বার্তাবাংলা ডেস্ক »

jagoron-monco-sm20130214233447বার্তাবাংলা ডেস্ক ::যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে দেশজুড়ে জাগরণের একাদশ দিনে শাহবাগে ‘জাগরণ সমাবেশের’ ডাক দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় এই সমাবেশ থেকে ঘোষণা করা হবে নতুন কর্মসূচি।

সারাদেশে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন শেষে  স্লোগানমুখর আরেকটি নির্ঘুম রাত পার করে শাহবাগে শুরু হয়েছে জাগরণের একাদশতম দিন।

All Media Link

গত ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর শাহবাগে এই আন্দোলন শুরুর পর ৮ ফেব্রুয়ারি লাখো মানুষের মহাসমাবেশ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি তিন মিনিটের নীরবতা কর্মসূচির পর বৃহস্পতিবার মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিতেও সারা দেশে অভূতপূর্ব সাড়া আসে।

সন্ধ্যায় শাহবাগে মোমবাতি হাতে সেই কর্মসূচি থেকেই জাগরণ সমাবেশের’ ঘোষণা আসে।

প্রদীপ প্রজ্বলন শেষে এ আন্দোলনের অন্যতম উদ্যোক্তা ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের ইমরান এইচ সরকার মূল মঞ্চ থেকে বলেন, “আমাদের যে ক’টি প্রধান দাবি ছিল, তার একটি, ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের দাবি বাস্তবায়নের পথে। আইনটি রোববার সংসদে পাস হবে বলে আমরা আশা করছি। এটি আমাদের আরেকটি প্রাথমিক বিজয়।

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি এবং জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধসহ অন্যান্য যে দাবি শাহবাগের মঞ্চ থেকে এসেছে, তা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।আগের দিনগুলোর মতো বৃহস্পতিবারও শাহবাগের নির্ঘুম রাত কাটে রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে স্লোগানে আর গানে।

শুক্রবার দিনের আলো ফুটতেই সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় গণজাগরণ মঞ্চের একাদশ দিনের কর্মসূচি।

সকাল ৬টা ১৫মিনিটে সবাই উঠে দাঁড়িয়ে জাতীয় সংগীত কণ্ঠে লক্ষ্য অর্জনে অবিচল থাকার শপথ নেন। জাতীয় সংগীত শেষে সম্মিলিত কণ্ঠে স্লোগান ধরেন তারা।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় আসার পর তা প্রত্যাখ্যান করে ফাঁসির দাবিতে এই আন্দোলন শুরু করে ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্ক। ধীরে ধীরে তা রূপান্তরিত হয় জনতার আন্দোলনে।

সেই থেকে জাগ্রত জনতা রাতদিন শাহবাগে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিয়ে আসছে- ‘ফাঁসি ফাঁসি ফাঁসি চাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই।’

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের সুযোগ বাড়াতে ট্রাইব্যুনালের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষের পাশাপাশি রাষ্ট্রপক্ষেরও আপিল করার সমান সুযোগ রেখে আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। রোববারই এ আইন পাস হতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এছাড়া শাহবাগের দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জামায়াত নিষিদ্ধের বিলও সংসদে উপস্থাপনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »