বার্তাবাংলা ডেস্ক »

 

PM-Parliament+(06.02.13)বার্তাবাংলা ডেস্ক ::ওয়াশিংটন টাইমসে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়ার নিবন্ধের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিএনপি চেয়ারপারসন দেশকে ‘শায়েস্তা’ করতে অন্য দেশকে ডেকে আনছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

গত ২৭ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্রে খালেদা জিয়ার নিবন্ধ নিয়ে বুধবার সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, “আমাদের বিরোধীদলীয় নেতা অন্য দেশকে ডেকে বাংলাদেশকে

শায়েস্তা করতে চাচ্ছেন।

All Media Link

“তিনি এরকম লেখা লিখতে পারেন কি না, তা জনগণই বিচার করবে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “আমার প্রশ্ন, উনি তো প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনি দেশের বিরুদ্ধে, জনগণের বিরুদ্ধে কীভাবে লিখতে পারেন! উনি কি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করেন না?”

বিরোধীদলীয় নেতা নিবন্ধে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তা সচলে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাধীনতার সূচনালগ্নে বাঙালির আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পক্ষের শক্তি বলেও অভিহিত করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো রাশিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরপরই ওই সময় পাকিস্তানের পক্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদপত্রে খালেদা জিয়ার লেখার রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক এই প্রশ্ন রাখেন শেখ হাসিনার কাছে।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “৭১ এ তো আমেরিকা স্বাধীনতার পক্ষেই ছিল না। তারা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পক্ষে ছিল। তারা তো সেভেন্থ ফ্লিট পাঠায়।“বিরোধীদলীয় নেতার কথা আর বলতে চাই না। তিনি আমেরিকাকে জিএসপি সুবিধা বাতিলের কথা বলেছেন!”

“উনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বলেছেন। উনি বাংলাদেশের জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য আমেরিকাকে বলেছেন।”

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সর্বাত্মকভাবে সাহায্য ও সহযোগিতা করেছিল। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী যে কোনো প্রস্তাব এলে তারাই ভেটো দিয়েছে। তারা তো আমাদের বিপদের বন্ধু।”

রাশিয়া থেকে সমরাস্ত্র কেনায় সমালোচনার জবাব কীভাবে দেবেন- আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য রহমত আলীর এই সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “সামরিক সরঞ্জাম কেনা নতুন কিছু নয়। বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন দেশ থেকে অস্ত্র ক্রয় করা হয়েছে।”

এর আগে, রহমত আলীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তার উত্তরে জানান, চলতি বছর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রল্পের কাজ শুরু হচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রূপপুর প্রকল্পের প্রস্ততিমূলক কাজের জন্য যে অর্থায়ন চুক্তি হয়েছে, তার মধ্য দিয়ে প্রকল্পের মূল কর্মকাণ্ডের দিকে এখন দ্রুত এগিয়ে যাওয়া যাবে।

“এ বছরের শেষ নাগাদ প্রস্তুতি কাজ শেষ করা যাবে, যার মধ্য দিয়ে আগামী বছরের প্রথম দিকে প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করা যাবে।”

বেবী মওদুদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থা নিশ্চিত করতে হলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

গবেষণায় গুরুত্ব দিয়ে হাইব্রিড, লবণাক্ততা ও খরাসহিষ্ণু ধান উৎপাদনের পাশাপাশি পরিমিত সার ও সেচের ব্যবহার নিশ্চিতের ওপর জোর দেন সরকার প্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার খাদ্যশস্য উদ্বৃত্ত রেখে গেলেও বিএনপি-জামায়াত সরকার ৩০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি রেখে যায়। বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলা করা গেছে।

কৃষিতে ভর্তুকিকে ‘বিনিয়োগ’ অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আত্মমর্যাদাশীল জাতি হতে হলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।”

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »