক তালিকা প্রণয়নের জন্য মহানগর নেতাদের নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

“কারাগারগুলোতে আমাদের হাজার হাজার নেতা-কর্মী বন্দি হয়ে আছে। হলমার্ক কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতরা ব্যাংক থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার আত্মাসাৎ করেও একদিনে জামিন পেয়ে যায়। অথচ বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের জামিন দেয়া হয় না।”

মহানগর আহবায়ক ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সাদেক হোসেন খোকা বলেন, “শাহবাগে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল দলীয়করণ তথা গোটা বিচার বিভাগ দলীয়করণের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ। সরকার তাদের পাতানো নির্বাচনে একটি দলকে নিতে এই ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করছে বলে আমরা মনে করি।”

“আজ ক্ষমতাসীনরা শাহবাগের আন্দোলন থেকেও সুবিধা নিতে চায়। তাই আন্দোলনকারীদের বলব, কোনো দল কিংবা সংগঠন যাতে এই আন্দোলন থেকে কোনো প্রকার রাজনৈতিক ফায়দা নিতে না পারে সেদিকে তোমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।”

খোকার সভাপতিত্বে যৌথসভায় অন্যান্যের মধ্যে মহানগর সদস্য সচিব আবদুস সালাম, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, যুবদল সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব, ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

যৌথসভায় অন্যান্যের মধ্যে যুব দল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, উলামা দলের সভাপতি হাফেজ আবদুল মালেক, মৎস্যজীবী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আউয়াল খান, মহানগর যুগ্ম আহবায়ক কাজী আবুল বাশার, আবু সাঈদ খান খোকন, মো. সাহাবুদ্দিন, আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, সামসুল হুদা, মোহাম্মদ মোহন, আতিকুল্লাহ আতিক প্রমূখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »