বার্তাবাংলা ডেস্ক »

42864_f1বার্তাবাংলা ডেস্ক ::গণজাগরণ মঞ্চে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার ৪ ঘন্টার মধ্যেই পাল্টে গেল শাহবাগের চিত্র। জ্বলে উঠলো ক্ষোভের আগুন। ব্লগার রাজীবের খুনের সংবাদ শাহবাগে এসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে কারো চোখে পানি, কারো কন্ঠে কান্না। গগনবিদারী শ্লোগানে কেঁপে উঠলো শাহবাগ স্কয়ার ।  প্রতিশোধের আওয়াজ উঠলো কন্ঠে কন্ঠে। আর নয় মার খাওয়া, এবার প্রতিশোধ নিতে হবে। সন্ধ্যায় ঘোষিত বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ঘোষিত কর্মসূচির বদলে পুনরায় ঘোষিত হলো ২৪ ঘন্টা লাগাতার কর্মসূচি। দিন-রাত জেগে থাকবে শাহবাগ। ব্লগার ডা. ইমরান এইচ সরকার ঘোষণা করলেন নতুন কর্মসূচি। সংগ্রামের সহযাত্রী রাজীব হত্যার প্রতিবাদে আজ বিকেল ৪টায় শাহবাগ স্কয়ারে নিহত ব্লগার রাজীব হায়দারের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল থেকেই কালো ব্যাজ ধারণ করবেন শাহবাগের সকলে। আহবান জানানো হয় দেশের সকলকে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার। সোমবার জামায়াত আহূত হরতালের দিনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে হরতাল প্রতিহত করারও ডাক দেয়া হয়। এছাড়াও শিবির পরিচালিত সোনার বাংলা ব্লগ নিষিদ্ধ ও ওই ব্লগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে গ্রেপ্তারের আবেদন জানানো হয়। এর আগে ৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির ১১তম দিনে গতকাল অনুষ্ঠিত জাগরণ সমাবেশ শাহবাগ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে রোববার সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে সকাল ১০টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়াও পাড়ায়-মহল্লায় জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রজন্ম চত্বর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়া হয়।
এক সপ্তাহের মাথায় দ্বিতীয় সমাবেশে গতকালও প্রজন্ম চত্বরে ছিল লাখো মানুষের ঢল। নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ আর ছাত্র জনতার স্লোগান আর মিছিলে দুপুরের পর থেকে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বিকাল চারটায় সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হলেও এর আগেই শাহবাগ এলাকায় লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। ব্লগার ইমরানের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন। বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে চলে জাগরণী স্লোগান। সমাবেশ শুরুর পর ‘স্লোগানকন্যা’ লাকি আক্তারের স্লোগানে লাখো মানুষের স্রোতে প্রতিবাদের ঢেউ তোলে।
সন্ধ্যায় আন্দোলনের মূল উদ্যোক্তা ব্লগার ডা. ইমরান এইচ সরকার লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান। তিনি বলেন, শাহবাগে আমাদের যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা এখন জাতীয় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। এই আন্দোলনে শরিক হওয়ার জন্য দেশের সর্বস্তরের মানুষকে এই প্রজন্ম চত্বর থেকে সংগ্রামী সালাম জানাই। তিনি বলেন, এই প্রতিবাদ মঞ্চ কোন দলীয় মঞ্চ নয়। দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের এই আন্দোলনের অর্জন যুদ্ধাপরাধীদের বর্জন। এই অর্জন কোটি মানুষের। ইমরান বলেন, এর আগের সমাবেশ থেকে যে ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছিল এর প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের স্পিকারকেও স্মারকলিপি দেয়া হয়েছিল। আন্দোলনের ধাপে ধাপে আমরা জনসমর্থন পেয়েছি। দাবি বাস্তবায়নে সরকারের পদক্ষেপও আমরা দেখতে পাচ্ছি। আশা করি বাকি দাবিগুলোও অর্জিত হবে। যুদ্ধাপরাধীদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বর্জনের জন্য সকল রাজনৈতিক দল ও দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানাই। তাদের বর্জন করে মুখোশ উন্মোচন করে দিন।
ইমরান বলেন, অন্যায় যে করে আর যে সহে উভয়ই সমান অপরাধী। যারা যুদ্ধাপরাধীদের আশ্রয় দেবে জনগণ ও প্রজন্ম কাউকে ক্ষমা করবে না। তিনি বলেন, আমরা জামায়াতের প্রতিষ্ঠান বর্জনের আহবান জানিয়েছিলাম। জামায়াতের প্রতিষ্ঠান বর্জন শুরু হয়েছে। এটিকে উৎসবে রূপ দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর আইন সংশোধনে সংসদে বিল উপস্থাপনের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন সংশোধন হলে আমাদের দাবি আদায়ে আর কোন জটিলতা থাকবে না। এছাড়া জামায়াত নিষিদ্ধের বিষয়ে জাতীয় সংসদ এবং নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। তবে দাবি আদায়ে কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। চূড়ান্ত বিজয়ের আগ পর্যন্ত স্লোগান থামবে না।
বিকাল চারটার আগে প্রীতমের ‘এ যেন আবার একাত্তর’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় জাগরণ সমাবেশের কার্যক্রম। শুরুতে সমবেত কণ্ঠে গাওয়া হয় জাতীয় সংগীত। এরপর শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ করা হয় তাকে। একে একে বক্তব্য রাখেন, জাসদ ছাত্রলীগ সভাপতি হোসেন আহমেদ তফসীর, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি সাইফুজ্জামান, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি আবদুর রউফ, ছাত্রফেডারেশনের সভাপতি প্রবীর সাহা, ছাত্র ঐক্য ফোরামের সভাপতি সোহান সোবহান, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি সালমান রহমান, ছাত্র সমিতির সভাপতি জাহিদুর রহমান খান, ছাত্র আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল শিকদার প্রমুখ। শাহবাগ স্কয়ারের মাঝখানে দুটি খোলা ট্রাকে তৈরি করা মঞ্চে
ছাত্র নেতাদের বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে চলে জাগরণী স্লোগান। লাখো জনতার স্লেগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সমাবেশ চলাকালে কিছু সংবাদ মাধ্যম ও টক শোতে অংশ নেয়া ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়া হয়। একই সময়ে শাহবাগ আন্দোলনের সঠিক সংবাদ প্রচারের জন্য সংবাদ মাধ্যম এবং সংবাদকর্মীদের ধন্যবাদ জানানো হয়।
সমাবেশ শুরুর পর রূপসী বাংলা হোটেল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, শিশু পার্ক থেকে আজিজ সুপার মার্কেট পর্যন্ত রাস্তায় জনস্রোত ছড়িয়ে পড়ে। সমাবেশকে ঘিরে পুরো এলাকা ছিল আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি। প্রজন্ম চত্বরে প্রবেশের সবকটি রাস্তায় তল্লাশি করে ঢুকতে দেয়া হয়। প্রবেশমুখগুলোতে ছিল পুলিশ এবং র‌্যাবের কড়া নজরদারি। এদিকে আন্দোলনের একাদশতম দিনে নানা শ্রেণী পেশার মানুষ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন। প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজ দুই সন্তানসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন। জাগরণী সমাবেশ চলাকালে কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন ভাষাসৈনিকরা।
ছাত্রনেতারা যা বলেন: সমাবেশে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র সংহতির সাধারণ সম্পাদক রাশিদুল হাসান বলেন, ৭১ সালে যারা আমাদের মা-বোনদের হত্যা ধর্ষণ করেছিল তাদের প্রতি ঘৃণা জানাতে এখানে এসেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত জনতার এই আন্দোলন চলবেই। বাংলাদেশ বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি বলেন, জনতা দেখিয়ে দিয়েছে জ্বলে-পুড়ে ছারখার তবুও মাথা নোয়াবার নয়। রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। এখন আর তারা পালানোর পথ খুঁজে পাবে না। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, আইন করে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশকে রাজাকার মুক্ত করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে সে আন্দোলন চলবেই। বাংলাদেশ ছাত্রঐক্য ফোরামের সভাপতি সোহান সোহবান বলেন, জামায়াত-শিবিরের দোসররা ৭১ সালে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ওপর গণহত্যা চালিয়েছিল। গুম, খুন, ধর্ষণ, অত্যাচার-নির্যাতন করেছিল। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। আজ আবার এদেশের তরুণ প্রজন্ম জেগে উঠেছে। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবেই। তিনি আরও বলেন, কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে ১১ দিন আগে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা বাংলাদেশের গণ্ডি পেরিয়ে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। আমাদের বিজয় হবেই।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি প্রবীর সাহা বলেন, ৭১ সাল আমাদের শিখিয়ে গেছে লড়াই করে জিততে হবে। লড়াই ছাড়া কোন সংগ্রামে জয়ী হওয়া যায় না। গত ৪২ বছরে যেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা যায়নি সেই দায়িত্ব আজ ছাত্র সমাজ হাতে তুলে নিয়েছে। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক ফ্রন্টের সভাপতি সাইফুজ্জামান বলেন, শাহবাগ এখন বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রতিধ্বনি করছে। শাহবাগ ভুলেনি ৭১ সালের শহীদদের কথা। তিনি বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল সামপ্রদায়িকতার বিরুদ্ধে, পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে।  তখন সামপ্রদায়িকতার কবর রচনা হয়েছিল। শাহবাগের আন্দোলনও যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি আদায় করে ছাড়বে। বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, লাল কাপড় দেখলে ষাঁড় যেমন ভয় পায় তেমনি শাহবাগের আন্দোলন দেখে জামায়াত-শিবির ভয় পেয়েছে। শাবাশ বাংলাদেশ, অবাক তাকিয়ে রয়, তবুও মাথা নোয়াবার নয়। তিনি বলেন, শাহবাগের এই আন্দোলনকে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে দিতে হবে। স্কুল-কলেজে গণজাগরণ তৈরি করতে হবে। একটি মহল জনতার ঐক্যের আন্দোলনে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, শাহবাগের আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদেরকে খুনি সাজিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মহল। আমি হুঁশিয়ার করে বলে দিতে চাই, আমাদের আন্দোলনের ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করলে এর ফল শুভ হবে না। তিনি কয়েকটি দৈনিকের নাম উল্লেখ করে বলেন, এসব দৈনিকে শাহবাগের আন্দোলনকে ফ্যাসিবাদী আন্দোলন বলা হচ্ছে। জামায়াত-শিবির প্রতিরোধ করলে যদি ফ্যাসিবাদ হয় তাহলে এক লাখ বার ফ্যাসিবাদী হতে রাজি আছি।
ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম বলেন, আমাদের আন্দোলন চলছে, চলবে। আগামীকাল সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সংশোধনের বিল পাস হবে। ফলে আমাদের আন্দোলনের বিজয় শুরু হয়েছে। এ বিজয় জনতার। এ বিজয় তরুণ সমাজের। ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি এসএম শুভ বলেন, শাহবাগকে শিবির মুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। তাই শাহবাগের মতো বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামের পাড়া জামায়াত-শিবির মুক্ত এলাকা ঘোষণা করুন। আমি সরকারের কাছে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করার দাবি জানাচ্ছি। জাসদ ছাত্রলীগের সভাপতি হোসেন আহমেদ তফসির বলেন, মায়ের রক্তক্ষরণ ছাড়া যেমন কোন সন্তানের জন্ম হয় না তেমনি জনতার রক্তদান ছাড়া কোন আন্দোলন সফল  হয় না। ৭১ সালে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। এই আন্দোলনেও বিজয় অর্জিত হবে। জামায়াত-শিবিরের উদ্দেশে  তিনি বলেন, আগুন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না। আমরা অহিংস আন্দোলন করছি। গতকাল শাহবাগের আন্দোলন থেকে বাড়ি ফেরার পথে টঙ্গীতে একজনের ওপর জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা হামলা করেছে। যদি আমাদের আর কোন সাথীর ওপর হামলা হয় তাহলে মগবাজারের জামায়াতের অফিস গুঁড়িয়ে দেয়া হবে।
জনসমুদ্র শাহবাগ: গতকালের গণজাগরণ সমাবেশকে ঘিরে জনসমুদ্রে পরিণত হয় রাজধানীর শাহবাগ এলাকা। ভিড় বাড়তে থাকে দুপুরের পর থেকেই। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে দলে দলে আসতে থাকে মানুষ। সবারই ঠিকানা শাহবাগের মোহনা। একপর্যায়ে পুরো চত্বর পূর্ণ হয়ে যায় মানুষ আর মানুষে। চত্বর পেরিয়ে মানুষের এ ঢেউ গিয়ে ঠেকে দক্ষিণদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, পশ্চিমদিকে কাঁটাবন, পূর্বদিকে শিশুপার্ক ও উত্তরদিকে রূপসী বাংলার মোড় পর্যন্ত। তরুণ প্রজন্ম এ সমাবেশে ডাক দিলেও সমাবেশে এসেছেন সব  শ্রেণী-পেশার মানুষ। ৭১’র মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে এ তরুণ-তরুণীদের ভিড়ে একাকার হয়ে যায় শাহবাগ। মায়ের হাত ধরে  কোলের শিশু যেমন এসেছে, তেমনি ছেলের হাত ধরে এসেছে বৃদ্ধ বাবাও। গৃহিণী, চাকরিজীবী আর শ্রমিকরাও বসে নেই। স্কুল-কলেজ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এসেছে কিন্ডারগার্টেনে পড়ুয়া ছোট্ট শিশুও। বাদ পড়েনি শিক্ষকরাও। তারাও শামিল হয়েছেন প্রজন্মের এ আন্দোলনে। এখানে মিশে গেছে ধর্মের সীমারেখা। সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে একাত্ম হয়েছে এক দাবিতে। হিন্দু, মুসলমান,  বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে গেছে শাহবাগের এ আন্দোলনে।
ভাষাসৈনিকদের একাত্মতা: যুদ্ধাপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে চলা শাহবাগের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন ৫২’র ভাষাসৈনিকরাও। গতকাল বিকালের গণজাগরণ সমাবেশে তারা এসে এ সংহতি প্রকাশ করেন তারা। সমাবেশ মঞ্চ থেকে এ ঘোষণা দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। সংহতি প্রকাশকারী ভাষাসৈনিকরা হলেন- আহমেদ রফিক, সাইদ হায়দার, গোলাম রব্বানী, কামাল  লোহানী, নওশাদ জামিল, ড. হালিমা খাতুন, গোলাম আরিফ টিপু, আফরোজা খাতুন, কাজী শীষ প্রমুখ। নবপ্রজন্মের এ আন্দোলনের সঙ্গে তারা তাদের সংহতি জানাতেই সমাবেশে যোগ দেন।
জামায়াতের প্রতিষ্ঠান বর্জনে লিফলেট: রাজাকারদের বিচারের দাবিতে চলা শাহবাগের গণজাগরণ সমাবেশে জামায়াতের মালিকানা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা সংবলিত একাধিক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। গতকাল গণজাগরণ সমাবেশ চলাকালীন এই লিফলেটগুলো উপস্থিত জনতার মধ্যে বিতরণ করা হয়। লিফলেটে জামায়াতের মালিকানাধীন ব্যাংক-বীমা, ডেভেলপার, কোচিং বাণিজ্য, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রকাশনী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের তালিকা দেয়া হয়। জামায়াতের এসব প্রতিষ্ঠান ও পণ্য বর্জনের স্লোগান লেখা রয়েছে লিফলেটে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »