বার্তাবাংলা ডেস্ক »

42282_bnpবার্তাবাংলা ডেস্ক ::শাহবাগের প্রতিবাদী আন্দোলনে নব্য বাকশালী আক্রমণ শুরু হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি। সেই সঙ্গে শাহবাগ চত্বরের সমাবেশ থেকে সরকার দলীয় বুদ্ধিজীবীদের মুখে কয়েকটি গণমাধ্যম বন্ধ ও আমার দেশ স¤পাদক মাহমুদুর রহমান ও বুদ্ধিজীবী  ড. পিয়াস করিমকেও নানাভাবে হুমকির ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি। আজ এক বিবৃতিতে দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেছেন, নব্য বাকশালী আক্রমণ শুরু হয়ে গেছে শাহবাগ চত্বরে। আওয়ামী লীগ নেতাকে মঞ্চে উঠতে বাধা দেয়ায় কিশোরী লাকী আক্তারের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগের সাধারণ স¤পাদকের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী। মঞ্চের উপরেই তার মাথায় ও পিঠে প্রচন্ড আঘাত করেছে তারা। রিজভী বলেন, নিরীহ শ্রমিক বিশ্বজিতের হত্যাকারী, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে এসিড নিক্ষেপ করে ছাত্র-শিক্ষকদের মুখ বিকৃতিকারী, কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নি®পাপ কিশোরীদের নির্যাতন করে সেঞ্চুরির উৎসব পালনকারীদের সঙ্গে নিয়ে কোন আন্দোলনেই নৈতিকতা যোগ হতে পারে না। আর প্রতিটি আন্দোলন সফল হয় উচচ নৈতিকতার মাত্রা যোগ হলে। রিজভী আহমেদ বলেন, কয়েকদিন ধরে শাহবাগ চত্বরে মানবতা বিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে তরুন তরুনীদের জমায়েত অনুষ্ঠিত হচেছ। তরুনদের দাবির যৌক্তিকতা থাকতেই পারে। তাদের এই উচছাস ও আবেগের প্রতি বিএনপি সবসময়ই ইতিবাচক বক্তব্য দিয়ে এসেছে। কিন্ত আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি তরুনদের এই দাবি মহল বিশেষ দলীয়করণ করার সর্বাত্বক কার্যক্রম চালিয়ে যাচেছ। তরুনদের উচছাসকে একদলীয় অখন্ড কর্তৃত্বাধীন করার জন্য ক্ষমতাসীন গোষ্ঠি  রাষ্ট্র ক্ষমতাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরণের কুটিল ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচেছ। সরকারি নীলনকশায় তরুণদের এই আন্দোলনকে বিভ্রান্ত করার বিষয়টি ইতোমধ্যে জনগণের চোখের সামনে ভেসে উঠেছে। তিনি বলেন, শাহবাগ চত্বরের সমাবেশ স্থলে আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবী ও সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতা-কর্মীরা আমার দেশ, নয়াদিগন্ত, সংগ্রাম পত্রিকায় অগ্নিসংযোগ করেছে এবং পত্রিকাগুলো বন্ধ করে দেয়ার জন্য প্রতিদিন হুমকি দিচেছ। পাশাপাশি মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতার স্বপক্ষে নির্ভিক স¤পাদক মাহমুদুর রহমান ও গণতন্ত্রের স্বপক্ষে আপোষহীন উচচকন্ঠ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবী  ড. পিয়াস করিমকেও নানাভাবে হুমকি দেয়া হয়েছে। এই সমস্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে ’৭৫-এর একদলীয় ফ্যাসিবাদের সু¯পষ্ট প্রতিধ্বনি পাওয়া যাচেছ। রিজভী আহমেদ বলেন, বিএনপি মনে করে, যারা দেশের সার্বভৌমত্ব লংঘন করছে, সীমান্তে বাংলাদেশী হত্যা করছে, সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার ওপর বাংলাদেশী কিশোরী ফেলানীর লাশ ঝুলিয়ে দিচেছ তাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের নির্লিপ্ততা যদি তরুণরা শাহবাগ চত্বরে আন্দোলনের দাবির পরিধিতে অন্তর্ভূক্ত করতো তবে এ আন্দোলন আরও গ্রহনযোগ্য হতো। কারণ এগুলোও মানবতা বিরোধী অপরাধ। ক্ষমতাসীন দল ও তাদের মন্ত্রী সভায় যে সকল স্বাধীনতা বিরোধী রয়েছেন তাদের বিচারের দাবিও একই সঙ্গে উচচারিত হলে সারাদেশের মানুষের কাছে শাহবাগের আন্দোলনকারী তরুণদের দাবি আরও যথার্থ হয়ে উঠতো। তিনি বলেন, পদ্মাসেতু কেলেংকারী, শেয়ারবাজার ধ্বংস্, সোনালী ব্যাংক-হলমার্ক ও ডেসটিনি কেলেংকারীর মাধ্যমে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট করে যারা মানুষকে সর্বশান্ত করেছে, তাদেরকে আইনের ফাঁক দিয়ে রেহাই দেয়া হচেছ। কারণ তারা সবাই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে স¤পর্কযুক্ত। এই লুটেরেরাও মানবতা বিরোধী এবং এরাও অপরাধী। এদের বিচারের জন্য শাহবাগ চত্বরে তরুণদের বর্তমান আন্দোলনে একটি সোচচার দাবি হতে পারলে তাহলেই কেবলমাত্র আন্দোলন সর্বব্যাপী রূপ লাভ করতো। রিজভী আহমেদ বলেন, সাবেক এমপি ইলিয়াস আলী, কমিশনার চৌধুরী আলম, শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলামসহ অসংখ্য মানুষের গুম এবং গুপ্ত হত্যা যে সরকারী মদদেই ঘটে চলেছে তা কারো জানতে বাকি নেই। তরুনদের দাবিনামাতে বর্তমান সরকারের এই প্রাণঘাতি অপকর্মের বিষয় উল্লেখ থাকলে তাদের এই আন্দোলন দল-মত নির্বিশেষে একটি অভিন্ন মাত্রা পেত। প্রখ্যাত বাম নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সিরাজ শিকদারসহ ৪০ হাজার প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী ও মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করে যারা চরম ফ্যাসিবাদী একদলীয় শাসনের প্রতিষ্ঠা করেছিলো, তাদের হাতের ক্রীড়নক হওয়া থেকে সাবধান থাকতে হবে তরুণদের।  রিজভী আহমেদ বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন দলীয় সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত করার এক অশুভ অভিপ্রায় নিয়েই শাহবাগ চত্বরকে ব্যবহার করার চক্রান্তে মেতে উঠেছে সরকার। ক্ষমতাসীন দল ছাড়া সারাদেশে দল-মত-শ্রেণী-পেশার সকল মানুষ আজ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সোচচার। একমাত্র নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে মানুষ তার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার স্বাধীনতা লাভ করে। দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অন্তর্নিহিত শক্তি ছিলো বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রেরণা। তাই তরুনদের এই আন্দোলনে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃস্থাপনে দাবির বিষয়টি থাকলে এটি আরও সার্থক হয়ে উঠতো।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »