বার্তাবাংলা ডেস্ক »

42778_f5বার্তাবাংলা ডেস্ক ::বগুড়া থেকে: বগুড়ায় জামিন না পেয়ে এজলাস চত্বর ভাঙচুর করে আসামি ছিনিয়ে নেয়ার পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে। আসামি ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় আদালতের অভ্যন্তরে এবং বাইরে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা জজের সভাপতিত্বে জরুরি সভার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। পরে আদালত ভাঙচুর ঘটনায় কোর্ট সাব-ইন্সপেক্টর বাদী হয়ে মামলা করেন। এ মামলায় ছিনিয়ে নেয়া আসামি  বগুড়া জেলা যুবদল সভাপতি শিপার আল বখতিয়ার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরাফাতুর রহমান আপেল, যুবদল নেতা আদিল শাহরিয়ার গোর্কি, মহরম আলী, শাহ আলমসহ দেড় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সাব-ইন্সপেক্টর আতাউর রহমান জানান, বগুড়া শহরের শহীদ খোকন পার্কের মোড়ে গত ১৩ই ডিসেম্বর বিরোধী দলের হরতাল চলাকালে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ছাত্রলীগের নেতা জগলুল পাশা আহত হলে তিনি বাদী হয়ে সদর থানায় জেলা যুবদল সভাপতি সিপার আল বখতিয়ার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মেহেদী হাসান হিমু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরাফাতুর রহমান আপেলসহ ৪৪ জনের নামে মামলা করেন। এ মামলায় আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে আগামী ১৬ই ফেব্রুয়ারি ’১৩ পর্যন্ত অস্থায়ী জামিন পান। এ অবস্থায় গতকাল আসামিরা বগুড়া সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। এ সময় সদর কোর্টের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হামিদ ৪৪ জনের মধ্যে ওই ৬ জনের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় আসামিরা এবং বাইরে থাকা তাদের কয়েক শ’ সমর্থক স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে ওই ৬ আসামি কাঠগড়ার গেট ভেঙে বেরিয়ে এসে এজলাসের মধ্যে ভাঙচুর শুরু করে এবং বিচারকদের গালাগাল শুরু করে। পরে ওই ৬ আসামি আদালত থেকে তাদের সমর্থকদের সহায়তায় পালিয়ে যাওয়ার সময়ও আদালতের ভিতরে ভাঙচুর করে। এজলাস ও আদালতে ভাঙচুরের  ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত ৬ জন এবং জগলুল পাশার মামলার সকল আসামিসহ অজ্ঞাত আরও ১শ’ জনের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মামলা হয়েছে। বগুড়া সদর থানার ওসি শহীদ আলম জানান, আসামিরাসহ তার সমর্থকরা আদালত থেকে বেরিয়ে এসে আদালত এলাকা থেকে শুরু করে চেলাপাড়া পর্যন্ত গাড়ি ও দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এ সময় ওই ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়। আসামি  পক্ষের আইনজীবী আবদুল বাছেদ জানান, আসামিরা হৈচৈয়ের মধ্যে বাইরে এলেও পরে তারা নিজেরাই আত্মসমর্পণ করে। এডিশনাল প্রসিকিউটর জাকির হোসেন নবাব জানান, এ ঘটনায় জজকোর্ট হলরুমে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা ও দায়রা জজ মো. মফিজ উদ্দিন, জেলা প্রশাসক সারোয়ার মাহমুদ, পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হক, বারের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পাবলিক প্রসিকিউটর ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ভাঙচুর ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে এবং কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। পরে জেলা ও দায়রা জজ, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পাবলিক প্রসিকিউটর, চিফ জুডিশিয়াল আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরা ভাঙচুর স্থান পরিদর্শন করেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »