বার্তাবাংলা ডেস্ক »

CIA-sm0620130206061958বার্তাবাংলা ডেস্ক ::গত দু’বছর ধরে সৌদি আরবের গোপন বিমানঘাঁটি থেকে আরব উপদ্বীপের ‘জঙ্গি’দের লক্ষ্য করে মনুষ্যবিহীন ড্রোন হামলা পরিচালনা করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ!

কোনো দেশের সরকারের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ হলেও তা বরাবরই পরিচালনা করে আসছে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রটি।

তবে, নিরাপত্তাজনিত কারণ ও সৌদি সরকার চাপে পড়তে পারে এই আশঙ্কা থেকে এতদিন বিষয়টি সম্পর্কে জানালেও কোনো সংবাদ প্রকাশ করতে দেওয়া হয়নি মার্কিন সংবাদ মাধ্যমকে।

All Media Link

মার্কিন সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্বৃতি দিয়ে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমে দাবি করা হয়, আরব উপদ্বীপের আল কায়েদা- বিশেষ করে ইয়েমেনের জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে এ গোপন বিমানঘাঁটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সংবাদ মাধ্যম জানায়, ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সেনাবাহিনী অংশগ্রহণ করে। এ অঞ্চলে ‘স্থিতিশীলতা’ আসলে ২০০৩ সালে ৫ হাজার সৈন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। বাকি ৫ হাজার সৈন্য রিয়াদের নিরাপত্তাবাহিনীকে ‘প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য’ থেকে যায়।

এরপরের ঘটনাগুলো অস্পষ্ট থেকে যায় বিশ্বের কাছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র জানায়, এই গোপন বিমান ঘাঁটি থেকে আরব উপদ্বীপসহ ইয়েমেন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক প্রভৃতি দেশে ড্রোন হামলা চালায় মার্কিন বিশেষ বাহিনী।

এ ধরনের একটি গোপন অভিযানে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে আরব অঞ্চলের আল কায়েদা প্রধান আনওয়ার আল আওলাকী তার ১৬ বছর বয়সী সন্তানসহ নিহত হন। এছাড়া, এই বিমানঘাঁটি থেকে পরিচালিত ড্রোন হামলায় ইয়েমনের অনেক শীর্ষ জঙ্গি নেতা নিহত হন বলে জানা গেছে।

বিমানঘাঁটির ব্যাপারটি গোপন রাখার ব্যাপারে মার্কিন সরকারের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “এ ব্যাপারটি প্রকাশ হলে সৌদি সরকারের সঙ্গে জঙ্গি দমনের সহযোগিতাপূর্ণ ব্যাহত হত। তাছাড়া এটা জঙ্গিরা জেনে গেলে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে অভিযান হুমকির মুখে পড়ত।”

তবে, নিরাপত্তার কারণে এখন পর্যন্ত সৌদি আরব কিংবা মার্কিন সরকার এই গোপন বিমানঘাঁটির অবস্থান জানায়নি।

সংবাদ মাধ্যম জানায়, এই বিমানঘাঁটি নির্মাণে রিয়াদ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠক করেন ওবামা সরকারের সন্ত্রাসবিরোধী উপদেষ্টা জন ব্রেনান ও সিআইএর রিয়াদ শাখার সাবেক প্রধান (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক)।

কিছু শর্তের ভিত্তিতে ২০০৯ সালে প্রথম এই বিমানঘাঁটি নির্মাণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপর এখান থেকে আওলাকীসহ জঙ্গি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় সিআইএ।

আওলাকীর বিরুদ্ধে সফল অভিযানের পর এখান থেকে নিয়মিতই অভিযান পরিচালনা করে আসছে মার্কিন বিশেষ বাহিনী।

তবে, এতদিন ধরে গোপন থাকলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটি প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় রিয়াদ সরকার চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »