বার্তাবাংলা ডেস্ক »

41873_eeeবার্তাবাংলা ডেস্ক ::বর্তমানে ডিজিটাল চলচ্চিত্রের নামে নতুন যে পদ্ধতিতে চলচ্চিত্র নির্মাণের হিড়িক পড়েছে তাতে অভিনয় করতে মৌসুমী, শাবনূর, পপি, পূর্ণিমার মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাদের আগ্রহ কমছে। সঠিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল ছবি নির্মিত না হওয়ার আশঙ্কায় কেউ কেউ বড় বড় পরিচালকের ছবির প্রস্তাবও ছেড়ে দিচ্ছেন। সমপ্রতি ওই চার নায়িকার এক নায়িকা একজন স্বনামধন্য পরিচালকের দুই ছবির অফার ছেড়ে দিয়েছেন। ইতিপূর্বে ওই পরিচালকের তিনটি ছবিতে তিনি নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং প্রশংসিত হয়েছেন। তারপরও কেন এই অনীহা? পরিচালকের সম্মানার্থে নাম গোপন রাখার শর্তে নায়িকাটি বলেন, আমি জানি উনি সঠিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল ছবি নির্মাণ করতে পারবেন না। শুধু রেড ক্যামেরা দিয়ে শুটিং করলেই সেটা ডিজিটাল ছবি হবে না। এর সঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডাবিং, এডিটিং, ব্যাকগ্রাউন্ড, রিরেকর্ডিং, সাউন্ড, কালার কারেকশনসহ অনেক কিছুর প্রয়োজন পড়বে, যার পুরোটা আমাদের দেশে পরিপূর্ণভাবে নেই। যেতে হবে মুম্বই, চেন্নাই কিংবা ব্যাংকক। আমার মনে হয়েছে যাদের পক্ষে এটা করা সম্ভব হবে না, তাদের ছবিতে অনন্ত আমার কাজ করা ঠিক হবে না। কারণ, দর্শক পয়সা দিয়ে টিকিট কেটে যদি সুন্দর ছবি দেখতে না পারে, তাহলে প্রথম দোষ এবং বদনাম দুটোই শিল্পীর অর্থাৎ আমাদের ঘাড়ে পড়বে। অতএব, আমি শুরু থেকেই এ বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক। এখন যদি কারও মন খারাপ হয়, আমার প্রতি রাগ জন্মায় তাহলে আমার কিছুই করার নেই। আমি স্পষ্ট করেই বলে দিতে চাই, ডিজিটাল সিনেমার নামে ভিডিও ফিল্মে অভিনয় করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এতো গেল এক নায়িকার কথা। বাকি তিন নায়িকার বক্তব্যও একই। সঠিক পদ্ধতিতে ডিজিটাল চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তাব এলে তারা সবাই একবাক্যে কাজ করতে রাজি। অন্যথায় নয়। এদিকে বর্তমানে যে হারে ডিজিটাল চলচ্চিত্র নির্মাণের হিড়িক পড়েছে তাতে করে ছবিগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়েও সন্দিহান অনেকেই। কারণ, ইতিমধ্যেই ডিজিটাল চলচ্চিত্রের নামে ভিডিও ফিল্ম প্রদর্শন করে দর্শকের ক্ষোভের শিকার হয়েছে কয়েকটি ছবি। ক্ষুব্ধ দর্শক প্রেক্ষাগৃহ ভাঙচুরও করেছে। বাংলাদেশে ডিজিটাল পদ্ধতির সিনেমা প্রদর্শনের পথপ্রদর্শক জাজ মাল্টিমিডিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতিতে (টু কে রেজুলেশন) ছাড়া কোন ছবি প্রদর্শনের দায়িত্ব নেবে না। আর বাংলাদেশে প্রথম রেড ক্যামেরা আনা এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে সিনেমা নির্মাণ ও প্রদর্শনে চলচ্চিত্র শিল্পকে অনুপ্রাণিত করা প্রতিষ্ঠান রেইন পিকচার্সের কর্ণধার শাহিন প্রথম থেকেই সম্পূর্ণ ডিজিটালের বাইরে কোন ছবি প্রদর্শনের দায়িত্ব নিচ্ছেন না। আসন্ন ১৫ই ফেব্রুয়ারি ইমপ্রেস টেলিফিল্মের বহুল আলোচিত ছবি চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘দেবদাস’ ৩০টি প্রেক্ষাগৃহে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রদর্শনের দায়িত্ব নিয়েছে রেইন পিকচার্স। অন্যদিকে একই দিনে জাজ মাল্টিমিডিয়া তাদের প্রযোজিত দ্বিতীয় ছবি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে নির্মিত শাহিন-সুমন পরিচালিত ‘অন্য রকম ভালবাসা’ মুক্তি দিচ্ছে প্রায় ৪০টি প্রেক্ষাগৃহে। এতে করে চলচ্চিত্র শিল্পে আশাবাদ লক্ষ্য করা গেলেও চলচ্চিত্র ব্যবসায়ীরা কমপক্ষে ২০০ প্রেক্ষাগৃহ ডিজিটাল করার পক্ষে জোর দিচ্ছেন। এটা না করা পর্যন্ত কোন ডিজিটাল ছবিই ব্যবসায়িক সাফল্য লাভ করতে পারবে না বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। এদিকে অসংখ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু হলেও সেইসব ছবিতে তারকাদের উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সবাই নতুন শিল্পী নিয়ে কাজ করতে চাইছেন। এটা একদিকে যেমন আশার, অন্যদিকে ঝুঁকিরও বলে চলচ্চিত্র বোদ্ধারা আশঙ্কা করছেন। শুধু পদ্ধতিতে পরিবর্তন করলেই হবে না, জমজমাট গল্প আর প্রতিষ্ঠিত তারকাদের সঙ্গে নতুনদের সম্মিলনে ছবি নির্মাণের তাগিদ তাদের। দর্শক প্রেক্ষাগৃহে টেনে নিয়ে আসার জন্য নতুনদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের প্রয়োজনীয়তাকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্যাপকভাবে। নতুনদের এনে সঠিকভাবে প্রচার-প্রচারণার বিষয়টিও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। তা না হলে দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনা কষ্ট হবে। আর এর জন্য প্রতিষ্ঠিত তারকাদের পারিশ্রমিক, শিডিউল এবং সময় জ্ঞানের বিষয়ে গুরুত্ব প্রদানের জন্যও তারা অনুরোধ জানিয়েছেন।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »