বার্তাবাংলা ডেস্ক »

saima-soniaবার্তাবাংলা ডেস্ক ::ভারতের রাষ্ট্রপতি ও ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে এ বছরই চুক্তি করতে আগ্রহী বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ অটিজম নিয়ে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশ নিতে সম্প্রতি নয়া দিল্লি যান। সফরকালে তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় ও অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তারা তাকে এ কথা জানান।কংগ্রেসের একাধিক নেতা ও রাষ্ট্রপতি ভবনের কর্মকর্তারা জানান,রাষ্ট্রপতি ও কংগ্রেস প্রধান দুজনেই চলতি বছরের মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরে ভারত সরকারের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাইও সম্প্রতি ঢাকা সফরে এসে শিগগিরই এ চুক্তি স্বাক্ষরের আশার কথা শুনিয়েছিলেন।

All Media Link

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই হওয়ার কথা থাকলেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে শেষ মুহুর্তে তা বাতিল হয়ে যায়।

বাংলাদেশের সঙ্গে এ চুক্তি হলে পশ্চিমবঙ্গের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি পশ্চিমবঙ্গ সফর করেও চুক্তির জন্য মমতার সাড়া পাননি।

আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ। তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য চেষ্টা করে আসছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া দেননি মমতা।

অবশ্য ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধিতা করে গেলেও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লি।

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের এখতিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। তারপরেও ঐক্যমতের ভিত্তিতে এগোনোর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের সম্মতিতে এ চুক্তি সইয়ের চেষ্টা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং।

অবশ্য মমতার তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতাসীন জোট সরকার থেকে বেরিয়ে গেলেও সরকারের তেমন কোনো বিপত্তিতে পড়তে হয়নি। তাই মমতার সম্মতি নেয়ার জন্য তেমন কোনো চাপও নেই ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ধারণা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ এবং মার্চে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ঢাকা সফরের পর এ চুক্তি চূড়ান্ত রূপ পেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও এ বছর ভারত সফরের কথা রয়েছে। আর তখনই তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই হতে পারে।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »