বার্তাবাংলা ডেস্ক »

image_1310_326042.gifবার্তাবাংলা ডেস্ক ::দুরন্ত রাজশাহীর ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ হলেন তামিম ইকবাল। ফিল্ডিংয়ের সময় কব্জিতে চোট পাওয়ায় গতকাল সিলেট রয়্যালসের বিপক্ষে ব্যাটিং করতে নামতেই পারেননি বিস্ফোরক এ ওপেনার। কিন্তু তাকে ছাড়াই পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা দলটিকে সহজেই ৫ উইকেটে হারিয়ে দিয়েছে দুরন্ত রাজশাহী। তামিমের অনুপস্থিতিতে নায়ক হয়ে উঠেছিলেন জহুরুল ইসলাম অমি। মুক্তার আলীকে সঙ্গে নিয়ে দুই বল আগে রাজশাহীর পঞ্চম জয় নিশ্চিত করেন তিনি। সে সঙ্গে প্রথম পর্বে হারের বদলাও নিল রাজশাহী।
অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর যেন আমূল বদলে গেছেন জহুরুল। গত তিন ম্যাচে তার ব্যাট থেকে রানের বন্যা বইছে। অধিনায়কের দায়িত্ব ছাড়ার পরের ম্যাচেই চট্টগ্রামে বরিশালের বিপক্ষে ৫৭ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেছিলেন। সেদিন ম্যাচটা ফিনিশিং দিয়ে আসতে পারেননি। গত দুই ম্যাচে কিন্তু সে আক্ষেপ নেই। শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে দলের জয় নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন তিনি। তবে আগের দুই ম্যাচের তুলনায় গতকাল একটু কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করতে নেমেছিলেন জহুরুল। একে তো তামিম নেই, তার ওপর ৫৫ রানের মধ্যে দুই ওপেনার কভেন্ট্রি ও মুনাভিরা এবং তিন নম্বরে যাওয়া অধিনায়ক কাপুগেদারা সাজঘরে। তিনি উইকেটে যাওয়ার পরের ওভারে আরেক বিদেশি শন অরভিনও সোহাগ গাজীর স্পিনে আউট হয়ে। কিন্তু সতীর্থদের আসা-যাওয়ায় মোটেও লক্ষ্যচ্যুত হননি জহুরুল। জিয়ার সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৪৮ রান যোগ করে উইকেট ঝড় ঠেকানোর পাশাপাশি জয়ের ভিতটাও তৈরি করে ফেলেন তিনি। জিয়ার বিদায়ের পর উইকেটে আসেন মুক্তার আলী। ২২ বছর বয়সী এ মিডিয়াম পেসারের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে অবিচ্ছিন্নভাবে ৪৪ রানের জুটি গড়ে দলকে টানা তৃতীয় জয় এনে দেন জহুরুল। তবে দল জিতলেও গতকাল একটা আক্ষেপ থাকে তার। মাত্র এক রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরির মাইলফলকটি স্পর্শ করা হয়নি তার। ৩৭ বলে ২টি চার এবং ২টি ছয়ে ৪৯ রানেই অপরাজিত থাকতে হয় তাকে।
অবশ্য জহুরুলের হাফ সেঞ্চুরি হবেই বা কী করে! মুক্তার আলীর ব্যাট যেভাবে চলছে! শেষ দিকে তো স্ট্রাইকই পাচ্ছিলেন না জহুরুল। যেন পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান হয়ে গেছেন মিডিয়াম পেসার হিসেবে দলে জায়গা পাওয়া মুক্তার। দুরন্ত রাজশাহীর পাঁচ জয়ের তিনটিতেই ফিনিশার তিনি। চিটাগাং কিংসের বিপক্ষে তার ২২ রানেই ৯৯ রান পর্যন্ত পেঁৗছতে পেরেছিল রাজশাহী। এবং ২ রানের রোমাঞ্চকর জয়। এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে বরিশালের বিপক্ষে শেষ ওভারে শফিউলকে জোড়া বাউন্ডারি মেরে জয় নিশ্চিত করেছিলেন মুক্তার। গতকাল তো আরও পরিপক্ক ব্যাট করেছেন এ তরুণ। নবীকে ছয় এবং ন্যানেসকে চার মেরে বল-রানের সমতা আনার পর শেষ ওভারে ছক্কা মেরে রাজকীয় ঢঙ্গে দুরন্ত রাজশাহীর টানা তৃতীয় জয় নিশ্চিত করেন মুক্তার।
সিলেট রয়্যালসের কোনো ব্যাটসম্যানই গতকাল বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। প্রথম ওভারে আইরিশ ওপেনার পল স্টার্লিংয়ের বিদায়ের পর ক্যারিবীয় ওপেনার ডোয়াইন স্মিথ এবং মুশফিক ভালো একটা অবস্থানে পেঁৗছে দিয়েছিলেন দলকে। তাদের ব্যাটিংয়ে পাওয়ার-প্লে ৬ ওভারে ৫৮ রান তুলে নিয়েছিল সিলেট। কিন্তু এ জুটি ভাঙার পরই পথ হারিয়ে ফেলে সিলেটের ব্যাটিং। রাজশাহীর স্পিনারদের দাপটে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেটে হারাতে থাকে তারা। এর মাঝে শেষ দিকে সোহরাওয়ার্দী শুভ ১১ বলের ১৮ রানের ইনিংসে দেড়শ’র কাছাকাছি যায় সিলেট।

ফেসবুকের মাধ্যমে মন্তব্য করুন »

শেয়ার করুন »

লেখক সম্পর্কে »

মন্তব্য করুন »