বার্তাবাংলা ডেস্ক »

42371_f1বার্তাবাংলা ডেস্ক ::আজ তিন মিনিটের জন্য স্তব্ধ হয়ে যাবে পুরো বাংলাদেশ। বিকাল ৪টায় সবাই যার যার অবস্থানে দাঁড়িয়ে সংহতি জানাবে যুদ্ধাপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে চলমান আন্দোলনে। গতকাল শাহবাগ আন্দোলনের সপ্তম দিনে এ আহ্বান জানানো হয়েছে দেশবাসীর প্রতি। এ দিনেও স্লোগান, প্রতিবাদে উত্তাল ছিল শাহবাগ স্কয়ার। সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে ঢল নেমেছিল বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের। আন্দোলন চালিয়ে যেতে গতকাল বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের নিয়ে সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। ভোরের আলো ফোটার পরপরই বাড়তে থাকে শাহবাগ স্কয়ারে জনসমাগম। দিনভর পুরো এলাকায় আসতে থাকা জনস্রোত বিকালে পরিণত হয় জনসমুদ্রে। ইউনিফর্ম পরা স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা স্লোগানে স্লোগানে কাঁপিয়ে তুলেন শাহবাগের বাতাস। কিছুক্ষণ পরপর গণসংগীত গেয়ে আন্দোলনকারীদের উজ্জীবিত করে রাখা হয়। টানা সাতদিন ধরে অনেকে আন্দোলন চালিয়ে গেলেও তাদের মুখে নেই কোন ক্লান্তির ছাপ। গতকালও সংহতি জানান বিশিষ্ট ব্যক্তি থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মানবাধিকার সংগঠন, সাংস্কৃতিক সংগঠন। দুপুরের দিকে কিছু সময় যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য মাইক বন্ধ থাকলেও থেমে থাকেনি স্লোগান। তখন উপস্থিত সবার কণ্ঠেই জোরালো ছিল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি। দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনে সংহতি জানান চিত্রনায়ক ফারুক। তখন উপস্থিত জনতা তাকে করতালি দিয়ে অভিনন্দন জানান। দুপুর দেড়টার দিকে অভিনেত্রী অপি করিম ও ডলি ইকবালের নেতৃত্বে কয়েকজন নৃত্যশিল্পী সমাবেশে এসে সংহতি প্রকাশ করেন। এসময় তারা রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে একত্রে স্লোগান ধরেন। আন্দোলনকারীদের উজ্জীবিত করতে কিছুক্ষণ পরপর উৎসাহমূলক ঘোষণা দেয়া হয়। বিকালে নাট্যকার ড. ইনাম আহমেদ আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেন। বিকাল পাঁচটায় সাবেক সেনাপ্রধান ও সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি কেএম সফিউল্লাহ সংহতি প্রকাশ করে বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। কিন্তু দেশে কিছু বিশ্বাসঘাতক রয়ে গেছে আমরা ভাবিনি। কিন্তু এবার তাদের রক্ষা হবে না। সন্ধ্যার পর আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানান শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। রাত ১০টার দিকে  লোকসমাগম কিছুটা কমলেও রাতভরই চলে রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে স্লোগান।
গতকালও ছিল শিক্ষার্থীদের দখলে: গতকাল শাহবাগের গণজাগরণ চত্বর বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দখলে ছিল । সকাল থেকেই স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষ করেই সমাবেশে আসতে শুরু করেন। বাড়তে থাকে সমাবেশের পরিধি। সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের কয়েকশ’ শিক্ষার্থী ওই বিভাগের শিক্ষকদের নেতৃত্বে সমাবেশে এসে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তারা ঢোল-বাদ্য নিয়ে নেচে গেয়ে নানা স্লোগান দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানান। এরপর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্কুলের শিক্ষার্থীরা কয়েকজন শিক্ষকের নেতৃত্বে  জাগরণ চত্বরে প্রবেশ করেন। তারা মিছিল সহকারে সারিবদ্ধভাবে আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা জানান। এরপর বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শাহবাগে আসেন। দুপুরের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শতাধিক শিক্ষার্থী আন্দোলনে যোগ দেন। এভাবে দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষ করেই চলে আসেন রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত এই আন্দোলনে। স্লোগানে স্লোগানে কাঁপিয়ে তুলেন গণজাগরণ চত্বর। গণসংগীতে মাতিয়ে রাখেন উপস্থিত জনতাকে। এসেছিল মিরপুরের ঢাকা কমার্স কলেজের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী। ১০টি বাসে করে, ২০ জন শিক্ষকের নেতৃত্বে কলেজের শিক্ষার্থীরা এ সমাবেশে যোগ দেন।
শোলাকিয়ার ইমামের সংহতি: কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনরতদের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ। দুপুরে আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি বলেন, আমি সকল মুসলিম ও ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবি জানাতে এসেছি। জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। হিটলার-নাৎসী পন্থিদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক। তিনি আরও বলেন,  হে আল্লাহ, যারা ৭১-এ আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেছে তাদের বিচার তুমি কর। বিচারপতিরা জালিম। তারা সঠিক বিচার জানে না। তাদের বিচার আল্লাহ করবেন। তিনি আরও বলেন, হে আল্লাহ তুমি লক্ষ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে আমাদের এ প্রার্থনা কবুল কর। জামায়াত-শিবির নিপাত যাক। মোনাজাত শেষে তিনি আন্দোলনকারীদের সাফল্য কামনা করেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »