বার্তাবাংলা ডেস্ক »

tunisiaবার্তাবাংলা ডেস্ক ::তিউনিশিয়ায় বিরোধী নেতা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ।গণবিক্ষোভের মধ্যদিয়ে তিউনিশিয়ার প্রেসিডেন্ট উৎখাত হওয়ার দু’বছরের মাথায় নতুন করে এ অস্থিরতা দেখা দিল দেশটিতে।

বিরোধী রাজনীতিবিদ চোকরি বেলাইদ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে তিউনিশিয়া।শহরে শহরে ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ।

রাজধানীতে প্রেসিডেন্টের শান্ত থাকার আহ্বান উপেক্ষা করে সরকার পতনের দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বাইরে জড়ো হয়েছে ৮ হাজার মানুষ।

এছাড়া মাহদিয়া, সৌউসে, মোনাস্তির এবং সিদি বৌজিদসহ অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ।

All Media Link

বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন দলের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষোভকারীরা।রাজধানীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বাইরে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ।

রাজধানী তিউনিসে বেলাইদ বুধবার কাজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বেরোনোর পর ঘাতকের গুলিতে নিহত হন।তিনি ঘাড়ে এবং গলায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানান তার ভাই ও কর্মকর্তারা।

বেলাইদ ছিলেন তিউনিশিয়ার মধ্যপন্থি ইসলামিক-নেতৃত্বাধীন সরকার বিরোধী পপুলার ফ্রন্ট পার্টির নেতৃস্থানীয় ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদ।সরকারের স্পষ্টভাষী একজন সমালোচকও ছিলেন তিনি।

বেলাইদি ৪ টি বুলেট বিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মারা যান বলে রয়টার্সকে জানান পপুলার ফ্রন্ট পার্টির এক নেতা।

এ ঘটনার পরপরই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বাইরের রাস্তায় শুরু হয় বিক্ষোভ।দ্বিতীয় আরেকটি বিপ্লবের দাবিতে স্লোগান দেয় বিক্ষুব্ধরা।

দিনটিকে আজকের তিউনিশিয়ার ইতিহাসে ‘কালোদিবস’ আখ্যা দিয়ে এক বিক্ষোভকারী বলেন, “আজ আমরা ইসলামপন্থিদের সরে যাওয়ার দাবি জানাচ্ছি… যথেষ্ট, যথেষ্ট হয়েছে।আপনারা ক্ষমতায় থাকলে তিউনিশিয়ায় রক্তের বন্যা বইবে।”

উত্তপ্ত এ পরিস্থিতিতে মুহূর্তের মধ্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ-অস্থিরতা।বিভিন্নস্থানে ক্ষমতাসীন এন্নাহদা পার্টির কার্যালয়ে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। মেজ্জুনা শহরে এন্নাহদা পার্টির কার্যালয় ভবন জ্বালিয়ে দেয়া হয়।গাফসা শহরে বিক্ষোভকারীরা পার্টির কার্যালয়ে চড়াও হয়।

রাজধানীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বাইরে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারগ্যাস ছুড়ে পুলিশ।

সিদি বৌজিদ এ বিক্ষোভ সামাল দিতে পুলিশ ফাঁকা গুলি এবং টিয়ারগ্যাস ছুড়েছে।যে শহরটিতে দুবছর আগে প্রেসিডেন্ট জিনে আল-আবেদিনের শাসক্ষমতার বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল।

শহরের এক অধিবাসী রয়টার্সকে বলেন, ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে নেমেছে। রাস্তায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে, পুলিশের দিকে পাথর ছুড়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা। জনগণ ক্ষোভে ফুঁসছে।

বেলাইদ হত্যার জন্য কে বা কারা দায়ী তা এখনো জানা যায়নি।তিউনিশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হামাদি জেবালি এ হত্যাকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা’ এবং দেশের ‘আরব বসন্ত’ বিপ্লবের জন্য একটা বড় ধাক্কা বলে বর্নণা করেছেন।

তিনি বলেন, এ অপরাধমূলক তৎপরতা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।এ হামলা কেবল বেলাইদের বিরুদ্ধে নয় বরং গোটা তিউনিশিয়ার বিরুদ্ধে সংঘটিত হয়েছে।

হত্যাকারীকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের জন্য যথাসম্ভব সবরকম চেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন জেবালি।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »