বার্তাবাংলা ডেস্ক »

03+CRICKET+shshbaghবার্তাবাংলা ডেস্ক ::শাহবাগের জাগরণে যোগ দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবির সঙ্গে একাত্মতা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের দলের খেলোয়াড়রা।

অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম, সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও মোহাম্মদ আশরাফুল, নাসির হোসেন, ইলিয়াস সানি, আব্দুর রাজ্জাক, সোহাগ গাজী, এনামুল হক বিজয় ও মোমিনুল হক রোববার বেলা দেড়টায় শাহবাগের সমাবেশে উপস্থিত হলে করতালি দিয়ে ও জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে তাদের স্বাগত জানায় জনতা।

সমস্বরে স্লোগান ওঠে, ‘সবাই বলো/ফাঁসি’, ‘লাখো জনতা/ফাঁসি’, ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা/ ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’, ‘যুদ্ধাপরাধীর আস্তানা/ ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘একাত্তরের হাতিয়ার/গর্জে উঠুক/আরেকবার’, ‘প্রহসনের এই রায়/মানি না মানব না’, ‘জ্বালো জ্বালো/আগুন জ্বালো’।

All Media Link

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান, প্রধান নির্বাচক আকরাম খান, অন্যতম নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন, এডহক কমিটির সদস্য জালাল ইউনূস, মাহবুব আনাম, আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি, আই এইচ মল্লিক, লোকমান হোসেন ভূঁইয়াসহ বিসিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একইসঙ্গে শাহবাগে আসেন।

ক্রিকেটাররা মঞ্চে উঠে হাত নেড়ে জনতার এই আন্দোলনে সংহতি জানান। এ সময় নাসিরের হাতে জাতীয় পতাকা জড়ানো দেখা যায়।

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেন, “গণজাগরণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করার জন্য জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা শাহবাগে এসেছেন। বিভিন্ন কারণে যারা আজ আসতে পারেননি, তারাও এই আন্দলনে সহমত প্রকাশ করেছেন।”

তিনি বলেন, “এর আগে খেলা বা নিজের দলের জন্য স্লোগান দিয়েছি। এই প্রথম দেশের জন্য স্লোগান দিলাম। তরুণদের এই আন্দোলন দেখে আমি অভিভূত। দেশকে রাজাকারমুক্ত করতেই হবে।”সাবেক অধিনায়ক আশরাফুল বলেন, “এতোদিন খেলার কারণে আসতে পারিনি। আজ খেলা না থাকায় তরুণদের এই আন্দলনের সঙ্গে যোগ দিতে এখানে এসেছি। ক্রিকেটারা এই আন্দলনের সঙ্গে আছে।”

পাঁচ দিন ধরে দৃপ্ত কণ্ঠের স্লোগানে শাহবাগ মাতিয়ে রাখা ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লাকী আক্তার বলেন, “এটা গণমানুষের আন্দোলন। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা শাহবাগে এসে একাত্মতা প্রকাশ করায় আন্দোলন আরো বেগবান হলো।”

এর আগে সকালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দল দুরন্ত রাজশাহীও  শাহবাগে এসে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে।

দলের জার্সি গায়ে বেলা সোয়া ১১টার দিকে শাহবাগের সমাবেশস্থলে পৌঁছান খেলোয়াড়রা। এ সময় সমবেতরা করতালি দিয়ে তাদের স্বাগত জানায়।

দুরন্ত রাজশাহীর চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান মোহন বলেন, “যুবকেরা যেটা করে দেখাচ্ছে সেটা সিত্যিই অহংকার করার মতো। তাদের এই কার্যক্রমে পূর্ণ সমর্থন জানানোর জন্যই দুরন্ত রাজশাহী এখানে এসেছে।”

“এখানে আমি প্রতিজ্ঞা জানাতে চাই, আজকের এবং ভবিষ্যতের বিপিএল বা বাংলাদেশ ক্রিকেটে পাকিস্তানিদের বর্জন করা হবে।”

গণদাবির সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে শনিবার স্ত্রী ইশিতাকে নিয়ে শাহবাগে আসেন ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফিস।

পাঁচ দিন ধরে চলমান এই আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে খুলনা রয়েল বেঙ্গলসের অধিনায়ক নাফিস বলেন, “শাহবাগে তরুণদের এই আন্দোলনে আসতে পেরে ভালো লাগছে।এমন একটি প্রতিবাদে সবারই অংশগ্রহণ করা উচিৎ।”

‘কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই’, ‘রাজাকারের ফাঁসি চাই’- আওয়াজ তুলে সমবেতদের সঙ্গে একাত্ম হন এই ক্রিকেটার।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »