বার্তাবাংলা ডেস্ক »

Chittagong unrestস্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম ব্যুরো :: কাদের মোল্লাসহ সব রাজাকারের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম। দ্বিতীয় দিনের মত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বর পরিণত হয় জনতার সমাবেশে। এখনো চলছে সমাবেশ।
সমবেত সব শ্রেণী পেশার মানুষের কণ্ঠে একটাই দাবি ‘রাজাকারের ফাঁসি চাই, মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশে রাজাকারের ঠাঁই নাই।’
চট্টগ্রামের জামালখান এলাকায় প্রেস ক্লাব চত্বরে বিকেল তিনটায় দ্বিতীয় দিনের মত শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ জনতার সমাবেশ। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে জামালখান মোড় থেকে চেরাগি পাহাড় পর্যন্ত এলাকা। বিকেল থেকেই ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুরো এলাকা জুড়ে শুরু হয় জনতার সমাবেশ।
এর আগে সকাল থেকেই প্রেস ক্লাব চত্বর ও আশেপাশের এলাকা ঢেকে যায় ‘সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগ, চট্টগ্রাম’সহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানার ও পোস্টারে। এসব পোস্টারে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসিসহ পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়।
দুপুর গড়াতেই সমবেত হতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ। বিকেল তিনটায় উদীচী ও চারণ শিল্পী গোষ্ঠীর গণ সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশ। ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’, ‘এ লড়াই বাঁচার লড়াই’, ‘বিচারপতি তোমার বিচার করবে এবার এই জনতা’, ‘আমরা করব জয়’সহ নানা প্রতিবাদী গানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বিকেলে জামালখানে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশে কাদের মোল্লার ফাঁসির দাবি জানিয়ে আঁকা হয়েছে আলপনা। পাশেই পাঁচ মাথার রাজাকারের কুশপুত্তলিকা। সেটা লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে তীর। ডান পাশের দেয়ালে চলছে মুক্তিযুদ্ধের স্থির চিত্র প্রদর্শনী।
শ্লোগান হয়ে ওঠে ‘এই রায় মানি না, রাজাকারের ফাঁসি চাই’, ‘জামায়াত-শিবির রাজাকার, এই মুহূর্তে বাংলা ছাড়’, ‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ‘কাদের মোল্লা ফাঁসির রায় জনগণ জানতে চায়’, ‘ক তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’। শ্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সন্ধ্যায় সমাবেশস্থলে দেখা যায়, সব বয়সের মানুষ এসেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষকের সঙ্গে মিছিল নিয়ে এসেছেন শিক্ষার্থীরা। মা কোলে নিয়ে এসেছেন শিশুকে। অফিস ফেরত কর্মজীবী, গৃহিনী, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, মসজিদের ইমাম আর বৌদ্ধ ভিক্ষু সবাই এসেছেন প্রাণের দাবিতে। জনতার দৃপ্ত শপথ ‘রাজাকারের ফাঁসি চাই।’
দেখা গেছে, প্রতিবাদী জনতার নানা কর্মকা-ে মুখর পুরো এলাকা। সড়কে আলপনা আঁকছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। কয়েকজন তরুণ সিরিঞ্জে নিজেদের রক্ত নিয়ে শোলার প্ল্যাকার্ডে লিখছেন ‘কাদের মোল্লার ফাঁসি চাই’। বানানো হয়েছে কাদের মোল্লার প্রতিকৃতি। সেই প্রতিকৃতি লক্ষ্য করে ছোড়া হচ্ছে তীর। চলছে পথ নাটক। ফাঁসির দাবিতে চলছে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ।
সমাবেশে সংহতি জানাতে আসেন শিল্প মন্ত্রী দিলীপ বড়–য়া এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী। এসেছিলেন নগর আওয়ামী লীগ নেতা খোরশেদ আলম, নারী নেত্রী নুরজাহান খান, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি এ কিউ এম সিরাজুল ইসলাম, প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদার, সাংবাদিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, হাসান ফেরদৌস ও নাজিমুদ্দিন শ্যামল, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডের সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন, উদীচীর সুনীল ধর, তরুণ উদ্যোগের রুবেল দাশ প্রিন্স প্রমুখ।
সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী তরুণ উদ্যোগের আহ্বায়ক শরীফ চৌহান বলেন, ‘৭১ সালে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করতে পারিনি। এটাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। তরুণদের এই সংগ্রাম চলবেই। অরাজনৈতিক এই আন্দোলনে সারাদেশের মানুষের প্রাণের দাবি মহামিলন ঘটেছে।’
পুরো জাগরণের অন্যতম সমন্বয়কারী শওকত বাঙালি জানান, শাহবাগের সূত্র ধরে চট্টগ্রামসহ সারাদেশ জেগেছে। তারুণ্যের এই জাগরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধ হবে। রাজাকারদের ফাঁসির দাবির পাশাপাশি উপর্যুক্ত দাবিটি মূখ্য হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, শুক্রবারও  আমাদের আয়োজন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে। এছাড়া শনিবার জামায়াতীদের হরতালের প্রতিবাদে সকাল দশটা থেকে রাত দশটা পর্যন্ত প্রেস ক্লাব চত্বরে কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।
সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদ, বাসদ, ছাত্র ফেডারেশন, খেলাঘর, চট্টগ্রাম অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম, প্রজš§ একাত্তর, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি, পরিবেশ ছাত্র ফোরাম, ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র মৈত্রী, গণসংহতি আন্দোলন, প্রমা, বোধন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান তাজকিয়া, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ। প্রতিবাদী কবিতা আবৃত্তি করেন আবৃত্তিশিল্পী রাশেদ হাসান।
সন্ধ্যা গড়াতেই জ্বলে ওঠে মোমবাতি ও মশাল। অন্য রকম আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। রাত বাড়তেই শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র। সংগ্রামী তারুণ্য মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকেন ৭১ এর মরণপন লড়াইয়ের ইতিহাস। আর শপথ নেন যুদ্ধাপরাধী মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

আমি ফারজানা চৌধুরী তন্বী। লেখালিখি করি ফারজানা তন্বী নামে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করার পর আজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে লেখালিখির সঙ্গেই আছি। বার্তাবাংলা’য় কাজ করছি সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে। আমার বিশেষ আগ্রহের ক্ষেত্র ফিচার, প্রযুক্তি আর লাইফস্টাইল। ভালো লাগে ভ্রমণ, বইপড়া, বাগান করা আর ইন্টারনেট নিয়ে পড়ে থাকা :)

মন্তব্য করুন »